২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ: অর্থ বিভাগের পরিপত্রের ৪ নম্বর নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বিভিন্ন খাতে ব্যয় সীমিতকরণ, স্থগিতকরণ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশেষ করে ৪ নম্বর নির্দেশনা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
পরিপত্রের ৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বিদ্যুৎ’, ‘পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল)’, ‘গ্যাস ও জ্বালানি’ এবং ‘ভ্রমণ ব্যয়’ খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে। এর অতিরিক্ত ব্যয় করা হলে ভবিষ্যতে কোনো বকেয়া দাবি করা যাবে না।’
এ নির্দেশনার প্রকৃত অর্থ হলো—কোনো দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান যদি সংশ্লিষ্ট খাতে অব্যয়িত অর্থের ৭০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে, তাহলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য চলতি অর্থবছরে ক্রয় বা ভ্রমণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও পরবর্তীকালে সরকারের কাছে বকেয়া বিল বা অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যয় করলে সংশ্লিষ্ট বিল ভবিষ্যতে সমন্বয় বা পরিশোধের দাবি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নির্ধারিত সীমা অর্থাৎ অবশিষ্ট বরাদ্দের ৭০ শতাংশের মধ্যে ব্যয় সম্পন্ন করে, সেক্ষেত্রে অর্থবছর শেষে অনিষ্পন্ন বিল বা বকেয়া পাওনা ভবিষ্যতে বিধি অনুযায়ী দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থবছরের শেষ সময়ে অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় এবং অতিরিক্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি রোধ করা। অনেক সময় বরাদ্দের সীমা অতিক্রম করে বিভিন্ন দপ্তর ক্রয় বা সফর কার্যক্রম পরিচালনা করে পরবর্তী অর্থবছরে বিল পরিশোধের দাবি উত্থাপন করে থাকে। নতুন নির্দেশনার ফলে এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় অধিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ‘ভবিষ্যতে কোনো বকেয়া দাবি করা যাবে না’ সংক্রান্ত বিধানটি শুধুমাত্র পরিপত্রের ৪ নম্বর নির্দেশনায় উল্লিখিত খাতগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরিপত্রের অন্যান্য নির্দেশনার ক্ষেত্রে এ ব্যাখ্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।
অর্থ বিভাগের এই পরিপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের মতো খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



