শতভাগ বোনাসের দাবি উপেক্ষিত : এবারও ৫০% উৎসব ভাতাতেই সীমাবদ্ধ এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতার চেক ছাড় করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এবারও তাদের মূল বেতনের শতভাগ বোনাস নিশ্চিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত মূল বেতনের মাত্র ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজ এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও স্বপ্নভঙ্গের হতাশা দেখা দিয়েছে।
আজ ১৯ মে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (মাদ্রাসা) শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫০% হারে ঈদুল আজহা/২০২৬ খ্রি. বাবদ উৎসব ভাতার ৪টি চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী:
স্মারক নম্বর: ৫৭.২৫.০০০০.০১১.০৬.০০২.২৪-১৬১; তারিখ: ১৮/০৫/২০২৬ খ্রি.।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক: অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড (প্রধান কার্যালয়) এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড (স্থানীয় কার্যালয়)।
উত্তোলনের সময়সীমা: শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি. তারিখের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে এই উৎসব ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
শিক্ষক সমাজের স্বপ্নভঙ্গ ও হতাশা
সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারী এবং বিভিন্ন মোর্চার নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে একটি বড় আশা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে এবার হয়তো সরকারি চাকরিজীবীদের মতো শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের ঘোষণা আসবে। কিন্তু উৎসব ভাতার এই সরকারি আদেশ জারির পর শিক্ষকদের সেই প্রত্যাশায় গুড়েবালি পড়েছে।
বঞ্চনার শিকার সাধারণ শিক্ষকদের একাংশের মতে, বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে মূল বেতনের মাত্র ৫০% বোনাস দিয়ে পরিবারের ঈদের খরচ চালানো অসম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“যারা ভেবেছিলেন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলেই কোনো আন্দোলন ছাড়া শুধু টেবিল টক বা আলোচনার মাধ্যমে সব দাবি-দাওয়া পূরণ হয়ে যাবে, এই প্রজ্ঞাপন মূলত তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা বা স্বপ্নভঙ্গ।”
“বিনা আন্দোলনে কিছুই জুটবে না”
শিক্ষক নেতাদের দাবি, অতীতেও দেখা গেছে তীব্র আন্দোলন ও রাজপথে অবস্থান ছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের কোনো বড় অধিকার আদায় করা সম্ভব হয়নি। ২৫% বা ৫০% উৎসব ভাতার এই পুরোনো বৃত্ত থেকে বের হতে হলে এবং পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ঘরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। রাজপথের জোরালো আন্দোলন ছাড়া কেবল সরকারের সদিচ্ছার ওপর ভরসা করে থাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ঈদের আগে উৎসব ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হলেও শতভাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষক পাড়ায় ঈদের আনন্দের চেয়ে বৈষম্যের ক্ষোভই এখন বেশি দৃশ্যমান।



