৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব: গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর ও শতভাগ পেনশনের দাবি

দেশের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে আগামী জুলাই ২০২৬ থেকেই ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জোরদার হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সরকারি ২০টি গ্রেডের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গ্রেডভিত্তিক ব্যবধান যৌক্তিক পর্যায়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

গ্রেডভিত্তিক ব্যবধান ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের প্রস্তাব

প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, উচ্চতর গ্রেডগুলোর তুলনায় নিম্নতর গ্রেডগুলোর (১১-২০) মূল বেতনের ব্যবধান অত্যন্ত সংকীর্ণ, যা কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় হিমশিম খেতে বাধ্য করছে।

  • ১১ ও ১২ নম্বর গ্রেডের ব্যবধান: বর্তমানে প্রস্তাবিত স্কেলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের মূল বেতন ২৪,৩০০ টাকা, যার ব্যবধান মাত্র ৭০০ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেডের মধ্যে বেতন ব্যবধান কমপক্ষে ২,০০০ টাকা করা উচিত।

  • ১১-২০ তম গ্রেডের ব্যবধান: নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি দিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমপক্ষে ১,০০০ টাকা রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের খসড়া রূপরেখা

নিচে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের বেতন স্কেল তুলে ধরা হলো:

গ্রেডমূল বেতন স্কেল (টাকা)
০১১,৬০,০০০/- (নির্ধারিত)
০২১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০
০৩১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০
০৪১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০
০৫৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০
০৬৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০
০৭৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০
০৮৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০
০৯৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০
১০৩২,০০০ – ৭৭,৩০০
১১২৫,০০০ – ৬০,৫০০
১২২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০
১৩২৪,০০০ – ৫৮,০০০
১৪২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০
১৫২২,৮০০ – ৫৫,২০০
১৬২১,৯০০ – ৫২,৯০০
১৭২১,৪০০ – ৫১,৯০০
১৮২১,০০০ – ৫০,৯০০
১৯২০,৫০০ – ৪৯,৬০০
২০২০,০০০ – ৪৮,৪০০

বিশ্লেষণ: প্রস্তাবিত স্কেল অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) করার কথা বলা হয়েছে। তবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতনের পার্থক্য খুবই কম (যেমন: ২০তম গ্রেডে ২০,০০০ টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ২০,৫০০ টাকা; ব্যবধান মাত্র ৫০০ টাকা)। এই কারণেই প্রতিটি গ্রেডে অন্তত ১,০০০ টাকা ব্যবধান নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও শতভাগ পেনশন পুনর্বহালের দাবি

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পাশাপাশি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আরও তিনটি মৌলিক দাবিকে এই প্রস্তাবনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

১. তিনটি টাইম স্কেল: চাকুরিতে পদোন্নতি না পেলেও নির্দিষ্ট সময় পর যেন কর্মচারীরা উচ্চতর স্কেল পান।

২. সিলেকশন গ্রেড: যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মচারীদের বিশেষ গ্রেড সুবিধা পুনর্বহাল করা।

৩. শতভাগ পেনশন: অবসরোত্তর জীবনে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগের মতো শতভাগ পেনশন সুবিধা বহাল রাখা।

বাজেট ও বাস্তবায়নের সময়সীমা

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে এই পে-স্কেল সময়ের দাবি। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থ-বছরের জাতীয় বাজেটে এই পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ রাখার এবং আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *