অবসরের পর চাকরি, ব্যবসা বা বিদেশ ভ্রমণে আর লাগবে না সরকারি অনুমতি
সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৫২ ধারা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা- সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর কিংবা অবসর-উত্তর ছুটি (Post Retirement Leave-PRL) চলাকালীন সময়ে বৈদেশিক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, কোনো প্রকল্পে কর্মসংস্থান, নতুন পেশা গ্রহণ, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এ সুবিধা চুক্তিভিত্তিক (Contractual) কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর একটি পরিপত্র জারি করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারার বিধান পুনরায় স্পষ্ট করে দেয়। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, আইন কার্যকর থাকা সত্ত্বেও অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা পিআরএল-এ থাকা ব্যক্তিরা বিদেশ ভ্রমণ, বেসরকারি চাকরি গ্রহণ, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির আবেদন করে থাকেন। এতে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ের অপচয় হচ্ছে।
কী বলছে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারা?
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারায় বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ধারা ৪৯ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মরত থাকা ছাড়া কোনো ব্যক্তির বৈদেশিক বা বেসরকারি চাকরি গ্রহণ, কোনো প্রকল্পে চাকরি করা, অন্য কোনো পেশা গ্রহণ, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিদেশ যাত্রার জন্য সরকার বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তবে একই ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রাখা হয়েছে। সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য এসব কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে অথবা অনুমতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে আদেশ দিতে পারে। অর্থাৎ এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ক্ষমতা, যা সাধারণ নিয়ম নয়।
পিআরএল চলাকালেও একই সুবিধা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অবসর গ্রহণের পর অথবা পিআরএল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারার সুবিধা ভোগ করবেন। ফলে এ সময় থেকে তিনি বেসরকারি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, প্রকল্পে কাজ, ব্যবসা পরিচালনা, অন্য পেশা গ্রহণ, বিদেশ ভ্রমণ, এমনকি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ বা পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
কেন জারি করা হয়েছিল পরিপত্র?
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, আইনটি কার্যকর হওয়ার পরও অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী আগের প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুমতির আবেদন করছিলেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে সরকারি দপ্তরগুলোর সময় ও জনবল ব্যয় হচ্ছিল, যদিও আইনের দৃষ্টিতে এসব অনুমতির প্রয়োজন ছিল না। এ বিভ্রান্তি দূর করতেই ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর পরিপত্র জারি করা হয়।
কারা এই সুবিধার বাইরে?
আইনের বিধান অনুযায়ী, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সরকারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ব্যক্তিরা এই সাধারণ ছাড়ের আওতায় পড়বেন না। তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তি, বিধি-বিধান অথবা সরকারের নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মজীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়কে সহজ করেছে। আইন অনুযায়ী, অবসর বা পিআরএল শুরু হওয়ার পর সাধারণভাবে বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে সরকারি অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার পৃথক আদেশ জারি করলে সেই নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।


