BKKB Staff Death Financial Facilities 2025 । সরকারি চাকরিজীবী মৃত্যুতে পরিবারের জন্য বিশাল আর্থিক সুবিধা ও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া কি?
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর! চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মচারীর মৃত্যু হলে তার পরিবারের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের (বিকেকেবি) মাধ্যমে বিদ্যমান আর্থিক সুবিধা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। পেনশন, গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাইরেও এককালীন ও মাসিক অনুদান মিলিয়ে একটি বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি যৌথ বীমা, মাসিক কল্যাণ এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
🌟 মূল আর্থিক সুবিধা একনজরে
সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুতে তার পরিবার যেসকল আর্থিক সুবিধাগুলো পাবেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | অনুদানের নাম | প্রদানকারী সংস্থা | অনুদানের পরিমাণ | মন্তব্য |
| ১ | এককালীন আর্থিক মঞ্জুরী | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় | ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ টাকা) | |
| ২ | যৌথ বীমার এককালীন অনুদান | বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) | ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ টাকা) | ১৯/০৮/২০২৫ তারিখ বা এর পরবর্তী মৃত্যু হলে ৩,০০,০০০/- টাকা |
| ৩ | দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদান | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও কল্যাণ বোর্ড | ৩০,০০০/- + ১০,০০০/- = ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার টাকা) | কল্যাণ বোর্ড হতে ১৯/০৮/২০২৫ তারিখ বা এর পরবর্তী মৃত্যু হলে ৫০,০০০/- টাকা |
| ৪ | মাসিক কল্যাণ ভাতা | কল্যাণ তহবিল (বিকেকেবি) | প্রতিমাসে ২,০০০/- টাকা (১৫ বছর পর্যন্ত) = ৩,৬০,০০০/- টাকা | ১৯/০৮/২০২৫ তারিখ বা এর পরবর্তী মৃত্যু হলে প্রতিমাসে ৩,০০০/- টাকা |
| ৫ | গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার অনুদান | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় | ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ টাকা) | চাকরিরত অবস্থায় স্থায়ী অক্ষম হলে প্রযোজ্য। |
| ৬ | চিকিৎসা অনুদান | কল্যাণ তহবিল (বিকেকেবি) | সাধারণ: সর্বোচ্চ ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার টাকা) জটিল: সর্বোচ্চ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ টাকা) | সাধারণ চিকিৎসা: ১৯/০৮/২০২৫ তারিখ থেকে ৬০,০০০/- টাকা পর্যন্ত। জটিল চিকিৎসা: ১৯/০৮/২০২৫ তারিখ থেকে ৩,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত। |
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা: মৃত কর্মচারীর পরিবারের দাবিকৃত সুবিধার জন্য মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। যথাযথ কারণ ব্যাখ্যাসহ আবেদন ১ বছরের মধ্যে করতে না পারলে তা তামাদি বা বাতিল হয়ে যাবে।
🌐 অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সহজীকরণ
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) এখন কল্যাণ, যৌথবীমা ও দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের আবেদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করেছে। আবেদনকারী ঘরে বসেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও আবেদন করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে হার্ড কপি বোর্ডের দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে।
✅ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া:
আবেদনকারীকে বোর্ডের ওয়েবসাইট www.bkkb.gov.bd-এর অভ্যন্তরীণ ই-সেবাসমূহ থেকে ‘কল্যাণ-যৌথবীমা-দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের অনলাইন সেবা’ লিংকে বা সরাসরি https://welfare.bkkb.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
-
কর্মচারীর ধরন নির্বাচন: আবেদনকারীকে ‘কর্মরত’, ‘অক্ষম/অবসরপ্রাপ্ত/মৃত’ অথবা ‘স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের’ কর্মচারী ক্যাটাগরি থেকে সঠিকটি বেছে নিতে হবে।
-
তথ্য প্রদান: রাজস্বখাতভুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি) প্রদান করতে হয়।
-
OTP ভেরিফিকেশন: রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে মোবাইল নম্বরে একটি ৬-সংখ্যার ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) যাবে, যা দিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হবে।
📤 আবেদন ও নথিপত্র আপলোড:
লগইন করার পর আবেদনকারীকে ছবি ও প্রোফাইল তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এরপর আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
-
মৃত কর্মচারীর ক্ষেত্রে: মৃত্যুর সনদ এবং আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
-
অনুমোদন: দাখিলকৃত তথ্য বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক যাচাই ও অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
এই ডিজিটাল পদ্ধতি সরকারি কর্মচারীদের পরিবারকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
সরাসরি কোন আবেদন গ্রহণ করে না?
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) বর্তমানে কল্যাণ অনুদান, যৌথবীমার এককালীন অনুদান, দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদান এবং চিকিৎসা অনুদানের জন্য সরাসরি কোনো আবেদন গ্রহণ করে না।
এই সেবাগুলো পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইন-ভিত্তিক করা হয়েছে।
🔑 মূল তথ্য
-
অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক: বিকেকেবি-এর সকল অনুদানের জন্য প্রথমে বোর্ডের ওয়েবসাইটে (যেমন:
https://welfare.bkkb.gov.bd/অথবাhttps://eservice.bkkb.gov.bd/general/) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় এবং অনলাইনে আবেদনপত্র দাখিল করতে হয়। -
হার্ড কপি জমা দিতে হয়: অনলাইনে আবেদন দাখিল করার পর, আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি অফিস প্রধানের প্রতিস্বাক্ষর ও সীল সহকারে যুক্ত করে অবশ্যই হার্ড কপি হিসেবে নির্দিষ্ট ঠিকানায় (প্রধান কার্যালয়ের জন্য মহাপরিচালক বা বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে) ডাকযোগে বা সরাসরি জমা দিতে হয়।
সুতরাং, আবেদন শুরু করতে হয় অনলাইনে, তবে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথির হার্ড কপিও কল্যাণ বোর্ডে প্রেরণ করা বাধ্যতামূলক। শুধু হার্ড কপি বা শুধু সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হয় না।



