সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি ২০২৫ । এনসিটিবি’র সব পাঠ্যবই এখন হাতের মুঠোয়!

ডিজিটাল শিক্ষার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল পাঠ্যপুস্তক এখন অনলাইনে সহজলভ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনাকে আরও সহজ এবং আধুনিক করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) তাদের ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সকল স্তরের বই অনলাইনে পিডিএফ আকারে প্রকাশ করেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তক এনসিটিবি’র ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।

🚀 কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?

১. সহজলভ্যতা: যেকোনো স্থান থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা খুব সহজে বইগুলো ডাউনলোড করে নিতে পারছেন। এর ফলে পাঠ্যবই প্রাপ্তির জন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না বা কোনো রকম ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে না। ২. ডিজিটাল পড়াশোনা: যারা স্মার্ট ডিভাইস (ট্যাবলেট, কম্পিউটার, স্মার্টফোন) ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এই পিডিএফগুলো বিশেষ উপযোগী। এটি ডিজিটাল লার্নিং বা ই-লার্নিং-এর পথ প্রশস্ত করছে। ৩. অতিরিক্ত সুবিধা: মূল বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত রেফারেন্স হিসেবেও এই অনলাইন বইগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। যাদের বই হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে, তারা দ্রুত নতুন বইয়ের বিকল্প পাচ্ছেন।

📚 কীভাবে বইগুলো ডাউনলোড করবেন?

  • শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বা শিক্ষকরা সরাসরি এনসিটিবি’র ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘পাঠ্যপুস্তক’ বা ‘Textbooks’ সেকশনে যেতে পারেন।

  • সেখানে শিক্ষাবর্ষ (২০২৫), স্তর (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক বা মাধ্যমিক) এবং শ্রেণি নির্বাচন করে কাঙ্ক্ষিত বইটি ডাউনলোড করা যাবে।

শিক্ষাবিদদের মত: এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর কাঠামোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বইয়ের ডিজিটাল কপি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এই লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে।

অনলাইনে বইয়ের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় আশা করা যায়, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং যেকোনো সময় তাদের পড়াশোনার ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের তালিকা

২০২৬ সালের বইতে পরিবর্তনগুলো কি কি?

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে, বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে। এই পরিবর্তনগুলো প্রধানত শিক্ষাক্রম, প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বণ্টনের সাথে সম্পর্কিত।

২০২৬ সালে মূলত একটি পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০১২ সালের সৃজনশীল শিক্ষাক্রম এবং ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে তৈরি করা হবে।

নিচে প্রধান প্রধান পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হলো:

১. 📚 শিক্ষাক্রমের ধরন ও বিভাগ বিভাজন (মাধ্যমিক স্তর)

  • বিভাগ পুনর্বহাল: ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণিতে যে বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) তুলে দেওয়া হয়েছিল, তা ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আবারও পুনর্বহাল করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আগের মতো নবম শ্রেণি থেকে তাদের পছন্দের বিভাগ বেছে নিতে পারবে।

  • কারিকুলামের ভিত্তি: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি ২০২৬ সালের জন্য ২০১২ সালের সৃজনশীল কারিকুলামকে সামান্য সংশোধন ও পরিমার্জন করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

২. 📝 এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর জন্য প্রশ্নের কাঠামো ও নম্বর বণ্টন পরিবর্তন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বণ্টনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:

বিষয় পুরাতন নিয়ম (২০২৫ এর পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস) নতুন পরিবর্তন (২০২৬ সালের জন্য)
বাংলা দ্বিতীয় পত্র রচনামূলক অংশে অনুবাদ প্রশ্ন ছিল। অনুবাদ অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুবাদের জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর এখন সংবাদ প্রতিবেদন লেখার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ছিল। বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) ছিল ১৫ নম্বরের। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে। বহুনির্বাচনী প্রশ্নে মোট নম্বর ২৫ করা হয়েছে (১৫ + অতিরিক্ত ১০)।
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। মোট ১৫টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে (ফিন্যান্স থেকে ৮টি, ব্যাংকিং থেকে ৭টি)। শিক্ষার্থীদের ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে (প্রতিটি অংশ থেকে ন্যূনতম ৪টি করে উত্তর দিতে হবে)।

৩. 📅 বই বিতরণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন

  • ডিজিটাল চালান নিষ্পত্তি: বই বিতরণের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চালান নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বই সরবরাহ এবং প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের সময় কমে আসবে।

  • বই বিতরণ সময়: এনসিটিবি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বই অক্টোবরের মধ্যে এবং মাধ্যমিকের বই নভেম্বরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যাতে বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থী বই হাতে পায়।

এই পরিবর্তনগুলো প্রধানত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য, যারা ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *