Govt. Allocation Rules Amendment 2025 । বিশেষ পরিস্থিতিতে যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর সরকারি আবাসন বরাদ্দ দিতে পারবে?
সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সংক্রান্ত বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’ (Bangladesh Allocation Rules, 1982) সংশোধন করেছে সরকার। নতুন এই সংশোধনীর ফলে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার বর্তমান পদের প্রাপ্যতার চেয়ে উচ্চতর বা বড় আয়তনের আবাসন বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৮ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং ৪৭৮-আইন/২০২৫) জারি করা হয়েছে, যা সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘Fundamental Rules’ এর rule 45 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘Bangladesh Allocation Rules, 1982’ এর বিধি-৪ এ সংশোধন এনেছে। সংশোধনীর মাধ্যমে বিধি-৪ এর বিদ্যমান বিধানকে উপ-বিধি (১) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এরপর নতুন একটি উপ-বিধি (২) সংযোজন করা হয়েছে।
নতুন সংযোজিত উপ-বিধি (২)-এ উল্লেখ করা হয়েছে: “Notwithstanding anything contained in sub-rule (1), if the Government considers it essential in special circumstances, a Government servant may be allotted an accommodation higher than his entitlement.”
অর্থাৎ, বিদ্যমান বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, সরকার যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে অপরিহার্য মনে করে, তবে কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার প্রাপ্যতার চেয়ে উচ্চতর শ্রেণির বা বড় আয়তনের সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দিতে পারবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংশোধনী অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনীর ফলে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল। তবে কোন কোন ক্ষেত্রকে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ হিসেবে গণ্য করা হবে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

Bangladesh Allocation Rules, 1982’ এর বিধি-৪ এ সংশোধন এনেছে
‘Bangladesh Allocation Rules, 1982’ এর বিধি-৪ এ মূলত সরকারি আবাসনের শ্রেণিবিন্যাস এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্যতা বা অধিকার (Classification and entitlement) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।
এই বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ভিত্তিতে আবাসনের শ্রেণি ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধি-৪ এর মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
আবাসনের শ্রেণি ও প্রাপ্যতা: কর্মচারীদের বেতন স্কেল অনুযায়ী বিভিন্ন টাইপের (যেমন: A, B, C, D, E, F এবং Superior) বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয় ।
বেতন ভিত্তিক বিভাজন: ১৯৮২ সালের মূল বিধিমালা অনুযায়ী নিচের শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করা হয়েছিল:
‘A’ টাইপ: যাদের মূল বেতন ২৫০-৩৬০ টাকা বা তার নিচে (তৎকালীন স্কেল অনুযায়ী) ।
‘B’ টাইপ: ২৭৫ থেকে ৪৬৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘C’ টাইপ: ৪৭০ থেকে ৭৪৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘D’ (Old) টাইপ: ৭৫০ থেকে ১১৪৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘D’ (New) টাইপ: ১১৫০ থেকে ১৮৪৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘E’ টাইপ: ১৮৫০ থেকে ২৩৪৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘F’ টাইপ: ২৩৫০ থেকে ২৫৪৯ টাকা বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
‘Superior’ টাইপ: ২৫৫০ টাকা বা তার বেশি বেতন প্রাপ্ত কর্মচারী ।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বেতন স্কেল পরিবর্তনের সাথে সাথে সরকারের নির্দেশনায় এই প্রাপ্যতা ও বেতন সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে । এছাড়া, সম্প্রতি বিশেষ সংশোধনী (২০২৫) অনুযায়ী সরকার চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়ার বিধান যুক্ত করেছে।



