শিক্ষক সমাজের দীর্ঘ ত্যাগের প্রাথমিক বিজয় ২০২৫ । এমপিওভূক্তদের ৭.৫% প্রাপ্তি ও পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেলের পথে যাত্রা?
দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ এবং প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুফলের দেখা পেলেন দেশের শিক্ষক-কর্মচারী সমাজ। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অর্জিত হয়েছে ন্যায্য অধিকারের প্রথম ধাপ। আপাতদৃষ্টিতে ৭.৫% প্রাপ্তি ছোট মনে হলেও, এটি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্যমতে, এই অর্জনের বাস্তবায়ন হবে দুটি প্রধান ধাপে:
প্রথম ধাপ: আপাতত মূল বেতনের ৭.৫% সুবিধা কার্যকর হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপ: অবশিষ্ট অংশ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়িত হবে, তখন সকল শিক্ষক ও কর্মচারী এই সুফলের শতভাগ ভোগ করতে পারবেন। বর্তমানের এই ৭.৫% সেই বৃহত্তর প্রাপ্তিরই সূচনা।
নেতৃত্ব ও সাধারণ শিক্ষকদের ত্যাগ
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও কৌশলগত নেতৃত্ব। বিশেষ করে শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজি স্যারের নাম কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছে সাধারণ শিক্ষক সমাজ। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং দিকনির্দেশনা এই আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল।
তবে এই বিজয় কেবল নেতৃত্বের একার নয়। এর পেছনে রয়েছে দেশের প্রায় ৯০% শিক্ষকের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ত্যাগ। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথের আন্দোলন এবং নানা প্রতিকূলতার মুখেও তারা পিছু হটেননি।
প্রতিক্রিয়া: সাধারণ শিক্ষকদের মতে, “নিন্দুকদের সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচারণাকে উপেক্ষা করে সচেতন শিক্ষক সমাজ তাদের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ছিল। এই ৭.৫% প্রাপ্তি প্রমাণ করে যে, প্রতিটি ত্যাগের পেছনেই সুফল থাকে।”
আগামীর প্রত্যাশা
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সমালোচকদের কথায় কান না দিয়ে তারা তাদের লক্ষ্য পূরণে কাজ করে গেছেন। ২০২৬ সালের মধ্যে বাকি অংশ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সচেতন অবস্থান বজায় থাকবে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের এই বিজয় প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং সঠিক নেতৃত্ব থাকলে যেকোনো দাবি আদায় সম্ভব। আপাতত ৭.৫% এর সুফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও, ১ জুলাই ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।




