9th Pay Scale Chart 2026 । নবম বেতনে স্কেলের ধাপ ও সিঁড়ি নির্ণয়ের তালিকা (নতুন)
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল (National Pay Scale 2026) অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান (Ratio) কমিয়ে এনে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিচে ৯ম পে স্কেলের মূল বেতন কাঠামো, ধাপ এবং বাস্তবায়নের কৌশল তুলে ধরা হলো:
১. ৯ম পে স্কেলের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন: ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০,০০০ টাকা (যা আগে ছিল ৮,২৫০ টাকা) এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫৬,০০০ টাকা (যা আগে ছিল ৭৮,০০০ টাকা)।
বেতনের অনুপাত: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের ব্যবধান কমিয়ে বর্তমান ১:১.৯৪৫ থেকে ১:১.৭৮ এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিশেষ সুবিধা ও ভাতা:
সরকারি কর্মচারীদের সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে (আগে যা শুধু ৫ম গ্রেড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল)।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য প্রতি সন্তানের বিপরীতে মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে।
২. ৯ম পে স্কেলের মূল বেতনের তালিকা (গ্রেডভিত্তিক একনজরে)
| গ্রেড | নতুন মূল বেতন সীমা (টাকা) | পূর্বের স্কেল (২০১৫) |
| গ্রেড-০১ | ১,৫৬,০০০ (নির্ধারিত) | ৭৮,০০০ (নির্ধারিত) |
| গ্রেড-০২ | ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ (আনুমানিক) | ৬৬,০০০ – ৭৪,৪০০ |
| গ্রেড-০৩ | ১১৩,০০ থেকে শুরু | ৫৬,৫০–৭৭,৪০০ |
| গ্রেড-০৪ | ৫০,০০০ থেকে উন্নীত কাঠামো | ৫০,০০০–৭১,২০০ |
| গ্রেড-০৫ | সংশোধিত উচ্চতর ধাপ | ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ |
| গ্রেড-০৬ | সংশোধিত উচ্চতর ধাপ | ৩৫,৫০–৬৭,০১০ |
| গ্রেড-০৭ | ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ (প্রস্তাবিত) | ২৯,০০০–৬৩,৪১০ |
| গ্রেড-০৮ | ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ (প্রস্তাবিত) | ২৩,০০০–৫৫,৪৭০ |
| গ্রেড-০৯ | ৪৫,১০0 – ১,০৮,৮০০ (প্রস্তাবিত) | ২২,০০০–৫৩,০৬০ |
| গ্রেড-১০ | ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ (প্রস্তাবিত) | ১৬,০০০–৩৮,৬৪০০ |
| গ্রেড-১১ থেকে ২০ | সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা (২০তম গ্রেড) থেকে শুরু | ৮,২৫০ – ১২,৫০০ (শুরু) |
৩. ধাপ ও সিঁড়ি (Increment) এবং বাস্তবায়নের কৌশল
নতুন পে-স্কেলে প্রতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা দক্ষতার সিঁড়ির নিয়ম আগের মতো প্রতিটি গ্রেডের নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী বজায় থাকবে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেট ভারসাম্য এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এই পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে চারটি ধাপে (বা কিস্তিতে) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার:
১ম ধাপ (১ম কিস্তি): ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে।
২য় ধাপ (২য় কিস্তি): আগামী বছরের (২০২৭) শুরুতে মূল বেতনের আরও ৩৫ শতাংশ যোগ হবে।
৩য় ধাপ (৩য় কিস্তি): পরবর্তী অর্থবছরের (২০২৭-২৮) জুলাই মাসে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ যুক্ত হবে।
৪র্থ ধাপ (৪র্থ কিস্তি): একই অর্থবছরের (২০২৭-২৮) জানুয়ারি মাসে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাগুলো নতুন হারে পুরোপুরি কার্যকর হবে।
নোট: অর্থ বিভাগ থেকে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন ও গেজেট প্রকাশ করা হবে, যেখানে প্রতিটি গ্রেডের সুনির্দিষ্ট ইনক্রিমেন্ট বা ধাপভিত্তিক সিঁড়ির তালিকা বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।




