পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং ছুটির নগদায়ন ২০২৫ । ১০ বছর চাকরি করে মারা গেলে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা কি কি?
সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পুনঃনির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে । ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর জারি করা এই আদেশের ফলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং ছুটির নগদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে ।
নিচে প্রজ্ঞাপনের প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
পেনশনের হার ও সময়সীমা বৃদ্ধি
সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা হয়েছে । এছাড়া পেনশনযোগ্য চাকরিকাল আগে সর্বনিম্ন ১০ বছর থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে । তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে পেনশন সুবিধা কেবল মৃত্যু, শারীরিক/মানসিক অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে ।
পুনঃনির্ধারিত পেনশন টেবিল (নমুনা):
৫ বছর চাকরির জন্য: ২১%
১০ বছর চাকরির জন্য: ৩৬%
২০ বছর চাকরির জন্য: ৭২%
২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরির জন্য: ৯০%
সর্বনিম্ন পেনশন ও মাসিক বৃদ্ধি
২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে সকল অবসরভোগীর জন্য সর্বনিম্ন মাসিক পেনশন ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে । এছাড়া বয়সভেদে পেনশনের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে:
৬৫ বছরের কম: ৪০% বৃদ্ধি
৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব: ৫০% বৃদ্ধি
গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিকের হার
৫ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের চাকরির জন্য প্রতি ১ টাকার বিপরীতে আনুতোষিকের হার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে । ২০ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য এই হার ২৩০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে । এছাড়া চাকরির ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে পরিবারকে শেষ আহরিত ৩টি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে ।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
ছুটি নগদায়ন: অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে নগদায়নের সুবিধা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে ।
বিধবা ও বিপত্নীকদের পেনশন: ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবাদের ক্ষেত্রে পুনঃবিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা দাখিলের শর্ত শিথিল করা হয়েছে । অন্যদিকে, মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও (পুনঃবিবাহ না করলে) সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন পাবেন ।
এই আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং ওই সময়ে পিআরএল (PRL) ভোগরত কর্মচারীরাও এই সুবিধাগুলো পাবেন ।

পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং ছুটির নগদায়ন ২০২৫
১০ বছর চাকরি করে মারা গেলে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা কি কি?
একজন সরকারি কর্মচারী ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পরিবার যেসব আর্থিক নিরাপত্তা ও সুবিধাদি পাবেন তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. মাসিক পেনশন ও হার
১০ বছর চাকরি করার পর মৃত্যুবরণ করলে পরিবার পুনঃনির্ধারিত হারে মাসিক পেনশন সুবিধা পাবে।
পেনশনের হার: ১০ বছর চাকরির ক্ষেত্রে পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৩৬% ।
সর্বনিম্ন পেনশন: মাসিক পেনশনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, পরিবার প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা পেনশন পাবেন ।
বয়সভিত্তিক বৃদ্ধি: পেনশনারের (পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে উত্তরসূরী) বয়স ৬৫ বছরের কম হলে মাসিক পেনশন ৪০% বৃদ্ধি পাবে এবং বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে ৫০% বৃদ্ধি পাবে ।
২. আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) সুবিধা
১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম সময়ের চাকরির জন্য পরিবার সংশোধিত হারে আনুতোষিক প্রাপ্য হবেন।
হার: এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সমর্পিত প্রতি ১ টাকার বিপরীতে ২৬০ টাকা হারে আনুতোষিক প্রদান করা হবে ।
৩. ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন
অবসরকালে (এক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণে চাকরি অবসান) পাওনা ছুটি সাপেক্ষে পরিবার সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাবেন।
৪. পারিবারিক পেনশনের বিশেষ শর্তাবলী
বিধবা স্ত্রীর জন্য: মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন 8। ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে পুনঃবিবাহ না করার প্রত্যয়ন পত্র দাখিলের শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
বিপত্নীক স্বামীর জন্য: মৃত মহিলা কর্মচারীর স্বামী (যদি পুনরায় বিবাহ না করেন) সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত বিধবা স্ত্রীর অনুরূপ হারে পেনশন পাবেন ।
সারসংক্ষেপ টেবিল: ১০ বছর চাকরিকালীন মৃত্যুতে প্রাপ্ত সুবিধা
| সুবিধার ধরণ | পরিমাণ/হার |
| মাসিক পেনশন | সর্বশেষ মূল বেতনের ৩৬% (সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা) |
| আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) | প্রতি ১ টাকার বিপরীতে ২৬০ টাকা |
| ছুটি নগদায়ন | ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ |



