সরকারি কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে: জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নতুন পে-স্কেলের যৌক্তিকতা
দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এখন আকাশচুম্বী। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামোর কোনো সামঞ্জস্য নেই। এমন এক কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় সরকারি কর্মচারী সমিতি দ্রুত ও ন্যায্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৯ম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়ার প্রেক্ষাপটে এই দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও বেতনের ব্যবধান
সমিতির মিডিয়া সেলের মুখপাত্র আশিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু বেতন বাড়েনি সেই অনুপাতে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীদের পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা এখন প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন মাত্র ৮,২৫০ টাকা, যেখানে বর্তমান বাজার দরে একটি পরিবারের মাসিক খরচ ন্যূনতম ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
নতুন পে-স্কেল কেন সময়ের দাবি? (তথ্যাদি বিশ্লেষণ)
বাংলাদেশ তৃতীয় সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে পে-স্কেলের পক্ষে ছয়টি প্রধান যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে:
১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভারসাম্য: বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করা। ২. ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্য মুক্তি: একই দায়িত্ব পালন করেও মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় যে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করা। ৩. কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি: আর্থিক দুশ্চিন্তা কর্মচারীদের কাজের মনোযোগ কমিয়ে দেয়। সম্মানজনক বেতন কর্মস্পৃহা ও নিষ্ঠা বাড়াতে সহায়ক। ৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ: ন্যায্য বেতন কাঠামো থাকলে কর্মচারীদের অনৈতিক পথে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে। ৫. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা: সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যা বর্তমান বেতনে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৬. সেবার মান উন্নয়ন: একজন সন্তুষ্ট ও অভাবমুক্ত কর্মচারীই নাগরিককে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রস্তাবিত কাঠামো
গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১৪২% বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মুদ্রাস্ফীতির বর্তমান হার বিবেচনায় দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানাচ্ছেন।
উপসংহার
আশিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, পে-স্কেল কোনো দয়া বা অনুদান নয়—এটি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে অনতিবিলম্বে একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায়ভিত্তিক বেতন কাঠামো ঘোষণা করা এখন জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।


