পিআরএল নিয়ে সরকারি নির্দেশনা: পেনশনযোগ্য চাকরি ও আর্থিক সুবিধার স্পষ্টীকরণ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) সংক্রান্ত বিভিন্ন অস্পষ্টতা দূর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, পিআরএল এবং পেনশনের হিসাবায়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
১. পিআরএল কি পেনশনযোগ্য চাকরি?
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, আগে প্রচলিত ‘অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি’ (LPR)-কে বর্তমানে ‘অবসর-উত্তর ছুটি’ (PRL)-এ রূপান্তর করা হয়েছে। এই রূপান্তরের ফলে পিআরএল কালীন সময়কে পেনশনযোগ্য চাকরি হিসেবে গণনা করা হবে না। অর্থাৎ, একজন কর্মীর পেনশন ও গ্রাচুইটি (আনুতোষিক) হিসাব করা হবে তার পিআরএল শুরুর আগের দিন পর্যন্ত অর্জিত চাকরিকালের ভিত্তিতে।
২. পিআরএল কালে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা
পিআরএল কালকে পেনশনযোগ্য চাকরি না ধরা হলেও, এ সময়ে আর্থিক সুবিধার কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী:
এলপিআর থাকাকালীন একজন কর্মচারী যেসব আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, পিআরএল কালেও সেই একই সুবিধা বহাল থাকবে।
পিআরএল চলাকালীন কর্মী তার সর্বশেষ মূল বেতনের সমান হারে ছুটি নগদায়ন বা মাসিক বেতন (ছুটি পাওনা সাপেক্ষে) পাবেন।
উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য প্রচলিত ভাতাদিও বিধি মোতাবেক প্রাপ্য হবেন।
৩. অবসরের তারিখ ও চূড়ান্ত অবসরের মধ্যে পার্থক্য
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদাহরণ অনুযায়ী, অবসরের তারিখ নির্ধারণে তিনটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ:
অবসর গ্রহণের তারিখ: যদি কোনো কর্মচারীর জন্ম তারিখ ০১ জানুয়ারি হয়, তবে তার ৫৯ বছর পূর্ণ হবে ৩১ ডিসেম্বর। ওই দিন অপরাহ্নেই তিনি ‘অবসরে গমন’ করবেন।
পিআরএল শুরুর তারিখ: অবসর গ্রহণের ঠিক পরের দিন থেকে (অর্থাৎ ০১ জানুয়ারি থেকে) ছুটি পাওনা সাপেক্ষে পিআরএল শুরু হবে।
চূড়ান্ত অবসর (Final Retirement): পিআরএল ১২ মাস হলে পরবর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর তা শেষ হবে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত অবসরের তারিখ হবে তার পরের দিন (অর্থাৎ ০১ জানুয়ারি)। তবে কেউ যদি পিআরএল ভোগ না করেন, তবে ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনটিই তার চূড়ান্ত অবসরের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
ছুটি নগদায়ন: পিআরএল ভোগ না করে এককালীন ১৮ মাসের (অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে) ল্যাম্বসাম গ্রান্ট বা ছুটি নগদায়নের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
চাকরি থেকে অব্যাহতি: পিআরএল শেষ হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য হন না এবং তার চূড়ান্ত পেনশন কার্যক্রম শুরু হয়।

পিআরএল এবং এলপিআর এর মধ্যে পার্থক্য কি?
সরকারি চাকরিতে অবসরের ক্ষেত্রে এলপিআর (LPR) এবং পিআরএল (PRL) এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো অবসরের সময়কাল এবং চাকরির আইনি মর্যাদা। সহজ কথায়, একটি হলো অবসরের আগে নেওয়া ছুটি, আর অন্যটি হলো অবসরের পরের সুবিধা।
নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | এলপিআর (LPR) | পিআরএল (PRL) |
| পূর্ণরূপ | Leave Preparatory to Retirement (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি)। | Post Retirement Leave (অবসর-উত্তর ছুটি)। |
| অবস্থান | এটি চাকরি জীবন শেষ হওয়ার ঠিক আগে ভোগ করা হতো। | এটি চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার পরদিন থেকে শুরু হয়। |
| চাকরির মর্যাদা | এলপিআর চলাকালীন কর্মী আইনিভাবে চাকরিতে বহাল থাকতেন। | পিআরএল চলাকালীন কর্মী আইনিভাবে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হন। |
| পেনশনযোগ্য চাকরিকাল | এলপিআর কালকে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হতো। | পিআরএল কালকে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হয় না। |
| অন্য চাকরিতে যোগদান | এই সময়ে অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ ছিল না। | পিআরএল চলাকালীন কর্মী চাইলে অন্য যেকোনো বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসা করতে পারেন। |
| চাকরিতে ফেরা | এলপিআর শেষ হওয়ার আগে চাইলে চাকরিতে ফেরার বা পুনর্বহালের সুযোগ ছিল। | পিআরএল শুরু হয়ে গেলে আর চাকরিতে ফেরার কোনো আইনি সুযোগ নেই। |
| বর্তমান স্থিতি | এটি বর্তমানে বাতিল/অপ্রচলিত। | ২০১৫ সালের পর থেকে এটিই বর্তমানে কার্যকর ও প্রচলিত। |
মূল পার্থক্যটি কেন করা হয়েছে?
আগে এলপিআর চলাকালীন কর্মীরা টেকনিক্যালি চাকরিতে থাকতেন বলে সরকার চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারত বা তারা চাইলেই ইস্তফা দিয়ে চাকরিতে ফিরতে পারতেন। কিন্তু পিআরএল ব্যবস্থায় ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনই কর্মী অবসরে চলে যান, ফলে তার পেনশন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয় এবং তিনি তার অর্জিত ছুটিগুলো অবসরের পর সুবিধা হিসেবে ভোগ করেন।



