৬ ফেব্রুয়ারি মহাসমাবেশ ও যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার ডাক: ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি স্থগিত
বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনেছেন। জোটের সাম্প্রতিক এক জরুরি বৈঠকে আগামী ৫ জানুয়ারির জেলা পর্যায়ের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তে, ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারীদের ঘোষিত মহাসমাবেশে পূর্ণ সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’।
কর্মসূচি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত জোটের এক নীতিনির্ধারণী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ এবং যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। বৃহত্তর স্বার্থে এবং অভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা ওই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জোটের প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
-
মানববন্ধন স্থগিত: পূর্বঘোষিত ৫ জানুয়ারির জেলাভিত্তিক মানববন্ধন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত।
-
মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ: ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য সরকারি কর্মচারীদের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
-
যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা: মহাসমাবেশ শেষে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতেও জোটের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এক বিবৃতিতে জানান, এই সরকারের মেয়াদের মধ্যেই পে স্কেলের ঘোষণা এবং শিক্ষা জাতীয়করণের প্রাথমিক ধাপগুলো নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন:
“সরকারি কর্মচারী নেতৃবৃন্দের আহবানে এবং আন্দোলনের সংহতি রক্ষার্থে আমরা ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি পরিবর্তন করেছি। ৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওইদিন সারা দেশ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় সমবেত হয়ে আমাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবেন।”
প্রস্তুতির নির্দেশনা
জোটের পক্ষ থেকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের এখন থেকেই ৬ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশ সফল করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, সকল সরকারি ও এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দাবি আদায়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।


