আসুন জেনে নিই সূত্রের মাধ্যমে কিভাবে অর্জিত ছুটির হিসাব বের করতে হয়।

সরকারি কর্মচারীগণ নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ ছাড়াও বছরে ৩৩ দিন পূর্ন গড় বেতনে এবং ৩০ দিন অর্ধ গড় বেতনে ছুটি ভোগ করে থাকে। এ ছুটি ভোগ করার পর অবশিষ্ট ছুটি অবসর গ্রহণের সময় ১৮ মাস পর্যন্ত বিক্রি বা নগদায়ন করে থাকেন। সাধারণত আমরা নির্ধারিত ছকের মাধ্যমে ছুটির হিসাব বের করি কিন্তু আজ আমরা সূত্রের মাধ্যমে অর্জিত ছুটি হিসাব কিভাবে করে তা বের করবো।

ধরি, জনাব জামাল হোসেন, উচ্চমান সহকারী তার যোগদান ও অবসর সংক্রান্ত তথ্যাদি নিম্নরূপ:

  • তিনি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২৯/১২/১৯৮৩ তারিখে।
  • গত ০১/০৯/১৯৯৪ হতে ৫ মাস অধ্যয়ন ছুটি ভোগ করেন।
  • গত ০৭/০৭/২০০০ হতে ১৫ দিন গড় বেতনের ছুটি ভোগ করেন।
  • গত ১৫/০৯/২০০২ হতে ৬ মাস গড় বেতনে ছুটি ভোগ করে এবং ০৩ মাস অর্ধগড় বেতনে ছুটি ভোগ করেন।
  • গত ২১/১২/২০০৮ অবসর গ্রহণ করেন।

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ আমরা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী জনাব জামাল হোসেনের হিসাবে মোট গড় বেতনে অর্জিত ছুটি ও অর্ধ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি বের করবো।

প্রথমে আমাদের বুঝে নেয়া দরকার, চাকরি কাল কি? এবং কর্মকাল কি? ছুটি সাধারণ কর্মকালের ভিত্তিতে বের করার হয়।

চাকরি কাল হচ্ছে তিনি ছুটি সহ যদি দিন কাজে নিযুক্ত ছিলেন এখানে অসাধারণ ছুটি বাদ দিতে হয়। অন্য দিকে বিভিন্ন ছুটি ব্যতিত যত দিন কর্মে নিযুক্ত ছিল তাই কর্মকাল এক্ষেত্রে নৈমিত্তিক ছুটি যুক্ত থাকে কারণ আমরা জানি যে, নৈমিত্তিক ছুটি কোন ছুটিই না। আরও উল্লেখ্য যে, ছুটি হিসার করতে সাপ্তাহিক এবং সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

প্রথমেই আমরা চাকরিকাল বের করবো: ৩১/১২/২০০৮- ২৯/১২/১৯৮৩ (অবসরের তারিখ-যোগদানের তারিখ) +১ দিন

আমরা চাকরি কাল পেলাম:  ২৫ বছর ০ মাস ৩ দিন।

মোট কার্যকাল বের করার সূত্র = চাকরিকাল -ভোগকৃত ছুটি

এখন, ভোগকৃত ছুটিগুলো যোগ করে হিসাব করি:  (৫মাস+১৫দিন+৬মাস+৩মাস) = ১ বছর ২ মাস ১৫ দিন ছুটি ভোগ করেন। এখানে গড় বেতনে, অর্ধ গড় বেতনেসহ সকল ছুটি অর্ন্তভূক্ত হবে।

তাহলে সূত্র মোতাবেক: ২৫ বছর ০ মাস ৩ দিন-১ বছর ২ মাস ১৫ দিন। (কার্যকাল = চাকরিকাল-ভোগকৃত ছুটিকাল )

পেয়ে গেলাম কর্মকাল: ২৩ বছর ৯ মাস ১৮ দিন মাত্র।

আসুন বছর মাস কে দিনে রূপান্তর করে ফেলি: ২৩*৩৬০+৯*১২+১৮  = ৮৫৬৮ দিন (ব্যাখ্যা: ১২*৩০ = ৩৬০ দিনে এক বছর বা ৩৬৫ দিনে এক বছর দুটোই সঠিক)

ক) গড় বেতনে জমাকৃত অর্জিত ছুটি পরিমাণ: ৮৫৬৮ দিন/১১ দিন (প্রতি এগার দিনে একদিন গড় বেতনে ছুটি জমা হয়) = ৭৭৯ দিন।

উক্ত ৭৭৯ দিনের ছুটিকে ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করলে আসবে ২ বছর ০১ মাস ১৯ দিন।

খ) অর্ধ- গড় বেতনে জমাকৃত অর্জিত ছুটি পরিমাণ: ৮৫৬৮ দিন/১২ দিন (প্রতি বার দিনে একদিন অর্ধ গড় বেতনে ছুটি জমা হয়) = ৭১৪ দিন।

উক্ত ৭১৪ দিনের ছুটিকে ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করলে আসবে ১ বছর ১১ মাস ১৯ দিন।

এখন মোট জমাকৃত ছুটি হতে গড় বেতনে ছুটি গড় বেতনে ছুটি হতে বাদ দিতে হবে এবং অর্ধ গড় বেতনে ছুটি হতে অর্ধ গড় বেতনে ছুটি বাদ যাবে। (উল্লেখ্য যে অধ্যয়ন ছুটি ও মাতৃত্বকালিন ছুটি ছুটির হিসাব হতে বাদ যায় না)

  • নীট গড় বেতনে অর্জিত ছুটি: ০২ বছর ০১ মাস ১৯ দিন – ৬ মাস ১৫ দিন। তাহলে অবশিষ্ট থাকবে = ১ বছর ০৭ মাস ৪ দিন।
  • নীট অর্ধ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি: ০১ বছর ১১ মাস ১৯ দিন – ৩ মাস ০ দিন। তাহলে অবশিষ্ট থাকবে = ১ বছর ০৮ মাস ১৯ দিন। উল্লেখ্য যে, 

অর্ধ গড় বেতনে ছুটির হিসাব ৪ মাসের অধিক জমা হবে না। কারণ সাধারণ অর্ধ গড় বেতনে ৪ মাসের অধিক ছুটি কাটানো যায় না। যদিও চিকিৎসা জণিত কারিণে ৬ মাস পর্যন্ত কাটানো যায়।

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.