অবসরজনিত পেনশন নির্ণয়।

কোন কর্মচারীর মোট চাকরিকাল ২৫ বৎসর পূর্ণ হইলে গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারার (১) উপ ধারার অধীনে উক্ত কর্মচারী ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক চাকরি হইতে অবসর গ্রহণ করিতে পারেন।

অপরদিকে সরকারও ৯ ধারার (২) উপ-ধারার অধীনে যে কোন কর্মচারীকে ২৫ বৎসর চাকরি পূর্তিতে জনস্বার্থে কোনরূপ কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে চাকরি হইতে অবসর দিতে পারে। এই উভয় প্রকার অবসরের ক্ষেত্রে অবসরজনিত পেনশন প্রাপ্য।

উদাহরণ: একজন কর্মচারী ০৫/০১/১৯৯১ খৃ: তারিখে চাকরিতে যোগদান করেন এবং ০৪/০১/২০১৬ খৃ: তারিখে চাকরির ২৫ বৎসর পূর্তিতে ০৫/০১/২০১৬ খৃ: তারিখ হইতে সে গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪ এর ৯ ধারার (১) উপ-ধারার অধীনে ইচ্ছাধীন অবসরগ্রহণ করেন অথবা উক্ত আইনের অধীনে ধারা ৯ এর (২) উপ-ধারার অধীনে সরকার জনস্বার্থে তাহাকে অবসর দান করে। চাকরি জীবনে সে ১ বৎসর অসাধারণ ছুটি, ৬ মাস অর্জিত ছুটি, ১ বৎসর অধ্যায়ন ছুটিতে ৬ মাস মাতৃত্বজণিত ছুটি ভোগ করে। অবসরগ্রহণকালে মূল বেতন ছিল ৫৪৭৭০/- টাকা।

এই ক্ষেত্রে তাঁহার মোট চাকরিকাল (০৫/০১/২০১৪-০৫/০১/১৯৯১) = ২৫ বৎসর। উক্ত চাকরিকাল হইতে অসাধারণ ছুটির সময় বাদ দিলে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হইবে (২৫বৎসর-১ বৎসর) = ২৪ বৎসর। এই ২৪ বৎসর চাকরির জন্য মোট পেনশন হইবে (৫৪৭৭০ এর ৮৭%) = ৪৭,৬৪৯.৯০/- টাকা। এই ক্ষেত্রে টাকার ভগ্নাংশ ৫০ পয়সা অধিক হওয়ায় মোট পেনশন হইবে ৪৭,৬৫০/- টাকা। মোট পেনশনের ৫০% বাধ্যতামূলক সমর্পনপূর্বক আনুতোষিক প্রাপ্য হইবেন সমর্পনকৃত প্রতি টাকার জন্য ২৩০/- টাকা হারে (২৩৮২৫*২৩০) = ৫৪,৭৯,৭৫০/- টাকা। অবশিষ্ট ৫০% অর্থাৎ ২৩,৮২৫/- টাকা মাসিক পেনশন প্রাপ্য হইবে।

প্রশ্নোত্তর পর্ব:

  • প্রশ্ন: ভগ্নাংশ ৫০ পয়সার উপরে হলে পূর্ণ টাকা ধরা যাবে?
  • উত্তর: হ্যাঁ। ৫০ পয়সার উপরে হলে ১ টাকা ধরা যাবে।

  • প্রশ্ন: অসাধারণ ছুটি বাদ দিলে চাকরিকাল ২৪ বছর হলে কি পেনশনের যাওয়া যাবে?
  • উত্তর: না। তবে জনস্বার্থে পেনশন ঘোষণা হলে যাওয়া যাবে। তবে হার হবে ২৪ বৎসরের টেবিল অনুসারে।
Avatar

admin

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভালবাসি চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান জানতে ও অন্যকে জানাতে। আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন alaminmia.tangail@gmail.com ঠিকানায়। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য।