উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায় বিধিমালা, ২০১৯

এস.আর.ও নং ১৮৭ আইন/২০১৯/৪৪-মূসক।-মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ১৩৫, ধারা ৪৯ ও ১২৭ (খ) এর সহিত পঠিতব্য, এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, উৎসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায় বা কর্তনের লক্ষ্যে নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিল, যথ:-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।-(১) এই বিধিমালা উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায় বিধিমালা, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা ১৭ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০১ জুলাই, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা।-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায়-

(ক) “আইন” অর্থ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন);

(খ) “উৎসে কর্তনকারী সত্তা” অর্থ কোনো মন্ত্রণালয়,বিভাগ বা দপ্তর, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত কোনো সংস্থা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পরিষদ বা অনুরূপ কোনো সংস্থা, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোনো ব্যাংক, বীমা কোম্পানি বা অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো মাধ্যমিক বা তর্দুধ্ব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোনো লিমিটেড কোম্পানি এবং ১ (এক) কোটি টাকার অধিক টার্ণওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে;

(গ) “পণ” অর্থ আইনের ধারা ২ এর দফা (৫৯) এর সংজ্ঞায়িত পণ;

(ঘ) “বিধিমালা” অর্থ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬;

(ঙ) “বোর্ড” অর্থ আইনের ধারা ২ এর দফা (৭৩) এর সংজ্ঞায়িত বোর্ড।

৩। যে সব ক্ষেত্রে মূসক কর্তন করিতে হইবে।-(১) উৎসে কর্তনকারী সত্তা ব্যতীত সকল নিবন্ধিত সরবরাহকারী কর্তৃক টেন্ডার, চুক্তি বা কার্যাদেশ অধীন ১০ (দশ) হাজার টাকার উর্ধ্বে অব্যাহতি প্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট নহে এইরূপ পন্য বা সেবা সরবরাহ করিলে উৎসে কর্তৃনকারী সত্তা উক্ত সরবরাহকারীর নিকট পরিশোধযোগ্য পণ হইতে নিম্নরূপে মূসক উৎসে কর্তন করিবে, যথা-

(ক) সরবরাহকারী ১৫ (পনেরো) শতাংশ হারে মূসক আরোপিত রহিয়াছে এমণ কোনো পণ্য বা সেবা ফরম মূসক -৬.৩ কর চালানপত্রের মাধ্যমে সরবরাহ করিলে উৎসে কর্তনকারী সত্তা পরিশোধযোগ্য পন হইতে ১৫ (পনের) শতাংশ মূসকের এক তৃতীয়াংশ উৎসে কর্তন করিবে;

(খ) সরবরাহকারী হ্রাসকৃতহারে মূসক বা সুনির্দিষ্ট করা আরোপিত হ রহিয়াছে এমন পন্য বা সেবা ফরম মূসক ৬.৩ কর চালানপত্রের মাধ্যমে সরবরাহ করিলে উৎসে কর্তনকারী সত্তা পরিশোধযোগ্য পন হইতে সমুদয় মূসক বা সুনির্দিষ্ট কর উৎসে কর্তন করিবে।

(২) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার বাহির হইতে বাংলাদেশে কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যাহারা বিল পরিশোধের সাথে সম্পৃক্ত থাকিবে, এমন প্রতিষ্ঠান) প্রযোজ্য হারে সমূদয় মূসক উৎসে কর্তন করিবে।

 

৪। যেই সব ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করিতে হইবে না। -জ্বালানী তেল, গ্যাস, পানি (ওয়াসা), বিদ্যুৎ, টেলিফোন, মোবাইল ফোন পরিসেবার বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করিতে হইবে না।

৭। সুদ, দন্ড ইত্যাদি।-(১) উৎসে কর কর্তন এবং সরকারি কোষোগারে জমা প্রদানের জন্য উৎসে কর কর্তনকারী স্বত্তা এবং সরবরাহকারী যৌথ ও পৃথক ভাবে দায়ী থাকিবে। উৎসে কর্তনের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও মূসক কর্তন না হইলে উক্ত অর্থ ষান্মাসিক ২% সুদসহ তাহার নিকট হইতে এমনভাবে আদায়যোগ্য হইবে, যেন তিনি পন্য বা সেবা সরবরাহকারী। উৎসে কর্তন করিবার পর সরকারি কোষাগারে যথাসময়ে জমা প্রদান করা না হইলে আইনের ধারা ৮৫ এর উপ-ধারা (১ক) মোতাবেক উৎসে কর্তনকারী ব্যীক্তকে সংশ্লিষ্ট কমিশনার অনধিক ২৫,০০০ (পচিঁশ হাজার) টাকা মাত্র ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন। উৎসে মূসক কর্তন ও জমাদানে ব্যর্থতার জন্য পন/সেবা সরবরাহকারী এবং গ্রহণকারী উভয়য়ে সমানভাবে দায়ী হইবেন।

 

বিস্তারিত জানতে উৎসে মূল্য সংযোজন কর আদায় বিধিমালা, ২০১৯ PDF ফাইল সংগ্রহে রাখাতে পারেন: ডাউনলোড

 

আরও দেখুন:

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।