সরকারি কর্মচারী চাকরি অবস্থায় মারা গেলে পরিবার কিছু আর্থিক সুবিধাদি পায়- ২০২৪ সালে এসেও সরকার পুন:নির্ধারিত ২০১৫ সালের পরিপত্র মোতাবেক সুবিধা প্রাপ্য হয় – পেনশন সুবিধাদি প্রাপ্যতা ২০২৪

সরকারি কর্মচারী নমিনি করে না গেলে?– নমিনি করে না গেলে পারিবারিক পেনশন, আনুতোষিক , জিপিএফ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লক্ষ টাকার অনুদান ও যৌথবীমার টাকা স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সমান হারে পাবেন। বাবা,মা, ভাই ও বোন পাবেন না।তবে পুত্র ও কন্যার ব্যয় নির্বাহের জন্য তাদের ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে স্ত্রীর নামে এগুলো মন্জুর করতে হবে।

কোন আইন অনুসারে পেনশন বন্টন করা হয়? অবসরগ্রহণকারী সরকারি কর্মচারী ও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাহাদের পরিবারবর্গের অবসরজনিত সুবিধাদি সঠিক সময়ে প্রাপ্তি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ কর্তৃক ২৭-০১-২০০৯ খ্রিঃ তারিখের অম/অবি/প্রবি-১/৩পি২/২০০৫(অংশ-১)/5 নং স্মারকে জারীকৃত “বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পেনশন মঞ্জুরি ও পরিশােধ সংক্রান্ত বিধি/পদ্ধতি অধিকতর সহজীকরণ আদেশ, ২০০৯” নিম্নরূপ আদেশ দ্বারা প্রতিস্থাপন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে যাহা “সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০” নামে অভিহিত হইবে।

১৫ বছর চাকরি হলে কি অর্ধেক পেনশন পাওয়া যাবে? হ্যাঁ। তা পাওয়া যাবে। কারও চাকরিকাল ১৫ বছর অতিক্রম করলে মূল বেতনের ৫৪% বের করে সে হারে আনুতোষিক ও মাসিক পেনশন নির্ণয় করা হবে। যেমন – জামালের মূল বেতন যদি ১৬০০০ টাকা হয় তবে ১৫ বছর পর মারা গেলে ১৬০০০*৫৪% = ৮৬৪০ টাকার অর্ধেক ৪৩২০ টাকা মাসিক পেনশন পাবেন এবং সাথে ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, এছাড়াও প্রতি বছর ২টি উৎসব ভাতা ও একটি বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। গ্র্যাচুইটি বা এককালিন পাবেন ৪৩২০*২৪৫ = ১০৫৮৪০০ টাকা। এছাড়াও জিপিএফ, মৃত্যুজনিত সুযোগ সুবিধা সকল কিছুই প্রাপ্য হইবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন নীতিমালা । মৃত ব্যক্তির পেনশন কে পাবে

অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১২ (বার) মাসের ছুটি নগদায়নের বিধান পরিবর্তন করে ১৮ (আঠার) মাসের ছুটি নগদায়ন অর্থাৎ ১৮ (আঠার) মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রাপ্য হবেন। অবসর উত্তর ছুটি (PRL ) এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে ০২ (দুই) দিনের অর্ধ গড় বেতনের ছুটিকে ০১ (এক) দিনের গড় বেতনে ছুটি রূপান্তর (Conversion) করা যাবে। অবসরকালীন মূলবেতনের ভিত্তিতে নগদায়ন সুবিধা অবসর উত্তর ছুটির শুরুতে প্রাপ্য। অবসর উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

Caption: বিস্তারিত দেখুন

পেনশন যোগ্য পরিবারের সদস্যগণ । স্ত্রী সন্তান না থাকলে যারা পেনশন পায়

  • পারিবারিক পেনশনের উদ্দেশ্যে পরিবার বলিতে বুঝাইবে,
  • (ক) পুরুষ কর্মচারীর ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণ।
  • (খ) মহিলা কর্মচারীর ক্ষেত্রে স্বামী।
  • (গ) সরকারী কর্মচারীর সন্তান।
  • (ঘ) সরকারী কর্মচারীর মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীগণ এবং সন্তানগণ।
  • উল্লেখ্য সরকারী কর্মচারীর পরিবারের সংজ্ঞায় কর্মচারীর নিম্নোক্ত আত্মীয়বর্গও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
  • (ক) পিতা।
  • (খ) মাতা।
  • (গ) ১৮ বৎসরের কম বয়স্ক ভাই।
  • (ঘ) অবিবাহিতা এবং বিধবা বোন।

পেনশন প্রাপ্যতার আইনগুলো কিকি?

পুরুষ কর্মচারীর ক্ষেত্রে স্ত্রী/স্ত্রীগণ এবং মহিলা কর্মচারীর ক্ষেত্রে স্বামী। তবে কর্মচারীর একাধিক স্ত্রী থাকার ক্ষেত্রে ২৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক পুনত্র ও বিবাহিতা কন্যাগণ অন্যান্য বাদে সন্তান এবং স্ত্রী মিলে মোট সদস্য সংখ্যা যদি ৪ (চার) এর অধিক না হয়, তাহা হইলে ২৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক পুত্র ও বিবাহিতা কণ্যাগণ বাদে অন্য সদস্যগণের মধ্যে পেনশন সমহারে বন্টিত হইবে। কিন্তু তাঁহাদের মিলিত সংখ্যা ৪ (চার) এর অধিক হইলে স্ত্রীগণ প্রত্যেকে ১/৪ অংশ হিসাবে পাওয়ার পর অবশিষ্ট থাকিলে, অবশিষ্টাংশ সন্তানদের মধ্যে (২৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক পুত্র এবং বিবাহিতা কন্যাগণ বাদে) সমহারে বন্টন করিতে হইবে।

(২) স্বামী/স্ত্রী না থাকার ক্ষেত্রে জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র সন্তান।

(৩) স্বামী/স্ত্রী এবং জীবিত পুত্র সন্তান না থাকার ক্ষেত্রে অবিবাহিত বয়োজ্যেষ্ঠ কন্যা। উল্লেখ্য বয়োজ্যেষ্ঠ অবিবাহিত কন্যার মৃত্যু বা বিবাহ হওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী বয়োজ্যেষ্ঠ অবিবাহিত কন্যা;

(৪) স্বামী/স্ত্রী, জীবিত পুত্র সন্তান এবং অবিবাহিত কন্যা না থাকার ক্ষেত্রে জীবিত বয়োজ্যেষ্ঠ বিধবা কন্যা।

(৫) স্বামী/স্ত্রী, জীবিত পুত্র সন্তান, অবিবাহিত কন্যা এবং বিধবা কন্যা না থাকার ক্ষেত্রে মৃত পুত্রের জ্যেষ্ঠা বিধবা স্ত্রী।

(৬) স্বামী/স্ত্রী, জীবিত পুত্র সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা কন্যা এবং মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী না থাকার ক্ষেত্রে মৃত পুত্রের জ্যেষ্ঠ পুত্র সন্তান;

(৭) স্বামী/স্ত্রী, জীবিত পুত্র সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা কন্যা, মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী এবং মৃত পুত্রের পুত্র সন্তান না থাকার ক্ষেত্রে মৃত পুত্রের অবিবাহিত বয়োজ্যেষ্ঠ কন্যা;

(৮) স্বামী/স্ত্রী, জীবিত পুত্র সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা কন্যা, মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী, মৃত পুত্রের পুত্র সন্তান এবং মৃত পুত্রের অবিবাহিত কন্যা না থাকার ক্ষেত্রে মৃত পুত্রের বয়োজ্যেষ্ঠ বিধবা কন্যা।

ব্যাখ্যা: পেনশন সহজীকরণ নীতিমালার ৩.০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী সন্তানগণ আজীবন পেনশন প্রাপ্য বিধায় প্রতিবন্ধী সন্তানের বয়স ২৫ বৎসরের উর্ধ্বে হইলেও পেনশন প্রাপ্য হইবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3003 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *