বাংলাদেশসহ ৫টি দেশের পে-স্কেলের তুলনামূলক আলোচনা।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনেকেরই জানতে আগ্রহ রয়েছে। আমাদের দেশের পে স্কেলে বেতন গ্রেড সংখ্যা ২০টি। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তাদের বেতন স্কেল গ্রেড ও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের পরিমাণ কত? আজ আমি তুলে ধরবো অন্য পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে আমাদের দেশের পে স্কেলের কি পার্থক্য রয়েছে সেগুলো।

জাতীয় পে স্কেল কি?

জাতীয় পে স্কেল হচ্ছে কোন দেশের সরকারী কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত নীতিমালা।

বাংলাদেশের পে-স্কেল ও  অন্যান্য দেশের পে-স্কেলের সাথে তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো। সাথে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করার চেষ্ট করা হলো।

গ্রেড সংখ্যা:

  • বাংলাদেশের পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-২০ টি।
  • পাকিস্তানের পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-২২ টি।
  • ভারতের পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-১৮ টি।
  • যুক্তরাষ্ট্রের পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-১৫ টি।
  • ফিলিপাইনের পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-৩৩ টি।
  • কেনিয়ার পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা-১৮ টি।

এখান থেকে ধারণা নিতে পারি আমাদের দেশের পে স্কেল কতটা আন্তর্জাতিক মানের। 

সর্বনিম্ন মূল বেতন: নিজ নিজ দেশের মুদ্রায়

  • বাংলাদেশের পে স্কেল ২০১৫ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে- ৮,২৫০ টাকা ।
  • পাকিস্তানের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে- ৯,১৩০ রুপি।
  • ভারতের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে- ১৮,০০০ রুপি।
  • যুক্তরাষ্ট্রের পে স্কেল ২০১৯ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে- ১৮,৭৮৫ ডলার।
  • ফিলিপাইনের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে – ১০,৫১০ পেসো।
  • কেনিয়ার পে স্কেল ২০১৯ তে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে- ১১,৫৫৩ শিলিং। 

সর্বোচ্চ মূল বেতন: নিজ নিজ দেশের মুদ্রায়

  • বাংলাদেশের পে স্কেল ২০১৫ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ৭৮,০০০ টাকা ।
  • পাকিস্তানের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ৮৫,৭০০ রুপি।
  • ভারতের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ২,৫০,০০০ রুপি।
  • যুক্তরাষ্ট্রের পে স্কেল ২০১৯ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ১,০৫,১২৩ ডলার।
  • ফিলিপাইনের পে স্কেল ২০১৮ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ২,৮৯,৪০১ পেসো।
  • কেনিয়ার পে স্কেল ২০১৯ তে সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে- ২,৯২,৭৬৫ শিলিং। 

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন দেখে আপত মনে হচ্ছে বাংলাদেশের পে স্কেল ঠিকই আছে বোধ হয়। ভুলটা আমরা এখানেই করি।

বাংলাদেশের পে স্কেলে মধ্যে এবং অন্যান্য দেশের পে স্কেলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে কোথায় সেটা বুঝাতে পারলে অবাক হয়ে যাবেন। 

বাংলাদেশের বাংলাদেশের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১-১০তম গ্রেডে প্রতি ধাপে পার্থক্য রাখা হয়েছে গড়ে ২০% সেখানে ১১-২০ তম গ্রেডে পার্থক্য রাখা হয়েছে গড়ে ৪% । যা কোন কোন দেশে রাখা হয়নি। আপনি রিসার্চ করলে দেখতে পাবেন যে এটি একটি বড় ফারাক। বাংলাদেশ সরকার যদি ১১-২০ তম গ্রেডে ২০% বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও ধরিয়ে দেয় তবুও এই বৈষম্য দূর হবে না।

শতাংশে দেখলে বুঝা যায় বৈষম্যটা:

কর্মকর্তাদের জন্য ১২৫০০ থেকে ৭৮ হাজার পর্যন্ত শুধুমাত্র মূল বেতনে ১০তম -১ম গ্রেডে প্রতি ধাপে প্রায় ২০.৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল বেতনে ২০.০৪% বেতন প্রতি প্রমোশন এ বৃদ্ধি পায়। গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি ২০% এর অধিক হওয়ায় বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট বা যে কোন প্রকার ফিক্সেশনের তাদের আর্থিক সুবিধা বেশি হয়ে থাকে ফলে তারা প্রমোশনে অনুপ্রাণিত হন।

কর্মচারীদের জন্য ৮২৫০ থেকে ১২০০০ হাজার পর্যন্ত শুধুমাত্র মূল বেতনে ১১তম -২০তম গ্রেডে প্রতি ধাপে প্রায় গড়ে ৪.২৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল বেতনে ৪.২৮% বেতন প্রতি প্রমোশন এ বৃদ্ধি পায়। গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি ৪.২৮% এর অধিক হওয়ায় বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট বা যে কোন প্রকার ফিক্সেশনের তাদের আর্থিক সুবিধা খুবই নগন্য ফলে তারা প্রমোশনে অনুপ্রাণিত হন না বরং বদলিজনিত বিরম্বনায় পড়ে।

আপনি চাইলে একটি তথ্য চিত্র দেখে নিতে পারেন: ডাউনলোড

আপনি চাইলে নিচের লিংক গুলোতে ক্লিক করে প্রতিটি পে স্কেল যাচাই করে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ ধর্য্য ধরে পড়ার জন্য।

Avatar

admin

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভালবাসি চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান জানতে ও অন্যকে জানাতে। আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন alaminmia.tangail@gmail.com ঠিকানায়। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.