ট্রেজারী রুলস-এর সাবসিডিয়ারী রুল-২৩ অনুযায়ী ট্রেজারী হইতে বকেয়া দাবী পরিশােধ করিতে নিম্নে বর্ণিত বিধানাবলী অনুসরণ করিতে হইবে। যথা(১) সরকারের পক্ষে অর্থ গ্রহণ করেন এমন প্রত্যেক সরকারী কর্মকর্তাকে ক্যাশবহি সংরক্ষণ করিতে হইবে। 

(২) সকল আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হইবার সাথে সাথে ক্যাশবহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং হিসাবভুক্তির প্রমাণ হিসাবে অফিস প্রধান কর্তৃক সত্যায়িত হইতে হইবে।

ক্যাশ বইয়ে জের টানা

(৩) ক্যাশবহি লিখন প্রতিদিন সমাপ্ত করিয়া জের টানিতে হইবে এবং সকল ভুক্তি পরীক্ষা করিতে হইবে। অফিস প্রধান নিজে ক্যাশবহির যােগফল প্রতিপাদন করিবেন বা ক্যাশ বহি লেখার কাজে নিয়ােজিত নহেন এমন কোন দায়িত্বশীল অধস্তন কর্মচারী দ্বারা এই কাজ করাইয়া লইবেন এবং সবকিছু সঠিক পাইয়া তিনি অনুস্বাক্ষর করিবেন।

(৪) প্রত্যেক মাসের শেষে অফিস প্রধান নগদ স্থিতি প্রতিপাদন করিয়া স্বাক্ষর ও তারিখসহ প্রত্যায়ন লিপিবদ্ধ করিবেন। মাসিক ক্যাশ একাউন্ট, প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত হিসাব বা চলতি হিসাব সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসার বরাবর দাখিল করিতে হয়। তাহা হইলে উহাতেও প্রত্যায়ন লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। উক্ত প্রত্যয়ন অবশ্যই অফিস প্রধান কর্তৃক তারিখসহ স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(৫) কোন সরকারী কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা সরকারী অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর জমাদানকারী অফিস প্রধান তাহা সত্যায়নের পূর্বে চালানে বা তাহার পাশবহিতে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত রশিদ ক্যাশ বইয়ের ভুক্তির সহিত মিলাইয়া দেখিবেন এবং এই মর্মে সন্তুষ্ট হইবেন যে, নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকে জমা করা হইয়াছে। এইরূপ জমা প্রদান উল্লেখযােগ্য অংকের হইলে তিনি মাস শেষ হইবার পর দ্রম্নত ঐ মাসে প্রেরিত সকল অর্থের একত্রে একটি রশিদ ব্যাংক হইতে সংগ্রহ করিবেন এবং ক্যাশ বইয়ের ভুক্তির সহিত মিলাইয়া দেখিবেন।

ক্যাশ বইয়ে ঘষামাজা হলে

(৬) ক্যাশ বইয়ের কোন ভুক্তিতে ঘষামাজা বা উপরি-লিখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কোন ভুল ধরা পড়ে, তাহা হইলে ঐ ভুল ভুক্তি কলম দ্বারা কাটিয়া দুই লাইনে মাঝখানে শুদ্ধ ভুক্তি লালকালিতে সন্নিবেশ করিতে হইবে। অফিস প্রধান প্রতিটি সংশােধন অবশ্যই তারিখসহ অনুস্বাক্ষর করিবেন।

(৭) সরকারী অর্থ লেনদেন করেন, এইরূপ সরকারী কর্মকর্তাকে অফিস প্রধানের বিশেষ মঞ্জুরী ছাড়া তাহার দাপ্তরিক ক্ষমতায় সরকারের নহে এমন অর্থ লেনদেনের অনুমতি প্রদান করা যাইবে না। বিশেস মঞ্জুরী বলে যখন একজন সরকারী কর্মকর্তা তাহার দাপ্তরিক ক্ষমতায় সরকারী এবং বেসরকারী উভয় অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তখন সরকারী অর্থ বেসরকারী অর্থ হইতে পৃথকভাবে একটি ক্যাশ বাক্সে রাখিতে হইবে এবং বেসরকারী অর্থের লেনদেন পৃথক বহিতে হিসাবভুক্ত করিয়া সম্পূর্ণরূপে সরকারী হিসাবের বাহিরে রাখিতে হইবে।

(৮) টাকা আনা-নেওয়ার কাজে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে নিয়ােগ করিবার বিষয়টি নিরুৎসাহিত করিতে হইবে। একান্ত প্রয়ােজনে নিয়ােগ করিতে হইলে যাহার/যাহাদের চাকুরীকাল কিছুটা দীর্ঘ এবং বিশ্বাসযােগ্যতা প্রমাণিত তাহাদের নির্বাচন করিতে হইবে। যে অর্থ আদান-প্রদান করা হইবে তাহা উল্লেখযােগ্য অংকের হইলে এবং স্থানীয় পরিস্থিতি অথবা বহনকৃত অর্থের অংকের কারণে যদি অতিরিক্ত পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত হয় তাহা হইলে অফিস প্রধান ইচ্ছা করিলে অধিক সংখ্যক চতুর্থ শ্রেণী অথবা একজন সশস্ত্র পুলিশ অর্থ বহনকারীর সহিত মােতায়েন করিতে পারেন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3023 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *