মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদকরণ।

সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত, যথা: (১) কৌশলগত পর্যায়; (২) প্রাক্কলন পর্যায়; এবং (৩) বাজেট অনুমােদন পর্যায়। কৌশলগত পর্যায়ের প্রথম ধাপে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান বাজেট কাঠামাে হালনাগাদ করতে হয়। এ পরিপত্রে বিবৃত প্রক্রিয়া/পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বাজেট কাঠামাে সংশােধন/হালনাগাদ করে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করবে। পরবর্তীতে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আলােচনাক্রমে বাজেট কাঠামাে চূড়ান্ত করবে।।

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ বাজেট অনুবিভাগ-১

বাজেট পরিপত্র-১

১২ পৌষ ১৪২৮

নং-০৭.১০১.০২০.০০.০০.০১০.২০২০-২১৯ তারিখঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

বিষয়: মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদকরণ।

সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের কৌশলগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত, যথা: (১) কৌশলগত পর্যায়; (২) প্রাক্কলন পর্যায়; এবং (৩) বাজেট অনুমােদন পর্যায়। কৌশলগত পর্যায়ের প্রথম ধাপে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান বাজেট কাঠামাে হালনাগাদ করতে হয়। এ পরিপত্রে বিবৃত প্রক্রিয়া/পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বাজেট কাঠামাে সংশােধন/হালনাগাদ করে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করবে। পরবর্তীতে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আলােচনাক্রমে বাজেট কাঠামাে চূড়ান্ত করবে।।

২. মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট কাঠামাে Ministry Budget Framework (MBF) সংশােধন বা হালনাগাদকরণের উদ্দেশ্য: মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের বাজেট কাঠামাে সংশােধন/হালনাগাদ করার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে: (১) সরকারের মৌলিক নীতি নির্ধারণী দলিলসমূহে প্রতিফলিত কৌশলগত নীতি ও অগ্রাধিকারের সাথে বাজেট বরাদ্দের যােগসূত্র স্থাপন করা; (২) মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থাসমূহের কর্মকৃতির সাথে বাজেট বরাদ্দের যােগসূত্র অধিকতর শক্তিশালী করা; এবং (৩) মধ্যমেয়াদে প্রাপ্য সম্পদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ব্যয় পরিকল্পনা প্রস্তুত করা।

৩. রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা: রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রাজস্ব আহরণের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা। প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হচ্ছে মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ মধ্যমেয়াদে কী পরিমাণ সম্পদ পেতে পারে সে সম্পর্কে আগাম ধারণা প্রদান করা এবং প্রদত্ত ব্যয়সীমার মধ্যে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় সম্বলিত একটি সমন্বিত বাজেট কাঠামাে প্রস্তুত করা। মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা (Preliminary Revenue and Receipt Target) সংযােজনী-১ (ক) এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা (Preliminary Indicative Expenditure Ceiling) সংযােজনী-১ (খ) এ প্রদর্শন করা হল। এছাড়াও মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সম্ভাব্য বৈদেশিক সহায়তার প্রাক্কলন/প্রক্ষেপণ সংযােজনী-১ (গ) এ প্রদর্শন করা হল, যা প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়নকালে উক্ত বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ হ্রাস পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ব্যয়সীমা সে পরিমাণ কমে যাবে। তবে বৈদেশিক সহায়তা বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ব্যয়সীমা সে পরিমাণ বেড়ে যাবে।

৪. বাজেট কাঠামাের (MBF) গঠন: মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট কাঠামাে দু’টি প্রধান ভাগে (Parts) এবং ৬টি অংশে (Sections) বিভক্ত। প্রথম ভাগ (Part-A) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিতীয় ভাগ (Part-B) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর/ অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থা প্রস্তুত করবে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট কাঠামাের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে অন্তর্ভুক্ত অংশসমূহ এবং ফরমসমূহ নীচের সারণিতে সংক্ষেপে দেখানাে হল:

বাজেট কাঠামো

মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন বা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ছক (Format) এবং পদ্ধতি/নির্দেশনা সংযােজনী-২ এ প্রদর্শন করা হলাে। উল্লেখ্য, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন বা হালনাগাদ করার জন্য নির্ধারিত টেম্পলেট (Template) এবং বিভিন্ন ফর্ম ব্যবহার করতে হবে যা অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট (www.mof.gov.bd) অথবা Financial System Management Unit (FSMU)-এ (কক্ষ নং-২০১, ভবন নং-১১, ২য় তলা, বাংলাদেশ সচিবালয়) পাওয়া যাবে।

আরাে উল্লেখ্য যে, মন্ত্রণালয়/বিভাগের বাজেট কাঠামােতে উল্লেখিত মিশন স্টেটমেন্ট, কৌশলগত উদ্দেশ্য ও কর্মকৃতি নির্দেশক যেভাবে বিধৃত রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (APA)-তে একইভাবে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

৫. বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদকরণ প্রক্রিয়া

৫.১ বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগ সংশােধন ও হালনাগাদকরণ: মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট ব্যবস্থাপনা শাখা/অধিশাখা/অনুবিভাগের প্রধান মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদ কাজের সার্বিক সমন্বয় ও তদারকি করবেন। বাজেট ব্যবস্থাপনা শাখা/অধিশাখা/অনুবিভাগের কর্মকর্তাগণ খসড়া বাজেট কাঠামাে প্রস্তুত করবেন।

৫.২ রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নির্ধারণ: বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগ (অংশ ১-৫) এর প্রয়ােজনীয় সংশােধন ও হালনাগাদ করার পর মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সচিবালয় অংশ এবং নিয়ন্ত্রণাধীন অধিদপ্তর, অধস্তন দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সরকারি অনুদান প্রাপ্ত/বিনিয়ােগকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ও প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। অধিদপ্তর, অধস্তন দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সরকারি অনুদান প্রাপ্ত/বিনিয়ােগকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংযােজনী-৩ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়নকালে সমগ্র সম্পদসীমাকে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ে বিভক্ত করতে হবে। অতঃপর অধীনস্ত অধিদপ্তর/সংস্থাওয়ারি প্রাথমিক ব্যয়সীমা (পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় পৃথকভাবে প্রদর্শনপূর্বক) নির্ধারণ করতে হবে।।

৫.৩ বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ কর্তৃক বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগ পরীক্ষাকরণ: বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ (BWG) রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমাসহ খসড়া বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির (BMC) জন্য সুপারিশমালা প্রস্তুত করবে। 

৫.৪ বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগ পরীক্ষা ও অনুমােদন: বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপের বিশ্লেষণ/পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগের খসড়া বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পেশ করতে হবে। বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অংশ এবং ফরমসমূহ, বিশেষ করে কৌশলগত উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম, প্রধান কর্মকৃতি নির্দেশক ও ফরমসমূহ এবং রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ও প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমার খসড়া প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবে এবং প্রয়ােজনীয় সংশােধন/পরিমার্জনের পর অনুমােদন করবে। 

৫.৫ অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থাকে বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ প্রস্তুত করার অনুরােধ জ্ঞাপন: বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক অনুমােদিত বাজেট কাঠামাের (MBF) প্রথম ভাগ (বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ও সম্ভাব্য ব্যয়সীমাসহ) নিয়ন্ত্রণাধীন সকল অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থার নিকট প্রেরণ করতে হবে। উক্ত প্রথম ভাগের আলােকে অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থা বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ (প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণসহ) প্রয়ােজনীয় সংশােধন/হালনাগাদ করবে। সরকারের কাছ থেকে অনুদান/সাহায্য মঞ্জুরি (Grants in aid) গ্রহণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রযােজ্য ফরমসমূহ পূরণ করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে।

৫.৬ অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থা কর্তৃক বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ সংশােধন/ হালনাগাদকরণ: অধিদপ্তর/সংস্থার প্রধান বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ সংশােধন/হালনাগাদ সংক্রান্ত কাজের সার্বিক সমন্বয় ও তদারকি করবেন। পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন করে কর্মকর্তাকে বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণসহ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগের খসড়া প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। উল্লিখিত কর্মকর্তাগণ এই পরিপত্রে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা (সংযােজনী-২) অনুসরণ করে বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ প্রস্তুত করবেন।

৫.৭ প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়ন অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থা কর্তৃক মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ প্রস্তুত করার পর সংশ্লিষ্ট অপারেশন ইউনিটসমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন এবং ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করতে হবে। পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যথাক্রমে সংযােজনী-৪ (ক) ও ৪ (খ)-এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।। 

৫.৮ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণ: অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগের খসড়া প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থার বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমােদনের জন্য পেশ করবেন। এ কমিটি পরিপত্রে প্রদত্ত নীতিমালা/দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলনসহ ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষাপূর্বক প্রয়ােজনীয় সংশােধন/পরিমার্জনক্রমে চূড়ান্ত করবে।

৫.৯ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগে প্রেরণ: অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থার বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ এবং প্রাথমিক ব্যয়। প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ অনুমােদনের পর তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। 

৫.১০ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণ: অধিদপ্তর/অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট/সংস্থা থেকে বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগসহ প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবেন এবং এক্ষেত্রে পরিপত্রে বর্ণিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করবেন। প্রযােজ্য ক্ষেত্রে যথাযথ সংশােধন/পরিমার্জন করে বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ বাজেট কাঠামাের দ্বিতীয় ভাগ আরাে পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সামগ্রিক পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আকার নির্ধারণ করবেন। এছাড়া, প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাবে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর ডিভিশন এবং কার্যক্রম বিভাগের সম্মতির জন্য প্রেরণ করবেন। 

৫.১১ পরিকল্পনা কমিশনের সাথে পরামর্শকরণ: মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক ব্যয় সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং অষ্টম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। অনুচ্ছেদ ৫.৭ এর নির্দেশনা অনুযায়ী অধস্তন দপ্তর/প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট থেকে ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ সংক্রান্ত তথ্যাদি পাওয়ার পর পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর ডিভিশন এবং কার্যক্রম বিভাগের সম্মতিক্রমে প্রকল্পওয়ারি ব্যয় প্রস্তাব এবং মন্ত্রণালয়/বিভাগের সামগ্রিক পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আকার চূড়ান্তকরণপূর্বক বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অনুমােদনের জন্য পেশ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর ডিভিশন প্রকল্পওয়ারি ব্যয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে আলােচনাক্রমে চূড়ান্তপূর্বক তাঁদের লিখিত সম্মতি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও কার্যক্রম বিভাগকে সংযােজনী-৬ এ বর্ণিত সময়সীমা অনুযায়ী অবহিত করবে। 

৫.১২ মন্ত্রণালয়/বিভাগের বাজেট কাঠামাে চূড়ান্তকরণ: পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেক্টর ডিভিশন এবং কার্যক্রম বিভাগের সম্মতি পাওয়ার পর সামগ্রিক বাজেট কাঠামাে মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পেশ করতে হবে। বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি পর্যালােচনাক্রমে মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বাজেট কাঠামাে অনুমােদন করবে। 

৫.১৩ বাজেট কাঠামাে প্রেরণ: মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক বাজেট কাঠামাে অনুমােদিত হওয়ার পর তা অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করতে হবে। বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি নিশ্চিত করবে যে, প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামাে এবং সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণসমূহ এ পরিপত্রে বর্ণিত প্রক্রিয়া/পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামাের সঙ্গে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সংশ্লিষ্ট সভাসমূহের কার্যবিবরণী সংযুক্ত করতে হবে।

৬. দারিদ্র্য, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা সংক্রান্ত তথ্য:

৬.১ দারিদ্র্য ও নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ দারিদ্র্য নিরসন এবং নারী উন্নয়নকে কীভাবে প্রভাবিত করবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ সে সম্পর্কিত যৌক্তিকতা বাজেট কাঠামাের প্রথম ভাগের অংশ-৩ -এ লিপিবদ্ধ করতে হবে। দারিদ্র্য নিরসন ও নারী উন্নয়নে কৌশলগত উদ্দেশ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ এবং প্রকল্প ব্যয়ের ব্যবহার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সংযােজনী-৫ (ক) এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। 

৬.২ জলবায়ু অভিযােজন ও প্রশমনের ওপর প্রভাব: মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মােকাবেলায় (অভিযােজন ও প্রশমন) কিভাবে ভূমিকা রাখবে এ অংশে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও উপাত্তসহ বিশ্লেষণ প্রদান করতে হবে। Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP)-এ বর্ণিত ৬টি থিমেটিক এরিয়া ও এর আওতায় ৪৪টি কার্যক্রমের ভিত্তিতে জলবায়ু অর্থায়ন নিরূপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ অংশ ৩০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হবে। উল্লেখ্য, এ সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগের তালিকা এবং এ বিষয়ে অনুসরণীয় নির্দেশাবলী সংযােজনী-৫ (খ)-এ সন্নিবেশিত আছে।

৭. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ: অর্থ বিভাগ কর্তৃক মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং দপ্তর/সংস্থা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদকরণ প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

৮. সভার কার্যপত্র: বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার নির্ধারিত তারিখের অন্তত একদিন আগে সভার কার্যপত্র বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি/বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপের সকল সদস্যের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

৯. বাজেট কাঠামাে তৈরিতে গৃহীতব্য পদক্ষেপসমূহ ও সময়সীমা: মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আওতাধীন অধিদপ্তর/ সংস্থা কর্তৃক গৃহীতব্য পদক্ষেপসমূহ এবং এগুলাে সম্পাদনের সময়সীমা সংযােজনী-৬ এ প্রদর্শন করা হলে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

১০. স্পষ্টীকরণ: এ পরিপত্রে বিবৃত নীতিমালা/দিক-নির্দেশনার বিষয়ে কোন স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যার প্রয়ােজন হলে অর্থ বিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশনের হেল্প ডেস্ক কর্মকর্তাদের সাথে যােগাযােগ করা যেতে পারে। অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের হেল্প ডেস্ক কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও ফোন নম্বর সংযােজনী-৭ এ দেয়া হলাে।

১১. বাজেট কাঠামাে প্রেরণের সময়সীমা: আগামী ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখের মধ্যে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট কাঠামাে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সেক্টর ডিভিশনে এক প্রস্থ করে প্রেরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, যদি কোন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাজেটভুক্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে একাধিক সেক্টর/ ডিভিশন সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট সকল সেক্টর/ ডিভিশনে সংশােধিত/হালনাগাদকৃত বাজেট কাঠামাে প্রেরণ করতে হবে।

১২. পরিপত্রের দিক-নির্দেশনা ও সময়সীমা অনুসরণ: এ পরিপত্রের সকল দিক-নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাজেট কাঠামাে, রাজস্ব ও প্রাপ্তি এবং ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণসমূহ হালনাগাদ/প্রণয়ন করে উল্লেখিত তারিখের (০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২) মধ্যে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব ও প্রধান হিসাবদানকারী অফিসারগণকে বিশেষভাবে অনুরােধ জানানাে হলাে।

স্বাক্ষরিত/(নাজমা মােবারেক) 

অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১)

ফোন: ৯৫১১০৫০ 

মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামাে সংশােধন ও হালনাগাদকরণ: ডাউনলোড

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 2981 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *