দাফন/অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুদানের জন্য নিজ এবং পরিববারের সদস্যদের জন্য আবেদন করা যায়। পরিবার বলতে  (অ) কর্মচারী পুরুষ হলে, তাঁর স্ত্রী বা স্ত্রীগণ এবং কর্মচারী মহিলা হলে, তাঁর স্বামী; (আ) কর্মচারীর সাথে একত্রে বসবাসরত এবং তীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল সন্তান-সন্ততিগণ, পিতা, মাতা, দত্তক পুত্র (হিন্দু কর্মচারীদের ক্ষেত্রে), নাবালক ভাই এবং অবিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা বােন কে বোঝায় (বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বাের্ড আইন, ২০০৪ এর ২(ছ) ধারা)।

অনলাইনে মাসিক কল্যাণ, যৌথবীমা এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের আবেদন করার নিয়ম ২০২২

১। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বাের্ডের ওয়েব সাইট www.bkkb.gov.bd এর “কল্যাণ-যৌথ-দাফন অনুদানের অনলাইন আবেদন দাখিল” লিংকটিতে ক্লিক করে অথবা http://sss.bkkb.gov.bd লিংক ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে;

২। ঢাকা মহানগরীর আওতাভুক্ত অফিসমসূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাের্ডের প্রধান কার্যালয়ে এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের অধিক্ষেত্র অনুযায়ী বাের্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে;

৩। হােম পেজ থেকে “রেজিস্ট্রেশন” বাটনে ক্লিক করলে একটি পাতা আসবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য কর্মচারীর ধরণ এবং কর্মচারীর কর্মক্ষেত্রের ধরণ। পছন্দ করতে হবে। উল্লেখ্য কর্মচারীর কর্মক্ষেত্রের ধরণ “রাজস্বখাতভুক্ত হলে পে-ফিক্সেশন এর ভেরিফিকেশন নম্বর দিতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রের ধরণ “স্বায়ত্তশাসিত” হলে পে-ফিক্সেশন এর ভেরিফিকেশন নম্বর লাগবে না, শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিতে হবে;

৪। আবেদনকারীগণ প্রয়ােজনীয় তথ্যাদি দিয়ে “রেজিস্ট্রেশন করুন” বাটনে ক্লিক করার পর তাঁর মােবাইল নম্বরে ৬ ডিজিটের একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। এই কোড নম্বরটি দিয়ে “সাবমিট” বাটনে ক্লিক করলে “অভিনন্দন, আপনার নিবন্ধন সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে” এই ম্যাসেজ টি দেখাবে। কোড প্রদানের সময়সীমা ১ মিনিট। অনলাইনে আবেদন করার জন্য বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বাের্ডে একবারই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে;

৫। সফটওয়্যারে লগইন করার জন্য হােম পেজ থেকে “লগইন” বাটনে ক্লিক করে মােবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে;

৬। লগইন করার পর ড্যাসবাের্ড থেকে “কল্যাণ-যৌথ-দাফন অনুদান” বাটনে ক্লিক করে প্রয়ােজনীয় তথ্যাদি দিয়ে “প্রােফাইল নিশ্চিত করুন” বাটনে ক্লিক করে প্রােফাইল নিশ্চিত করতে হবে;

৭। আবেদন করার জন্য বাম দিকের আবেদনপত্র মেনু থেকে “নতুন আবেদন” বাটনে ক্লিক করে নিদের্শনাবলী অনুযায়ী “আমি শর্তাবলীর সাথে একমত” চেকবক্সে টিক দিয়ে পরবর্তী ধাপে “কর্মচারীর তথ্য” অংশে তথ্যাদি দিয়ে “সংরক্ষণ ও পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করে “আবেদনকারীর তথ্য” অংশে আবেদনকারীর তথ্যাদি দিয়ে “সংরক্ষণ ও পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদনকারী একাধিক হলে আবেদনকারী-১, ২, ৩, ৪ সিলেক্ট করে প্রত্যেক আবেদনকারীর তথ্য প্রদান করতে হবে। “অফিস প্রধানের তথ্য” অংশে তথ্যাদি দিয়ে “প্রিন্ট” বাটনে ক্লিক করে পূরণকৃত আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করুন এবং “শেষ ও pdf ডাউনলােড করুন” বাটনে ক্লিক করে সংরক্ষণ করতে হবে;

৮। এ পর্যায়ে “বিস্তারিত” বাটন থেকে আবেদনের তথ্যাদি দেখা যাবে এবং “আবেদন সংশােধন” বাটনের মাধ্যমে প্রয়ােজনে আবেদনের তথ্যাদি সংশােধন করা যাবে;

৯, “চূড়ান্ত দাখিল” বাটনে ক্লিক করে আবেদনের সাথে প্রয়ােজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত স্ক্যান কপি সংযুক্ত করে আপলােড করতে হবে;

১০। আবেদন ফরম প্রিন্ট করার পর কর্মচারীর অফিস প্রধান/ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সীল, কর্মচারীর স্বাক্ষর, স্মারক নং ও তারিখ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পূরণকৃত ফরমের স্ক্যান কপি সংযুক্ত ও আপলােড করে “চূড়ান্তভাবে দাখিল করুন” বাটনে ক্লিক করে আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদনটি সফলভাবে দাখিল হলে আবেদনকারী তাঁর মােবাইল ফোনে আবেদন গ্রহণের ডায়েরি নম্বর ও তারিখ সম্বলিত একটি ক্ষুদেবার্তা পাবেন এবং পরবর্তীতে অনলাইনে লগইন করে তার আবেদনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন। উল্লেখ্য, চূড়ান্ত দাখিলের পর আবেদনের কোন তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না;

১১। অনলাইনে আবেদন দাখিলের পাশাপাশি আবেদনের হার্ড কপি অবশ্যই প্রেরণ করতে হবে অন্যথায় আবেদন বিবেচনা করা হবে না। ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বাের্ড, প্রধান কার্যালয়, ১ম ১২ তলা সরকারি অফিস ভবন (১১ তলা), সেগুনবাগিচা, ঢাকা এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের অধিক্ষেত্র অনুযায়ী বাের্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে অগ্রগামী পত্রের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে আর্থিক অনুদান পরিমাণ ২০২২

ক) কল্যাণভতা: মাসিক ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকা হারে সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) বছর পর্যন্ত।

খ) যৌথবীমা: সবাের্চ ২,০০,০০০/- (দুই লাখ) টাকা।

গ) দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: চাকরিরত সরকারি/বাের্ডের তালিকাভুক্ত সংস্থার কর্মচারীর মৃত্যুতে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা। চাকরিরত সরকারি/বাের্ডের তালিকাভুক্ত সংস্থার কর্মচারীর পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা। সরকারি/বাের্ডের তালিকাভুক্ত সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা।

অনলাইনে আবেদনে কি কি কাগজপত্র লাগে?

১. রাজস্বখাতের কর্মচারীর ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সর্বশেষ বেতন নির্ধারণ বিবরণীর (Pay fixation) কপি এবং তালিকাভুক্ত স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চাকরি বহির ৩য় পৃষ্ঠা/এস.এস.সি সনদ (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি);

২. মৃত্যু সনদের ফটোকপি অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত (রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত);

৩. ওয়ারিশান সনদ (স্বামী/স্ত্রী, মা-বাবা ও সন্তানদের বয়স, সম্পর্ক, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা উল্লেখপূর্বক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত এবং অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত);

৪. ওয়ারিশগণ কর্তৃক আবেদনকারীকে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত এবং অফিস কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত);

৫. চাকরি হতে স্বেচ্ছায়/বাধ্যতামূলক/অক্ষমতাজনিত কারণে স্বাভাবিক অবসরের ক্ষেত্রে অবসরের অফিস আদেশের ফটোকপি (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত);

৬. মুক্তিযােদ্ধা সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে)(অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত);

৭. কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত পরিবারের অন্য সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের জন্য নির্ভরশীলতার সনদ (ইউ. পি. চেয়ারম্যান/ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত এবং অফিস কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত);

৮. কর্মচারীর ও আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত); ৯, বেতন প্রদানের তারিখ উল্লেখপূর্বক শেষ বেতনের সনদ (এলপিসি), আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (এজি) কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত;

১০. স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুনরায় বিবাহ না হওয়ার সনদ (বয়স ৫০ বছর পর্যন্ত) এবং কন্যা ও ভগ্নির ক্ষেত্রে বিবাহ না হওয়ার সনদ (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত এবং অফিস কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত);

১১. স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত পরিবারের অন্য কোনাে সদস্য আবেদনকারী হলে নির্ভরশীলতার সনদ (ইউ. পি. চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত | এবং অফিস কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত)(প্রযােজ্য ক্ষেত্রে);

১২. কর্মচারীর মৃত্যুর পর আবেদন দাখিল করতে ৬ মাসের বেশি বিলম্ব হলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিলম্বের ব্যাখ্যা প্রদান (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে);

১৩. অনলাইনে পূরণকৃত আবেদন ফরমে কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সীল, কর্মচারীর স্বাক্ষর, স্মারক নং ও তারিখ প্রদানপূর্বক ফরমের স্ক্যান কপি।

অনলাইনে আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে যে কোন সহায়তার জন্য হেল্প লাইন ২০২২

কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উপরের নম্বরে ফোন করুন।

মাসিক কল্যাণ ভাতা কত বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়?

চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১০(দশ) বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে কর্মচারীর পরিবার ১৫(পনের) বছর অথবা কর্মচারীর অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১০(দশ) বছর পর্যন্ত, যেটি আগে হয়, মাসিক কল্যাণ অনুদান প্রাপ্য হবেন।

অবসরের পর মারা গেলে কি দাফন কাফনের অর্থ পাওয়া যায়?

সরকারি কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় বা অবসরের পর কর্মচারীর ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার পরিবার অথবা তাঁর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি যিনি কর্মচারীর পরিবারের অনুপস্থিতিতে কর্মচারীর দাফন/সৎকারের ব্যয়ভার বহন করেছেন (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত এবং কর্মচারীর অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হতে হবে)।

আরও বিস্তারিত জানতে PDF ফাইল সংগ্রহ করুন: ডাউনলোড

 

কল্যাণ যৌথ দাফন অনুদান আবেদন রেজিস্ট্রেশনের ভুল সংশোধন ফরম ২০২২

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 2981 posts and counting. See all posts by admin

2 thoughts on “মাসিক কল্যাণ, যৌথবীমা এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের আবেদন অনলাইনে দাখিলের নিয়মাবলী ২০২২

  • বিভাগীয় মামলা কত সময়ে মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে

  • এটি জন্য নির্ধারিত সময় সীমা নেই। তবে পেনশন কাল নিকটস্থ হলে ৬ মাসের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *