১১তম মাসে পেনশনারের লাইভ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি।

পেনশনারের পেনশন এখন ইএফটি’র মাধ্যমে পান। এখন আর ম্যানুয়াল পেনশন প্রাপ্তির মত প্রতি মাসে লাইনে দাড়িয়ে পেনশন গ্রহণ করতে হয় না। প্রতিমাসেই পেনশনের জন্য পেনশন বই বা পিপিও বই নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে পেনশন রেজিস্টার বই গুজে দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হতো। এ ক্লান্তিকর এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য সারাটা দিন হিসাবরক্ষণ অফিস ও ব্যাংকে দাড়িয়ে দিন পার করতে হতো। মাস শেষে এ যেন ভয়ংকর একটি দিন পার করতো হাজার হাজার পেনশনারগণ!

ম্যানুয়াল পেনশন বন্ধ হয়ে চালু হয়েছে ইএফটি’র মাধ্যমে পেনশন প্রদান পদ্ধতি। এতে করে আর লাইনে দাড়িয়ে প্রতি মাসে পেনশন গ্রহণ করতে হয়না। মাস শেষে মোবাইলে হিসাবরক্ষণ অফিসের ইএফজি জেনারেট ম্যাসেজ এবং ব্যাংক হতে পেনশন ক্রেডিট করার ম্যাসেজসহ মোট ২ টি ম্যাসেজের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই পেনশন গ্রহণ করা যাচ্ছে। তবে এ পদ্ধতিতে শুরুতে পেনশন পেতে বিলম্ব হলেও পরবর্তীতে আর প্রতিমাসে পেনশন পেতে বিলম্ব হয় না, দাড়াতে হয়না লাইনে। এখন মাস শেষেই পেনশন প্রাপ্তির কনফর্মামেশন চলে আসে মোবাইলে যখন তখন চেক বা ভিসা ডেবিট কার্ড দিয়ে বাড়ির কাছের ব্যাংক হতে পেনশনের অর্থ উত্তোলন করা যায়। কেউ কেউ ডেবিট কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে পেনশনের টাকা তুলে নিয়ে আসছে। যদি আপনি ১১তম মাসে লাইভ ভেরিফিকেশন না করান তবে আপনি অটোমেটিক পেনশন প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে যাবে।

লাইভ ভেরিফিকেশন কি?

সোজাসাপটা কথায় বলতে গেলে লাইভ ভেরিফিকেশন হচ্ছে বেঁচে থাকা নিশ্চিতকরণ। আপনি প্রতি ১১তম মাসে গিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে আপনার NID কার্ড নিয়ে হাজির হবেন। হিসাবরক্ষণ অফিসার আপনার এনআইডি দিয়ে আইবাস++ এ ঢুকে আপনাকে সরাসরি দেখে বেঁচে আছেন এ মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করবেন। তাতেই পেনশন পুনরায় চালু হয়ে যাবে। স্টেপটি খুবই সহজ পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনার তার নিজের ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রটি নিয়ে স্বশরীরে হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করে লাইভ ভেরিফিকেশন করিয়ে নিবেন। এনআইডি কার্ডটি অবশ্যই সেই এনআইডি কার্ড হতে হবে যেটি আপনি পেনশন ইএফটি করনের সময় জমা দিয়েছেন। ধরুন আপনি আপনার পুরাতন বা সাধারণ এনআইডি দিয়ে ইএফটি চালু করেছেন, পরবর্তীতে আপনি স্মার্ট এনআইডি কার্ড পেয়েছেন, আপনাকে অবশ্যই পুরাতন এনআইডি কার্ডটি-ই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

মাসিক পেনশন এবং বোনাস ব্যাংকে ঢুকছে না?

মাস হিসাব করে দেখুন ১১তম মাস পার হয়েছে কিনা। আপনার প্রথম লাইভ ভেরিফিকেশন হতে ১১তম মাস পার হয়ে থাকলে আপনি পুনরায় হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করুন। অথবা আপনি ব্যাংকে খোজ নিয়ে দেখুন আপনার একাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিনা, অনেক সময় ম্যাসেজ আসে না কিন্তু ব্যাংকে টাকা ঠিকই ক্রেডিট হয়ে থাকে। যদি ভেরিফিকেশন করিয়ে থাকেন, ব্যাংকেও খোজ নিয়ে থাকেন তবুও আপনি নিশ্চিত পেনশন ও বোনাস ঢোকেনি। তহলে পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে চেক করে নিতে পারেন কি কারণে আপনার পেনশন বন্ধ হয়েছে। পেনশনটি Active আছে কিনা তাও আপনি অনলাইনেই চেক করে নিতে পারেন। যদি পেনশন inactive হয়ে থাকে তবে আপনি হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করুন অথবা স্বশরীরে হিসাবরক্ষণ অফিসে যান। পেনশন Active আছে কিনা তা অনলাইনেই চেক করতে পারেন।

পেনশনার যদি হাটতে অক্ষম বা শয্যাসায়ী হন তবে লাইভ ভেরিফিকেশন কিভাবে?

একজন পেনশনার যদি শারিরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন বা বয়স বা অসুস্থ্যতা জনিত কারণে বিছানায় পড়ে থাকেন তবে তার লাইভ ভেরিফিকেশন করানোর বেশি কিছু উপায় রয়েছে। প্রথমত আপনি কোন পরিবহনের মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অফিসে নিয়ে যান যদি তা সম্ভব না হয় তবে হিসাবরক্ষণ অফিসকে লিখিত বা মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করুন উপযুক্ত প্রমান সহ। এতে করে হিসাবরক্ষণ অফিস তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করে লাইভ ভেরিফিকেশন করবে। হিসাবরক্ষন অফিসার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নিকট হতে কোন প্রত্যয়নপত্র চাইতে পারেন, প্রয়োজনে ভিডিও কলের মাধ্যমে পেনশন যে বেঁচে আছেন তা নিশ্চিত করবেন। মোট কথা হিসাবরক্ষণ অফিসার যে কোন উপায়ে পেনশনারের অস্তিত্ব নিশ্চিত হতে হবে। পেনশনারের জীবিত থাকার বিষয়টি আইবাস++ এ হিসাবরক্ষণ অফিসার নিশ্চয়তা প্রদান করলেই লাইভ ভেরিফিকেশন হয়ে গেল।

যে কোন হিসাবরক্ষণ অফিসে লাইভ ভেরিফিকেশন করা যাবে?

হ্যাঁ আপনি দেশের যে কোন হিসাবরক্ষণ অফিস হতে লাইভ ভেরিফিকেশন করাতে পারেন। তবে স্থানীয় হিসাবরক্ষন অফিসের মাধ্যমেই লাইভ ভেরিফিকেশন করা ভাল। লাইভ ভেরিফিকেশন করে মাত্র ১-২ মিনিট সময় লাগে, সময়মত করিয়ে নিন পেনশন বন্ধ হবে না।

মাসিক পেনশন বা বোনাস ইএফটি’র মাধ্যমে ব্যাংকে জমা না হওয়ার পিছনে প্রথম কারণ হতে পারে লাইভ ভেরিফিকেশন, দ্বিতীয় কারণ হতে পারে সার্ভারজনিত সমস্যা, তৃতীয় কারণ হতে পারে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা অন্যান্য আরও কিছু কারণ থাকতে পারে তাই প্রথমেই আপনি অনলাইনে লগিন করে পেনশন বন্ধের কারণ দেখুন এবং হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগযোগ করুন।

কেন এই লাইভ ভেরিফিকেশন? ভূয়া বা পেনশনার মারা যাওয়ার পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি পেনশন গ্রহণ করে যেতে পারে এমন আশঙ্খা দূরীকরণেই লাইভ ভেরিফিকেশন। একাউন্টস অফিসে Physically লাইফ ভেরিফিকেশনের নির্দেশনা।

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.