পাবলিক পরিবহনে ধূমপান: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?
দেশের পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। বিশেষ করে রেলপথে ভ্রমণের সময় ট্রেনের ভেতরে ও প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নারী, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বাস্তব চিত্র ও জনভোগান্তি: সম্প্রতি রেলপথে যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রীর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ট্রেনের দুই কোচের সংযোগস্থল এবং টয়লেটের সামনের অংশগুলোকে ধূমপায়ীরা আড্ডার স্থানে পরিণত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্টেশনে ট্রেন থামলে প্ল্যাটফর্মেও চলে অবাধ ধূমপান। ঈশ্বরদী বাইপাস ও ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রায়ই এমন চিত্র দেখা যায়। এতে ট্রেনের ভেতরে থাকা গর্ভবতী নারী ও জানালার পাশে বসে থাকা শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের (Second-hand smoking) শিকার হচ্ছে, যা তাদের ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আইন কী বলছে? ২০২৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের (অতিরিক্ত) সংশোধনী অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ আরও কঠোর করা হয়েছে। গেজেটের ৪(১) ধারা অনুযায়ী:
যেকোনো পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জরিমানার হার বৃদ্ধি: আগে যেখানে জরিমানা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, সংশোধিত আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা করা হয়েছে।
পুনরাবৃত্তি করলে দণ্ড: যদি কেউ দ্বিতীয়বার বা বারবার একই অপরাধ করেন, তবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ওই দণ্ডের দ্বিগুণ হারে জরিমানা গুণতে হবে।
পাবলিক প্লেস ও পরিবহনের পরিধি: আইন অনুযায়ী রেলগাড়ি, বাস, জাহাজ, লঞ্চ এমনকি যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক সকল প্রকার জন-যানবাহন ‘পাবলিক পরিবহন’ হিসেবে গণ্য। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাস টার্মিনাল এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সারিও ‘পাবলিক প্লেস’-এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে ট্রেনের ভেতরে বা প্ল্যাটফর্মে ধূমপান করা স্পষ্টত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সচেতনতা ও প্রয়োগের দাবি: ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, আইন মানা কেবল জরিমানা এড়ানোর বিষয় নয়, এটি সহযাত্রীর প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধের পরিচয়। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা করলে ধূমপায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবে।
প্রশাসনের নজরদারি না বাড়লে এই আইন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।




