আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্যের নতুন গাইডলাইন ২০২৬ । সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ হয়েছে?
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা প্রাপ্তি আরও দ্রুত ও ভোগান্তিহীন করতে পেনশন আবেদনের প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ‘পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’-এর আলোকে এই নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে, যা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া: নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী তার অবসর-উত্তর ছুটিতে (PRL) যাওয়ার কমপক্ষে ১০ মাস আগে নির্দিষ্ট ফরমের (পেনশন ফরম ২.১) প্রথম অংশ পূরণ করে তিন কপি অফিস প্রধানের নিকট জমা দেবেন। যদি কেউ অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ করতে না চান, তবে তাকে অবসরে যাওয়ার অন্তত ১২ মাস আগে এই আবেদন জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে অফিস প্রধান এবং পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করবেন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
পেনশন আবেদনের সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
চাকরির রেকর্ড: নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস বুক এবং গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য গত ৩ বছরের সার্ভিস স্টেটমেন্ট বা এলপিসি (LPC)।
আর্থিক সনদ: প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ELPC) বা শেষ বেতনপত্র (LPC)।
ব্যক্তিগত নথি: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা স্মার্ট কার্ডের ৪টি কপি এবং সত্যায়িত ছবি।
পরিবার ও নমিনী: পরিবারের সকল সদস্যের ছবি এবং যথাযথভাবে পূরণকৃত নমিনী সংক্রান্ত তথ্যাদি।
অনাপত্তি সনদ: সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ইস্যু করা ‘না-দাবী ছাড়পত্র’ বা NOC।
পেমেন্ট ও ইএফটি (EFT) ব্যবস্থা: পেনশন ও আনুতোষিকের টাকা সরাসরি পেনশনারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণের জন্য ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এজন্য আবেদনকারীকে তার ব্যাংক হিসাবের নাম, নম্বর, শাখার নাম এবং রাউটিং নম্বর সঠিকভাবে ফরমে উল্লেখ করতে হবে। এমনকি পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রেও নমিনী বা উত্তরাধিকারীদের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব ও ইএফটি ফরম পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সঠিক তথ্যের অভাবে যেন পেনশন নিষ্পত্তি বিলম্বিত না হয়, সেজন্য ফরমের অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে দিতে হবে এবং কোনো তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এছাড়াও, পেনশনারের মৃত্যু হলে তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের পেনশন প্রাপ্তির বিষয়টিও সহজতর করা হয়েছে, যেখানে প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার ও মেডিকেল সনদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই সময়মতো হাতে পাবেন।

Caption: Retiring Pension Related Forms bd
নিজ পেনশনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
অবসরজনিত কারণে নিজের (নিজ) পেনশনের আবেদনের জন্য সাধারণত যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. পেনশন ফরম ২.১: যথাযথভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষরিত আবেদন ফরম। ২. পিআরএল (PRL) মঞ্জুরির আদেশ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত অবসর-উত্তর ছুটি মঞ্জুরির কপির সত্যায়িত ফটোকপি। ৩. সার্ভিস বুক (অ-গেজেটেডদের জন্য) বা সার্ভিস স্টেটমেন্ট (গেজেটেডদের জন্য): গত ৩ বছরের সার্ভিস স্টেটমেন্ট বা হালনাগাদ সার্ভিস বুক। ৪. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর এনআইডি বা স্মার্ট কার্ডের সত্যায়িত ৪টি ফটোকপি। ৫. পাসপোর্ট সাইজ ও স্ট্যাম্প সাইজ ছবি: নিজের সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্ট্যাম্প সাইজের ছবি (সাধারণত ২-৩ কপি করে)। ৬. পরিবারের সদস্যদের ছবি: পরিবারের সকল সদস্যের সত্যায়িত স্ট্যাম্প সাইজের ছবি। ৭. প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ELPC) বা শেষ বেতনপত্র (LPC): সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত। ৮. না-দাবী ছাড়পত্র (NOC): সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পাওনা নেই মর্মে অনাপত্তি সনদ। ৯. জিপিএফ (GPF) স্লিপ: সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের শেষ বছরের হিসাব বিবরণীর কপি। ১০. ব্যাংক হিসাবের তথ্য: এমআইসিআর (MICR) চেক বইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি (যেখানে হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখা এবং রাউটিং নম্বর স্পষ্ট থাকে)। ১১. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি। ১২. নমিনী সংক্রান্ত তথ্য: যথাযথভাবে পূরণকৃত নমিনী ফরম ও নমিনীর এনআইডির ফটোকপি। ১৩. চাকরি স্থায়ীকরণ বা নিয়মিতকরণ আদেশ: (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
আপনার দপ্তরের ধরন বা বিশেষ কোনো বিধিমালার কারণে তালিকায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে এই কাগজগুলোই পেনশনের ফাইল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন হয়।



