দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার সংকট ২০২৬ । ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় সরকারি কর্মচারীরা?
দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপে দিশেহারা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো না আসায় জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন তারা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ‘খোলা চিঠি’ দিয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো।
১. পে-কমিশনের সুপারিশ ও বর্তমান অবস্থা
গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে গঠিত ৯ম জাতীয় বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬-এ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামোর সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন বেতন: ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা (প্রায় ১৪২% বৃদ্ধি)।
প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা (প্রায় ১০৫% বৃদ্ধি)।
পেনশন সংস্কার: যারা ২০,০০০ টাকার নিচে পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০% বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা: বয়স্কদের জন্য ১০,০০০ টাকা এবং অন্যদের জন্য ৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
২. কর্মচারীদের মূল দাবি ও অসন্তোষ
‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালের পর আর কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল না আসায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থকষ্টে আছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অবিলম্বে গেজেট প্রকাশ: পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি।
বেতন বৈষম্য নিরসন: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে ১:৮ অনুপাতে নিয়ে আসা।
অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ: মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকুরি নিয়মিত করা।
রেশন ও অন্যান্য সুবিধা: ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত রেশন প্রদান এবং টিফিন ভাতা ১,০০০ টাকায় উন্নীত করা।
“বর্তমান বাজারে ১ কেজি চাল বা তেলের যে দাম, তাতে ২০১৫ সালের স্কেলে সংসার চালানো অসম্ভব। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থাশীল এবং আশা করছি তিনি আমাদের এই মানবিক দাবিটি সহানুভূতির সাথে দেখবেন।” — একজন সাধারণ কর্মচারী নেতা।
৩. সরকারের ইতিবাচক সংকেত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি সচিবালয়ে কর্মচারী নেতাদের সাথে এক বৈঠকে জানিয়েছেন যে, সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক। তবে বিশাল এই আর্থিক সংশ্লেষ (প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়) বিবেচনায় নিয়ে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. আসন্ন কর্মসূচি
স্মারকলিপি এবং খোলা চিঠির মাধ্যমে দাবি না মানলে সরকারি কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলে ঈদের পর বড় ধরনের সমাবেশের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
উপসংহার: প্রজাতন্ত্রের চাকা সচল রাখা এই বিশাল কর্মীবাহিনীর জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই খোলা চিঠির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী।




