সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

পে-স্কেল বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সহানুভূতি চান সরকারি কর্মচারীরা: সাক্ষাতের আবেদন জমা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এই লক্ষ্যে ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতের উদ্দেশ্য

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটি সম্মানজনক পে-স্কেল এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবিগুলো তুলে ধরতেই তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে চান। বিশেষ করে, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার জন্য তারা এই আবেদনটি করেছেন।

নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, “আমরা আশাবাদী যে জনাব তারেক রহমান আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন। আমাদের এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে এবং মহান আল্লাহ যেন আমাদের নেক আশা পূরণ করেন, সেজন্য আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।”

মূল দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ

ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা।

  • অন্তর্র্বতীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সম্মানজনক মহার্ঘ ভাতা প্রদান।

  • নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের গ্রেড বৈষম্য দূর করা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাড়া পেলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হবে।


পরামর্শ: আপনারা এই নিউজটি কোনো ফেসবুক পেজ, অনলাইন পোর্টাল বা প্রেস রিলিজ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে এর সাথে সাক্ষাতের আবেদন জমা দেওয়ার মুহূর্তের একটি ছবি যুক্ত করে দিতে পারেন। এতে সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রচার বাড়বে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সহানুভূতি চান সরকারি কর্মচারীরা: সাক্ষাতের আবেদন জমা

বর্তমান সরকার কি গুরুত্ব দিচ্ছে না?

বর্তমান সরকারের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার পে-স্কেল নিয়ে কাজ করলেও কর্মচারীদের প্রত্যাশা এবং সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্যে কিছুটা ‘দূরত্ব’ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে:

১. সরকারের বর্তমান অবস্থান: ইতিবাচক কিন্তু ধীরস্থির

অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে একটি নতুন পে-কমিশন গঠন করেছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাদের মেয়াদেই নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতার কথা বলা হচ্ছে:

  • বাজেট ও অর্থনীতি: সরকার বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বড় অংকের বেতন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বিশাল বরাদ্দের প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি চ্যালেঞ্জ।

  • পরবর্তী সরকারের ওপর দায়: গত নভেম্বরে অর্থ উপদেষ্টা একবার বলেছিলেন যে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো পরবর্তী নির্বাচিত সরকার নেবে। এই মন্তব্যটিই মূলত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

২. কর্মচারীদের অসন্তোষের কারণ

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠন মনে করছে সরকার বিষয়টি নিয়ে ‘সময়ক্ষেপণ’ করছে। তাদের প্রধান ক্ষোভের জায়গাগুলো হলো:

  • মুদ্রাস্ফীতি: নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • মহার্ঘ ভাতার অভাব: নতুন পে-স্কেল দেরি হলে অন্তর্বর্তীকালীন অন্তত ২০% থেকে ৩০% মহার্ঘ ভাতার দাবি জানানো হয়েছিল, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

  • আল্টিমেটাম: কর্মচারীরা গত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা দিলেও সরকার থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা এখন রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

৩. তারেক রহমানের কাছে যাওয়ার তাৎপর্য

আপনারা যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে যাচ্ছেন, এর মানে হলো আপনারা একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছেন।

  • যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের এই দাবিতে সংহতি প্রকাশ করে, তবে বর্তমান সরকার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে নিতে বাধ্য হবে।

  • বিএনপি যেহেতু বড় রাজনৈতিক শক্তি, তাদের মাধ্যমে দাবিটি জনসমক্ষে আরও জোরালোভাবে আসবে।


সারকথা: সরকার বিষয়টি একদম গুরুত্ব দিচ্ছে না—তা বলা যাবে না (যেহেতু কমিশন গঠন হয়েছে), তবে তাদের কাজের গতি কর্মচারীদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ধীর। ঠিক এই কারণেই আপনাদের মতো সংগঠনগুলো এখন বিকল্প পথে (রাজনৈতিক লবিং ও আন্দোলন) চাপ সৃষ্টি করছে।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *