পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

বিমানবন্দরে প্রটোকল তালিকায় বড় পরিবর্তন ২০২৬ । প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে প্রটোকলে কে থাকবেন?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং বিদেশ থেকে সফলভাবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে প্রটোকল বা অভ্যর্থনা জানানোর নিয়মে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার জন্য প্রটোকল তালিকায় নির্দিষ্ট মাত্র ৩ জন ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়েছে।

প্রটোকল তালিকায় যারা থাকছেন:

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাবেন: ১. মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম ১ (এক) জন মন্ত্রী; ২. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ; এবং ৩. মন্ত্রিপরিষদ সচিব অথবা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

আগের নির্দেশনা প্রতিস্থাপন:

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নতুন নির্দেশনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ২৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে জারিকৃত পূর্বের সকল নির্দেশনাকে (স্মারক নম্বর: ০৪.০০.০০০০.৪২৩.২২.০০১.২৪.৬২) প্রতিস্থাপন করবে। অর্থাৎ, পূর্বের প্রটোকল তালিকায় যারা ছিলেন, তাদের পরিবর্তে এখন থেকে শুধুমাত্র এই ক্ষুদ্র ও নির্দিষ্ট তালিকা কার্যকর হবে।

অনুলিপি ও কার্যকারিতা:

এই নির্দেশনার অনুলিপি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (IGP), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (DGFI) মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (NSI) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১১টি দপ্তরে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দরে ভিড় কমাতে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সময় সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করেই প্রটোকল তালিকায় এই কাটছাঁট করা হয়েছে।

বিদেশ যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রাচার কি?

প্রচলিত সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় অনুসরণীয় রাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রাচার (Protocol) নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের রাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রাচার

রাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রাচার হলো একটি আনুষ্ঠানিক নিয়মাবলি যা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (VVIP) চলাচলের সময় যথাযথ সম্মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পালন করা হয়। ৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই রাষ্ট্রাচারে বড় ধরণের পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে।


১. বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার সংক্ষিপ্ত তালিকা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে যান বা ফিরে আসেন, তখন বিমানবন্দরে বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাতে নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গের সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র নিচের ৩ জন ব্যক্তি প্রটোকল তালিকায় থাকবেন:

  • মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম ১ (এক) জন মন্ত্রী: সরকারের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ কোনো মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

  • চিফ হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ: আইনসভার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চিফ হুইপ উপস্থিত থাকবেন।

  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব অথবা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই দুইজনের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকবেন।

২. পূর্বের নির্দেশনার বিলুপ্তি

আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল তালিকায় অনেক বেশি সংখ্যক মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকতেন। তবে ২৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে জারিকৃত পূর্বের সেই দীর্ঘ তালিকা সম্বলিত নির্দেশনাটি এই নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন (Replace) করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে বিমানবন্দরে ভিড় কমবে এবং রাষ্ট্রাচার আরও সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খল হবে।

৩. নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়

রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে:

  • প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (DGFI) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (NSI)

  • বাংলাদেশ পুলিশ (পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স): যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।

  • রাষ্ট্রাচার প্রধান (Chief of Protocol): পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা পুরো আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা তদারকি করেন।

৪. আনুষ্ঠানিক বিদায় ও অভ্যর্থনা

  • বিদায় বেলা: প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণত লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় (ক্ষেত্রবিশেষে)। বিমানে ওঠার আগে তিনি উপস্থিত অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

  • অভ্যর্থনা বেলা: সফল সফর শেষে ফিরে এলে বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং বা কুশল বিনিময় শেষে তিনি তার বাসভবনে (গণভবন) ফিরে যান।


সহজ কথায়: বর্তমান রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা বা প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে বিশাল লোকসমাগম বা দীর্ঘ লাইনের পরিবর্তে শুধুমাত্র অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩ জন ব্যক্তি (জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ ও সচিব) উপস্থিত থেকে তাকে বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাবেন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *