২০২৬ সালের রমজানের সময়সূচি প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বা ১৪৪৭ হিজরী সালের পবিত্র রমজান মাসের সাহরী ও ইফতারের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এই সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথম রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঢাকা জেলার জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম রমজানের সাহরীর শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং ইফতারের সময় রাখা হয়েছে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। মাসব্যাপী এই সিয়াম সাধনার শেষ দিন অর্থাৎ ৩০তম রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ, যেখানে সাহরীর শেষ সময় ৪টা ৪৭ মিনিট এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট।
সময়সূচির বিশেষ কিছু তথ্য: ১. শুরু ও শেষ: সূচি অনুযায়ী প্রথম রমজান থেকে ৩০শে রমজান পর্যন্ত সাহরীর সময়ের ব্যবধান প্রায় ২৫ মিনিট কমে আসবে এবং ইফতারের সময় প্রায় ১৩ মিনিট বৃদ্ধি পাবে। ২. ১০ম রমজান: ২৮ ফেব্রুয়ারি, সাহরী ৫:০৫, ইফতার ৬:০২। ৩. ২০তম রমজান: ১০ মার্চ, সাহরী ৪:৫৭, ইফতার ৬:০৭। ৪. ৩০তম রমজান: ২০ মার্চ, সাহরী ৪:৪৭, ইফতার ৬:১১।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা: সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাহরীর শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবহে সাদিকের সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফজরের আজান সাহরীর শেষ সময়ের কয়েক মিনিট পর দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করতে হবে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি ও আলেমদের তত্ত্বাবধানে এই সময়সূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে ১লা রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (www.islamicfoundation.gov.bd) থেকে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি সংগ্রহ করা যাবে।

রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কি?
ইসলাম ধর্মে রমজান মাস শুধুমাত্র না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সময়। এই মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। নিচে এর মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস
রমজান মাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের জন্য পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাজিল করা হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
“রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন…” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।
২. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন
রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন করা। সারা দিন পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ পায়, যা তাকে বছরের বাকি সময়গুলোও পাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।
৩. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ
দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকার ফলে ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের অনাহার ও কষ্টের তীব্রতা অনুভব করতে পারেন। এর ফলে সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হয় এবং জাকাত ও সদকার মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবায় উদ্বুদ্ধ হওয়া যায়।
৪. গুনাহ মাফের সুযোগ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহীহ বুখারী)। এটি মূলত পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন শুরুর একটি সুযোগ।
৫. লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রাত
এই মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে ‘লাইলাতুল কদর’, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বয়ে আনে।
৬. জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়া
হাদিস অনুযায়ী, রমজান মাস শুরু হলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। ফলে ইবাদত করা ও ভালো পথে চলা সহজ হয়।
৭. ধৈর্যের প্রশিক্ষণ
রমজান মাসকে ‘ধৈর্যের মাস’ বলা হয়। ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে একজন মুমিন কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারণ করার শিক্ষা পায়, যা বাস্তব জীবনে অত্যন্ত জরুরি।


