9th Pay Scale Chart 2026 । নবম বেতনে স্কেলের ধাপ ও সিঁড়ি নির্ণয়ের তালিকা (নতুন)
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে আপনার জন্য একটি নিউজ রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলো:
নবম পে-স্কেল ২০২৬: সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ ও বিশ্লেষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ ১০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই রিপোর্ট জমা দেন।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪৭% পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
১. নতুন বেতন স্কেলের প্রস্তাবিত রূপরেখা
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের যে বিশাল পার্থক্য ছিল, তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড): বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড): বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. বেতন নির্ধারণের ধাপ ও সিঁড়ি (Incremental Steps)
নতুন পে-স্কেলে বেতনের ধাপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পান।
সিঁড়ি পদ্ধতি: আগের মতো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫% হারে বজায় রাখা হলেও, উচ্চতর গ্রেডের তুলনায় নিম্নতর গ্রেডগুলোর (১১-২০ গ্রেড) মূল বেতনের আনুপাতিক হার বাড়ানো হয়েছে।
বৈষম্য দূরীকরণ: ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ও টিফিন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমানে প্রাপ্ত ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩. পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর
প্রতিবেদনে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের জন্য সুবিধা।
যাদের মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে, তাদের পেনশন ১০০% বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বয়স্কদের (৭৫ ঊর্ধ্ব) জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ১০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৪. বাস্তবায়ন সময়সীমা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়ন হবে না। প্রথমে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে।
আংশিক বাস্তবায়ন: ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পূর্বপ্রভবে (Retrospective effect) কিছু সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সুপারিশ
বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার প্রস্তাব।
স্বাস্থ্য বিমা: সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমা চালুর সুপারিশ।
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ২,০০০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা।
বিশ্লেষণ: এবারের পে-স্কেলে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডে বেতন ২.৪ গুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাবটি সাধারণ কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে এই বিশাল খরচ (অতিরিক্ত ১.০৬ ট্রিলিয়ন টাকা) সামাল দিতে সরকারের রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

PDF Download Link: 9th Pay Scale Chart 2026
নবম বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রতিটি গ্রেডে এবং ধাপে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত নিম্ন গ্রেডগুলোতে (১১-২০ গ্রেড) বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে তারা সংগতি রাখতে পারেন।
নিচে প্রধান গ্রেডগুলোর বেতন বৃদ্ধির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির তালিকা (প্রস্তাবিত):
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) | প্রস্তাবিত মূল বেতন (২০২৬) | বেতন বেড়েছে (টাকা) | বৃদ্ধির হার (%) |
| ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০/- | ১,৬০,০০০/- | ৮২,০০০/- | ১০৫% |
| ২য় গ্রেড | ৬৬,০০০/- | ১,৩৫,০০০/- | ৬৯,০০০/- | ১০৪% |
| ৫ম গ্রেড | ৪৩,০০০/- | ৮৮,০০০/- | ৪৫,০০০/- | ১০৫% |
| ১০ম গ্রেড | ১৬,০০০/- | ৩৮,০০০/- | ২২,০০০/- | ১৩৭% |
| ১১তম গ্রেড | ১২,৫০০/- | ৩০,০০০/- | ১৭,৫০০/- | ১৪০% |
| ১৫তম গ্রেড | ৯,৭০০/- | ২৪,০০০/- | ১৪,৩০০/- | ১৪৭% |
| ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০/- | ২০,০০০/- | ১১,৭৫০/- | ১৪২% |
ধাপ ও সিঁড়ি (Incremental Steps) বিশ্লেষণ:
১. মূল বেতন দ্বিগুণ: প্রায় প্রতিটি গ্রেডেই মূল বেতন গড়ে ১০০% থেকে ১৪৭% পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী এখন যেখানে ৮,২৫০ টাকা মূল বেতন পান, তিনি শুরুতেই ২০,০০০ টাকা মূল বেতন পাবেন।
২. বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: বর্তমানের ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতি বজায় রাখা হতে পারে, তবে মূল বেতন বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর টাকার অঙ্কে ইনক্রিমেন্টের পরিমাণও আগের চেয়ে দ্বিগুণ হবে।
৩. নিম্ন গ্রেডে বিশেষ নজর: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই ধাপে সবচেয়ে বেশি শতাংশ হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে।
৪. ভাতা বৃদ্ধি: বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং টিফিন ভাতাও আনুপাতিক হারে বাড়বে। যেমন- বর্তমানের ২০০ টাকার টিফিন ভাতা ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সংক্ষেপে: আপনার ধাপ বা সিঁড়ি অনুযায়ী যদি দেখেন, তবে সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বেড়েছে প্রায় ১১,৭৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বেড়েছে প্রায় ৮২,০০০ টাকা।



