মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ ২০২৬ । জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন?
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে নেমেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সারা দেশে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত ০৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিবীক্ষণ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি পত্র জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব নাহিদা আক্তার তানিয়া স্বাক্ষরিত এই আদেশে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে: পণ্যটির বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য অর্জনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে: ১. জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধ করা। ২. নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রি বন্ধ করা। ৩. খোলা বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ এবং পাচার রোধ করা।
অভিযানের প্রেক্ষাপট: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পত্রে জানানো হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ০৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
তদারকি ও বাস্তবায়ন: আদেশে বলা হয়েছে, বর্ণিত অবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের নিজস্ব এখতিয়ারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এই আদেশের অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিবকেও সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারির ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা সহজতর হবে। জেলা পর্যায়ে ডিসিদের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হলে বাজারে কৃত্রিম সংকটের অপচেষ্টা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



