ভোটার এলাকা স্থানান্তর ২০২৬ । আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি লাগে?
আপনি যদি বর্তমানে যে এলাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, সেখান থেকে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানায় ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য অনলাইন বা শুধু কাগজ জমা দিলেই হয় না, এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়।
ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ফরম-১৩ পূরণ ও জমা দান
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য সর্বপ্রথম বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ‘ফরম-১৩’ নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। এই ফরমটি পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জমা দিতে হবে।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
আবেদনের সাথে অবশ্যই নিচের নথিপত্রগুলো সংযুক্ত করতে হবে:
আবেদনকারীর এনআইডি (NID): বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি স্পষ্ট ফটোকপি।
নাগরিকত্ব সনদ: আপনি যে এলাকায় ভোটার হতে চাচ্ছেন, সেই এলাকার সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব সনদ।
ঠিকানার প্রমাণপত্র: নতুন ঠিকানায় বসবাসের প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, ট্যাক্স রশিদ, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিনামা বা বাড়ি ভাড়ার রশিদ অথবা ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের কপি।
শনাক্তকারীর সত্যায়ন: ফরম-১৩ এর দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আবেদনকারীকে শনাক্তকারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট মেয়র/কাউন্সিলর/চেয়ারম্যান/মেম্বার অথবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম, এনআইডি নম্বর, স্বাক্ষর ও সিল থাকতে হবে।
অন্যান্য: অফিস কর্তৃক অন্য কোনো বিশেষ দলিলাদি চাইলে তা প্রদান করতে হবে।
৩. নতুন পরিচয়পত্র বা কার্ড প্রাপ্তি
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, ভোটার এলাকা স্থানান্তর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কোনো এনআইডি কার্ড দেওয়া হয় না। আপনার আগের কার্ডটিই কার্যকর থাকবে। তবে কেউ যদি স্থানান্তরিত নতুন ঠিকানাসহ পরিচয়পত্র পেতে চান, তবে তাকে:
নির্ধারিত ২৩০ টাকা সরকারি ফি (ভ্যাটসহ) জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট অফিসে পুনরায় ‘রিইস্যু’ আবেদন করতে হবে।
৪. আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানবেন যেভাবে
আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন থেকে ১০৫ নম্বর থেকে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে জানানো হবে। আবেদনটি অনুমোদিত হলেও একই নম্বর থেকে আপনি কনফার্মেশন মেসেজ পাবেন।
সতর্কতা: ফরম পূরণের সময় বর্তমান ভোটার এলাকার তথ্য (ভোটার নম্বর, এলাকা ও সিরিয়াল) সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।

আবেদন কোন উপজেলায় গিয়ে করতে হবে?
ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আবেদন কোথায় জমা দেবেন, তা নির্ভর করে আপনি বর্তমানে যে এলাকায় নতুন করে ভোটার হতে চাচ্ছেন তার ওপর।
সহজভাবে নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো:
গন্তব্যস্থলের নির্বাচন অফিস: আপনি বর্তমানে যে এলাকায় ভোটার আছেন সেখান থেকে যে নতুন এলাকায় (স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা) নাম স্থানান্তর করতে চান, সেই নতুন এলাকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
উদাহরণ: ধরুন আপনি বর্তমানে ‘ক’ উপজেলার ভোটার, কিন্তু এখন ‘খ’ উপজেলায় ভোটার হতে চান। এক্ষেত্রে আপনাকে ‘খ’ উপজেলার নির্বাচন অফিসে গিয়ে ফরম-১৩ জমা দিতে হবে।
মনে রাখা জরুরি:
১. সশরীরে উপস্থিতি: আবেদনকারীকে অবশ্যই সশরীরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হবে। ২. শনাক্তকরণ: ফরমের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আপনি যে নতুন এলাকায় ভোটার হতে যাচ্ছেন, সেই এলাকার জনপ্রতিনিধি (মেয়র/কাউন্সিলর/চেয়ারম্যান/মেম্বার) বা উপযুক্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর ও সিল নিতে হবে। ৩. ঠিকানার প্রমাণ: আপনি যে উপজেলায় আবেদন করছেন, সেখানে আপনার বসবাসের সপক্ষে ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি) বা বাড়ি ভাড়ার প্রমাণপত্র অবশ্যই সাথে রাখতে হবে।



