নতুন বেতন কাঠামো যাচাই-বাছাই চলছে: বিলম্বিত হতে পারে বাস্তবায়ন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো নিয়ে বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও গভীর পর্যালোচনা চলছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সচিব কমিটির পর্যালোচনা ও বর্তমান অবস্থা
গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবটি এখনই সরাসরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, “সচিব কমিটি বর্তমানে এই কাঠামোর প্রতিটি দিক পর্যালোচনা করছে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সরকার পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে নতুন পে-কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছিল, যেখানে বেতন ১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সংশ্লেষ এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি ধাপে ধাপে বা যাচাই-বাছাই শেষে কার্যকর করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল দিকসমূহ:
বেতন বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন গ্রেড থেকে সর্বোচ্চ গ্রেড পর্যন্ত ১০০% থেকে ১৪৭% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন: ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
ভাতা ও বিমা: যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বিমা চালু এবং বৈশাখী ভাতা ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার প্রস্তাবনা রয়েছে।
পেনশন সংস্কার: অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পেনশনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, বিশেষ করে ৭৫ ঊর্ধ্বদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান ও পরবর্তী ধাপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সচিব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার চাচ্ছে এমন একটি কাঠামো দাঁড় করাতে যা একইসাথে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে এবং বাজারে মুদ্রাস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অর্থ উপদেষ্টা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সচিব কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মন্ত্রিসভায় এটি আলোচিত হবে। এরপরই জানা যাবে ঠিক কবে থেকে এবং কী হারে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।


