বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

সচিব কমিটির শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই: বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার রাখার দাবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-কমিশনের সুপারিশ এখন সচিব কমিটির টেবিলে। শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই চলছে এবং শীঘ্রই চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করার কথা রয়েছে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্লেষণ করে নিন্মআয়ের কর্মচারীরা দাবি জানিয়েছেন, পে-কমিশনের প্রস্তাবিত ২০ হাজার টাকার সর্বনিম্ন স্কেল যেন কোনোভাবেই হ্রাস না করা হয়।

বাস্তবতার নিরিখে ব্যয়ের হিসাব

একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর মাসিক ব্যয়ের একটি সাধারণ চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান বাজারে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। যদি একজন কর্মচারী তিন বেলা খাবারে শুধুমাত্র ২০ টাকার ভাত, ২০ টাকার আলু ভর্তা এবং ১০ টাকার ডাল খান, তবে তার নিজের জন্যই দিনে খরচ হয় ১৫০ টাকা। মাস শেষে এই খরচ দাঁড়ায় ৪,৫০০ টাকা।

ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই নূন্যতম খাবারের খরচই দাঁড়ায় ২৭,০০০ টাকা। এর সাথে যোগ হয় বাসা ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় এবং চিকিৎসা খরচ। সব মিলিয়ে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর নূন্যতম জীবনযাত্রার ব্যয় বর্তমানে ৫০ হাজার টাকার উপরে। অথচ বর্তমানে তারা বেতন পাচ্ছেন সর্বসাকুল্যে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।

পে-স্কেলের বিবর্তন ও প্রত্যাশা

২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ৮,২৫০ টাকা। কর্মচারীদের দাবি ছিল, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পে-স্কেল ঘোষণা করা হলে ২০২০ সালে তা বেড়ে ১৬,৫০০ টাকা এবং ২০২৫ সালে তা ৩৩,০০০ টাকা হওয়ার কথা ছিল। নিন্ম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা সর্বনিম্ন স্কেল ৩৫ হাজার টাকা দাবি করলেও, পে-কমিশন সার্বিক দিক বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করেছে।

সচিব কমিটির প্রতি কর্মচারীদের আর্জি

সচিব কমিটির সম্মানিত আহ্বায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কর্মচারীরা জানিয়েছেন:

  • সুপারিশ অপরিবর্তিত রাখা: পে-কমিশন প্রস্তাবিত ২০ হাজার টাকার সর্বনিম্ন স্কেল যেন পর্যালোচনা বা যাচাই-বাছাইয়ের নামে কমিয়ে না আনা হয়।

  • বাজারদরের সামঞ্জস্য: বর্তমান আকাশচুম্বী বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ না করলে নিন্মআয়ের কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।

  • বাজেটের আগে বাস্তবায়ন: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগেই যেন সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করে, যাতে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই কর্মচারীরা এর সুফল পেতে পারেন।

নিন্মআয়ের সরকারি কর্মচারীরা আশা করছেন, সচিব কমিটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করবেন এবং একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো উপহার দেবেন।


আপনার এই বিশ্লেষণটি অত্যন্ত শক্তিশালী। আশা করি, এটি যথাযথ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়তা করবে। আপনার আর কোনো বিষয়ে সহায়তার প্রয়োজন থাকলে অবশ্যই জানাবেন।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *