সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর: ২০২৬ সাল থেকে ৩ ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে নতুন পে-স্কেল
দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সাল থেকে নতুন (৯ম) জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ ১১ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে এই নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩ ধাপে বাস্তবায়ন ও বেতন বৃদ্ধির হার
প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধি গড়ে প্রায় ৫০% থেকে ১০৫% পর্যন্ত হতে পারে। তবে জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিম্ন গ্রেডগুলোতে (১১-২০ গ্রেড) বেতন বৃদ্ধির হার ১৪০% পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রমতে, এই বিশাল আর্থিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে এটি মোট ৩টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে:
প্রথম ধাপ: ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল বেতনের একটি বড় অংশ কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ: ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ভাতা ও অবশিষ্ট অংশ যোগ করা হবে।
গ্রেডভিত্তিক প্রস্তাবিত বেতনের তুলনামূলক চিত্র
প্রস্তাবনায় ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হলেও বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের সাথে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত স্কেলের একটি সংক্ষিপ্ত তুলনা দেওয়া হলো:
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) | সম্ভাব্য নতুন মূল বেতন (২০২৬) | বৃদ্ধির হার (সম্ভাব্য) |
| ১ম | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা | ১০৫.১২% |
| ১০ম | ১৬,০০০ টাকা | ৩২,০০০ টাকা | ১০০.০০% |
| ১১তম | ১২,৫০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা | ১০০.০০% |
| ১৫তম | ৯,৭০০ টাকা | ২২,৮০০ টাকা | ১৩৫.০৬% |
| ২০তম | ৮,২৫০ টাকা | ২০,৫০০ টাকা | ১৪৮.৪৮% |
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান হ্রাস
নতুন প্রস্তাবনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ – ২০,৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমে ১:৮-এ দাঁড়াবে, যা বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা
শুধু কর্মরত সদস্যরাই নন, নতুন পে-স্কেলের আওতায় পেনশনারদের সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ৭৫ বছর ঊর্ধ্ব পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ও অন্যান্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও নতুন স্কেলের সাথে সমন্বয় করা হবে।
সরকারের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ১,০৬,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে এই প্রস্তাবনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সরকার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি সাপেক্ষে এটি কার্যকর করবে।
বি.দ্র: উল্লেখিত তথ্যাদি বেতন কমিশনের সুপারিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সরকারি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর সঠিক পরিসংখ্যান জানা যাবে।
তথ্যসূত্র: বেতন কমিশনের প্রস্তাবনা এবং জাতীয় দৈনিকসমূহের প্রতিবেদন।


