দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জয়: রাষ্ট্রপতির আদেশে ১৮ বছর পর চাকরিতে পুনর্বহাল ও পূর্ণ বকেয়া মঞ্জুর
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চাকরিতে সসম্মানে পুনর্বহাল হলেন এক সরকারি কর্মচারী। ২০০৮ সালে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালে চূড়ান্ত বরখাস্ত হওয়ার পর, আদালতের রায় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে তাকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ এই ১৮ বছরের বিচ্ছেদকালকে (২০০৮-২০২৫) সরকার ‘কর্মকাল’ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে তিনি ওই সময়ের যাবতীয় বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ও পুনর্বহাল
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ২০০৮ সালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাময়িক বরখাস্ত হন। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর ২০১৯ সালে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে তিনি হাল না ছেড়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। উচ্চ আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তার নিরপরাধতা প্রমাণিত হওয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করা হয় যে, বরখাস্তকালীন সময়টি তার চাকরির নিরবচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
মহার্ঘ্য ভাতাসহ বকেয়া সুবিধা প্রাপ্তি
আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেহেতু তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘কর্মকাল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু তিনি ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার পূর্বে সরকার ঘোষিত ২০ শতাংশ হারে ‘মহার্ঘ্য ভাতা’ (Dearness Allowance) বকেয়া হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হবেন। মূলত ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত যে মহার্ঘ্য ভাতা প্রচলিত ছিল, তা তার এরিয়ার বিলের (Arrear Bill) সাথে যুক্ত হবে।
বেতন নির্ধারণ ও ইনক্রিমেন্ট সুবিধা
হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন ওই কর্মচারীর ‘পে-ফিক্সেশন’ বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কাল্পনিকভাবে (Notional) যোগ করা হবে। অর্থাৎ, আজ তিনি চাকরিতে থাকলে যে বেতন পেতেন, ঠিক সেই ধাপেই তার বর্তমান বেতন নির্ধারিত হবে। এর পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার বকেয়াও তিনি পাবেন।
প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত
এই আদেশটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ায় সত্য প্রমাণিত হলে এবং রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা ও আদেশ থাকলে একজন কর্মচারী তার হারানো মর্যাদা ও আর্থিক অধিকার ফিরে পেতে পারেন।
বর্তমানে ওই কর্মচারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদানের পর তার বকেয়া বিল প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই ন্যায়বিচার পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারী এবং তার পরিবারের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।



