নিকার বৈঠকে ৫টি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে নতুন ধাপ
সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর সাম্প্রতিক বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫টি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন উপজেলাগুলো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় কক্সবাজার, বগুড়া, লক্ষ্মীপুর এবং ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন জনপদ স্থান পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদ্যমান উপজেলাগুলোকে বিভক্ত করার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন উপজেলাসমূহের বিস্তারিত তালিকা:
নিচে ছক আকারে নতুন উপজেলার নাম, সংশ্লিষ্ট জেলা এবং পূর্বতন উপজেলার তথ্য প্রদান করা হলো:
| নতুন উপজেলা | জেলা | যে উপজেলা থেকে বিভক্ত হবে |
| মাতামুহুরী | কক্সবাজার | চকরিয়া |
| মোকামতলা | বগুড়া | শিবগঞ্জ |
| রুহিয়া | ঠাকুরগাঁও | সদর উপজেলা |
| ভুল্লী | ঠাকুরগাঁও | সদর উপজেলা |
| চন্দ্রগঞ্জ | লক্ষ্মীপুর | সদর উপজেলা |
ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট:
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে রুহিয়া ও ভুল্লী নামে দুটি নতুন উপজেলা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে মাতামুহুরী, বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে মোকামতলা এবং লক্ষ্মীপুর সদর থেকে চন্দ্রগঞ্জ পৃথক উপজেলার মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।
গুরুত্ব ও প্রভাব:
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন উপজেলা গঠিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায় স্থানীয় মানুষজন আরও নিবিড় সেবা পাবেন। তবে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যালয় স্থাপন এবং জনবল নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিকার বৈঠকে এই প্রস্তাবসমূহ চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশের মোট উপজেলার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী হবে।



