ই-বুক I এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ: সরকারের কঠোর নীতিমালা জারি

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি পুরোপুরি বন্ধে কঠোর নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১’ শিরোনামের এই পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো অবস্থাতেই প্রহার বা অশোভন আচরণ করা যাবে না। শিশুদের সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

নীতিমালার মূল দিকসমূহ

সরকারি এই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসাসহ সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম কার্যকর হবে। নীতিমালায় ‘শাস্তি’ বলতে মূলত দুটি বিষয়কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে:

১. শারীরিক শাস্তি: হাত-পা বা কোনো বস্তু (যেমন: বেত, চক, ডাস্টার) দিয়ে আঘাত করা, কান ধরে ওঠবস করানো, রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা, হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা কিংবা শ্রম আইনে নিষিদ্ধ এমন কোনো কাজ করানোকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া চিমটি কাটা, চুল টেনে ধরা বা ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

২. মানসিক শাস্তি: শ্রেণীকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর মা-বাবা, বংশ পরিচয়, বর্ণ বা ধর্ম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা, কোনো অশালীন অঙ্গভঙ্গি করা বা শিক্ষার্থীর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো আচরণকে মানসিক শাস্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও দায়বদ্ধতা

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও মামলা দায়ের করা যাবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের করণীয়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটিকে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:

  • প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে শারীরিক ও মানসিক শাস্তির কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

  • নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শাস্তিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

  • শিক্ষার্থীদের দিয়ে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কঠোর পরিশ্রমের কাজ না করানো।

  • অভিভাবকদের সচেতন করা যাতে তারা অহেতুক অভিযোগ উত্থাপন না করেন এবং শিশুদের বিকাশে সহায়তা করেন।

সরকারের লক্ষ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জানানো হয়, শিক্ষার পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করতে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই কঠোর নীতিমালা প্রয়োগের ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে আরও আগ্রহী হবে এবং তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে, যা দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, এই নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ, শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *