আউটসোর্সিং কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার নির্দেশ
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও দপ্তরে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় কর্মরত সেবা কর্মীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে এই প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সকল কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’-এর অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত এই চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, সরকারি কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। উক্ত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৫-এর উপ-অনুচ্ছেদ (ঙ)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেবা কর্মীদের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
প্রগতি স্কিমের অধীনে অন্তর্ভুক্তি
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি টেকসই পেনশন কাঠামোর আওতায় আনতে ২০২৩ সালে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন’ জারি করা হয়েছে। এই আইনের বিধি অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ চালু রয়েছে। এখন থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত সকল সেবা কর্মী এই ‘প্রগতি স্কিম’-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেনশনের সুবিধা পাবেন।
বাস্তবায়নে কড়াকড়ি
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীনে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মীদের দ্রুত এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ইমদাদ উল্লাহ।
কেন এই উদ্যোগ?
আউটসোর্সিং কর্মীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত থাকেন। তাদের এই সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার এই বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অবসরের পর বা নির্দিষ্ট বয়স শেষে এই কর্মীরা নিয়মিত মাসিক পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই নির্দেশনার অনুলিপি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।



