সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে নির্দেশনা: গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ লিটার বরাদ্দ
সরকারি যানবাহনে সিএনজি এবং জ্বালানি তেলের অপচয় রোধ ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন অধিশাখা থেকে আজ (১৩ এপ্রিল, ২০১০ / ৩০ চৈত্র, ১৪১৬ বঙ্গাব্দ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব মাহমুদা খাতুন।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি যানবাহনের ক্ষেত্রে সিএনজি অথবা জ্বালানি তেলের যেকোনো একটি জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে এবং গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বরাদ্দের নতুন পরিমাপ:
প্রজ্ঞাপনে সরকারি গাড়িগুলোর জন্য জ্বালানি প্রাপ্তির যোগ্যতা নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
সিএনজি (CNG): সিএনজি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ (তিনশত) ঘনমিটার সিএনজি বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
EFI/MPI ইঞ্জিন: সিএনজি চালিত যানে রূপান্তরিত ই.এফ.আই./এম.পি.এফ.আই. ইঞ্জিনের গাড়ি চালু করার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) লিটার পেট্রোল অথবা অকটেন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
কার্বুরেটর ইঞ্জিন: রূপান্তরিত কার্বুরেটর ইঞ্জিনের গাড়ি চালু রাখার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১৫ (পনেরো) লিটার পেট্রোল অথবা অকটেন বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
জ্বালানি তেল: যেসব সরকারি গাড়ি শুধুমাত্র জ্বালানি তেলে চলে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ (দুইশত) লিটার তেল বরাদ্দ করা হয়েছে।
১০% জ্বালানি ব্যয় হ্রাসের নির্দেশ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি ছুটি দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) করার কারণে জরুরি অপারেশনাল কাজ ব্যাহত না করে সকল সরকারি অফিসের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে ১০% জ্বালানি ব্যয় হ্রাস করতে হবে।
পূর্বের আদেশ বাতিল ও অবিলম্বে কার্যকর
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে ২০০৪ এবং ১৯৯৮ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন [স্মারক নং: সম(পরিবহণ)-সিএনজি-১০/২০০৩-৫০১ এবং সম(পরিবহণ)-১০/৯৭-১৩৭(২০০)] এর আদেশ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক, পরিবহন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।



