শাস্তি । সাময়িক বরখাস্ত । অপসারণ

জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের দায়ে নির্বাচন কমিশনের অফিস সহকারীর বেতন গ্রেড অবনমন

নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধ অর্থ লেনদেন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অপরাধে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এক অফিস সহকারীকে “বেতন গ্রেড অবনমিতকরণ” দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ ১০ মে ২০২৬ (২৭ বৈশাখ ১৪৩৩) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ডি এম আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীর নাম জনাব মো: আবু সুফিয়ান মোল্লা (পরিচিতি নম্বর- ৬২০০১২২৫)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা নির্বাচন অফিসে ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনার পর থেকে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে গ্রেড-১৩ হতে গ্রেড-২০ এর কর্মচারীদের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালীন এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ‘অফিস সহায়ক’ পদের পরীক্ষার্থী জনাব আবদুল আলিমের (রোল নং- ২৭০১১৬৬৭) পরীক্ষা অন্য এক ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়ানোর ব্যবস্থা করেন আবু সুফিয়ান মোল্লা।

এই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ওই পরীক্ষার্থীর সাথে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকার চুক্তি করা হয়। পরবর্তীতে গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মৌখিক পরীক্ষার সময় হাতের লেখার অমিল পাওয়ায় পরীক্ষার্থী আবদুল আলিম হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সে সময় পরীক্ষার্থী তার জালিয়াতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি আবু সুফিয়ান মোল্লার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা প্রেরণের তাৎক্ষণিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তদন্তে ব্যাংকিং তথ্যানুসারে এই টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত

এই অপরাধের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা (মামলা নম্বর- ০৪/২০২৫) রুজু করা হয়।

অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান মোল্লা লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা প্রকাশ করলে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁর শুনানি গ্রহণ করা হয়। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরবর্তীতে ২ (দুই) সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত বোর্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪(২)(ঘ) মোতাবেক অভিযুক্তকে “বেতন গ্রেডের নিম্নতম ধাপে অবনমিতকরণ” দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • আদেশের ফলে তাঁর বর্তমান মূল বেতন ২০,৩৯০/- (বিশ হাজার তিনশত নব্বই) টাকা হতে অবনমন করে ৯,৩০০/- (নয় হাজার তিনশত) টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • একই সাথে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়কাল কর্তব্যকাল হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিধি মোতাবেক বকেয়াসহ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।

এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের তদন্তাধীন বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *