পে স্কেল বাস্তবায়নে আশাবাদী কর্মচারী নেতারা : ‘ক্রেডিট নয়, কর্মচারীদের মুখে হাসি দেখাই আমাদের লক্ষ্য’
সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল বা মহার্ঘ ভাতা বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য নির্ধারণী এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কর্মচারী কল্যাণ ও দাবি আদায়ে নিয়োজিত অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্ব আব্দুল মালেক একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি নেতৃত্বের ত্যাগ ও মূল লক্ষ্য পরিষ্কার করেছেন।
যৌথ নেতৃত্বের অন্যতম সংগঠক আশিক-এর প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মালেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা বিভিন্ন সূত্রে কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ! আমি মালেক – আশিক কোন ক্রেডিট চাইনা, কারো ধন্যবাদ চাইনা, ২২ লাখ ধন্যবাদ বিক্রি করলেও এক কাপ চায়ের দাম হবে না! হবে? সুতারাং আমরা চাই শুধু কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটুক, সবাই ভালো থাকুক, আমরা শুধু আপনাদের দোয়া চাই!”
নেতৃবৃন্দের নিঃস্বার্থ অবস্থান ও তথ্যাদি বিশ্লেষণ
আব্দুল মালেকের এই বক্তব্যটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান আন্দোলন ও মনস্তাত্ত্বিক দিকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে ওঠে:
দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ: বক্তব্যের শুরুতেই “ইনশাআল্লাহ” শব্দের ব্যবহার এবং পে স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা কর্মচারীদের মাঝে স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নেতৃবৃন্দ সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ইতিবাচক সংকেত বা অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই এমন জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রেডিট বা কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা বর্জন: সাধারণ কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনেক সময় নেতৃত্বের মাঝে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার এক ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কিন্তু মালেক-আশিক জুটির এই স্পষ্ট অবস্থান প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি স্বার্থ বা সস্তা জনপ্রিয়তা নয়, বরং ২২ লাখ কর্মচারীর রুটি-রুজির অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের মূল এজেন্ডা।
ধন্যবাদ বা স্তুতির চেয়ে অধিকার বড়: “২২ লাখ ধন্যবাদ বিক্রি করলেও এক কাপ চায়ের দাম হবে না”—এই বাস্তবধর্মী ও আবেগঘন মন্তব্যটির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ফাঁকা ধন্যবাদ বা সস্তা প্রশংসায় সাধারণ কর্মচারীদের পকেটের টান দূর হবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক স্বস্তি একমাত্র পে স্কেল বা বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব।
২২ লাখ কর্মচারীর মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়
বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী নতুন একটি জাতীয় পে স্কেল বা অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ কর্মচারী নেতাদের এমন নিঃস্বার্থ ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সাধারণ কর্মচারীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা কোনো ব্যক্তিগত উপাধি বা বাহবা চান না, বরং তাদের একমাত্র চাওয়া—সব বাধা পেরিয়ে যেন দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয় এবং কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটে।
উপসংহার
কর্মচারী নেতা আব্দুল মালেকের এই বার্তাটি মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শুধু “দোয়া” এবং “কর্মচারীদের কল্যাণ” চাওয়ার এই মানসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ চাকুরিজীবীরা। এখন দেখার বিষয়, নেতৃবৃন্দের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এবং ২২ লাখ কর্মচারীর এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার কবে নাগাদ নতুন পে স্কেল বা আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়।


