৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

টিফিন নয়, চাই ‘লাঞ্চ ভাতা’: সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বাস্তবতা

সরকারি দপ্তরে কর্মরত লাখো কর্মচারীর জন্য বিদ্যমান নামমাত্র ‘টিফিন ভাতা’র পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ‘লাঞ্চ ভাতা’ (দুপুরের খাবার ভাতা) প্রবর্তনের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাজারে প্রতিদিনের সামান্য টিফিন ভাতা নিয়ে কর্মচারীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। নতুন পে স্কেলে দৈনিক ১৫০ টাকা লাঞ্চ ভাতা চালুর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও দাবি উত্থাপিত হচ্ছে।

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও বাসি খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অফিসে দায়িত্ব পালন করতে হয়। যানজট ও দূরত্বের কারণে রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে কর্মচারীদের ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বাসা থেকে বের হতে হয়।

দীর্ঘ সময় অফিসে অবস্থানের কারণে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • খাবার নষ্ট হওয়া: এত ভোরে তৈরি করা খাবার দুপুরে খাওয়ার সময় নাগাদ অনেক সময়ই বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত বা নষ্ট হয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

  • আর্থিক চাপ: প্রতিদিন বাইরে হোটেল থেকে কিনে খাওয়া সাধারণ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ব্যাংক খাতের তুলনায় বৈষম্য

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আকর্ষণীয় লাঞ্চ এলাউন্স বা দুপুরের খাবারের ভাতা চালু রয়েছে। অথচ সমপরিমাণ বা কখনো কখনো বেশি সময় ধরে পরিশ্রম করেও সরকারি কর্মচারীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্য দূর করে ব্যাংকিং খাতের মতো সরকারি দপ্তরেও লাঞ্চ ভাতা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

দৈনিক ৬ টাকার ‘টিফিন ভাতা’ নিয়ে ক্ষোভ

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা দৈনিক মাত্র ৬ টাকা হারে (মাসে প্রায় ১৫০-২০০ টাকা) টিফিন ভাতা পেয়ে থাকেন। বর্তমান বাজারদরে যেখানে একটি ডিম বা এক কাপ চায়ের দামও ১০-১৫ টাকা, সেখানে দৈনিক ৬ টাকার টিফিন ভাতার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মচারীরা। এটিকে তারা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ও ‘উপহাস’ বলে মনে করছেন।

কর্মচারীদের মূল দাবি: “দৈনিক নামমাত্র ৬ টাকার টিফিন ভাতা সম্পূর্ণ বাতিল করে, আসন্ন নতুন পে স্কেলে প্রতিদিনের জন্য ন্যূনতম ১৫০ টাকা লাঞ্চ ভাতা কার্যকর করতে হবে।”

বিশ্লেষকদের মতামত

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দুপুর বেলা পুষ্টিকর ও ভালো খাবার নিশ্চিত করা গেলে কাজের গতি আরও বাড়বে। তাই আসন্ন নতুন বেতন কাঠামোতে এই দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা সরকারের উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি কর্মচারীদের আশা, সরকার তাদের এই দীর্ঘদিনের মানবিক ও যৌক্তিক দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নতুন পে স্কেলে ‘লাঞ্চ ভাতা’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *