সচিবালয়ের ন্যায় অন্যান্য দপ্তরের পদবি পরিবর্তন ও ১০ম গ্রেডের দাবি: বৈষম্য নিরসনে এক দফা আন্দোলনের ডাক
সচিবালয়ের ন্যায় অন্যান্য সকল সরকারি দপ্তরের উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী ও সহকারী পদগুলোকে পদবি পরিবর্তনপূর্বক ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ করাসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের জোর দাবি উঠেছে। কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে প্রজাতন্ত্রের মাঠপর্যায় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা একে অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে পদবি ও বেতন বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সমমানের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মচারীরা যে ধরনের পদবিগত মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা (১০ম গ্রেড) পেয়ে থাকেন, মাঠপর্যায় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
“এক দফা, এক দাবি—সচিবালয়ের ন্যায় পদ-পদবী” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলেন, “সচিবালয়ের ন্যায় অন্যান্য সকল দপ্তরের উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী ও সহকারী পদগুলোকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক!”
আন্দোলনরত প্রতিনিধিরা জানান, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করেন এই উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী ও সহকারীরা। অথচ বছরের পর বছর ধরে পদোন্নতি ও গ্রেড উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে তাদের চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মচারীদের মধ্যে পেশাগত হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা ও কার্যকারিতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মচারীদের প্রধান দাবিসমূহ: ১. সকল সরকারি দপ্তরের উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী ও সমমানের সহকারী পদগুলোর পদবি পরিবর্তন করে অবিলম্বে ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ করতে হবে।
২. বেতন কাঠামো পরিবর্তন করে বৈষম্যহীনভাবে ১০ম গ্রেডে (২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা মর্যাদা) উন্নীত করতে হবে।
৩. কর্মক্ষেত্রে সকল প্রকার স্তরভিত্তিক বৈষম্য নিরসন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি চাকরিতে আমূল সংস্কার এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের কাঠামোগত ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্যগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। অন্যথায়, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। কর্মচারীদের এই ন্যায্য দাবির পক্ষে সাধারণ স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


