পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়বে ৮ ধাপে, কোন বছরে কত শতাংশ পাওয়া যাবে জেনে নিন

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন নির্ধারণের নিয়ম নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত ধরা হয়েছে। চাকরিকাল যত বাড়বে, সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ওপর নির্ধারিত পেনশনের হারও তত বাড়বে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৫ থেকে ২৫ বছরের ক্ষেত্রে ২১% থেকে ৯০% পর্যন্ত যে গ্রস পেনশন হার রয়েছে, সেটি মূলত বহাল রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের হার ৫ বছর চাকরিতে ২১ শতাংশ থেকে শুরু হয়ে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশে পৌঁছাবে।

চাকরিকাল অনুযায়ী কত শতাংশ পেনশন?

সহজভাবে বিষয়টি বুঝতে নিচের তালিকাটি দেখুন—

পেনশনযোগ্য চাকরিকালসর্বশেষ মূল বেতনের যে হারে গ্রস পেনশন
৫ বছর২১%
১০ বছর৩৬%
১৫ বছর৫৪%
২০ বছর৭২%
২১ বছর৭৫%
২২ বছর৭৯%
২৩ বছর৮৩%
২৪ বছর৮৭%
২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব৯০%

অর্থাৎ, ২৫ বছর বা তার বেশি পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ করলে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

৫ বছর চাকরিতে ২১ শতাংশ

কোনো সরকারি কর্মচারীর পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর হলে সর্বশেষ মূল বেতনের ২১ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে। চাকরিকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হারও ধাপে ধাপে বাড়বে।

১০ বছর চাকরিতে ৩৬ শতাংশ

১০ বছর পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ হলে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ৩৬ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

১৫ বছর চাকরিতে ৫৪ শতাংশ

চাকরিকাল ১৫ বছর পূর্ণ হলে পেনশনের হার বেড়ে হবে ৫৪ শতাংশ

২০ বছর চাকরিতে ৭২ শতাংশ

২০ বছর পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ হলে সর্বশেষ মূল বেতনের ৭২ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

২১ থেকে ২৪ বছরে প্রতিবছর বাড়বে পেনশনের হার

২০ বছর পার হওয়ার পর পেনশনের হার আরও দ্রুত বাড়বে। নতুন কাঠামোয়—

  • ২১ বছর: ৭৫ শতাংশ
  • ২২ বছর: ৭৯ শতাংশ
  • ২৩ বছর: ৮৩ শতাংশ
  • ২৪ বছর: ৮৭ শতাংশ

অর্থাৎ ২১ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর চাকরিকাল বৃদ্ধির সঙ্গে পেনশনের হারও বাড়বে।

২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২৫ বছর বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে। সরকারি পেনশন সংক্রান্ত বিদ্যমান কাঠামোতেও ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকে পূর্ণ পেনশনের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

একটি উদাহরণ

ধরা যাক, একজন সরকারি কর্মচারী অবসরের সময় সর্বশেষ মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা পাচ্ছেন। শুধু বোঝার সুবিধার জন্য গ্রস পেনশনের হার প্রয়োগ করলে—

চাকরিকালহার৫০,০০০ টাকা মূল বেতনের ভিত্তিতে গ্রস পেনশন
৫ বছর২১%১০,৫০০ টাকা
১০ বছর৩৬%১৮,০০০ টাকা
১৫ বছর৫৪%২৭,০০০ টাকা
২০ বছর৭২%৩৬,০০০ টাকা
২১ বছর৭৫%৩৭,৫০০ টাকা
২২ বছর৭৯%৩৯,৫০০ টাকা
২৩ বছর৮৩%৪১,৫০০ টাকা
২৪ বছর৮৭%৪৩,৫০০ টাকা
২৫ বছর বা বেশি৯০%৪৫,০০০ টাকা

তবে এটি কেবল গ্রস পেনশন হারের উদাহরণ। বাস্তবে কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত প্রাপ্যতা নির্ধারণের সময় প্রযোজ্য পেনশন বিধি, চাকরিকাল, অবসরকালীন মূল বেতন, নিট পেনশন, আনুতোষিকসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

৫ বছরের কম চাকরিতে কী হবে?

পেনশনযোগ্য চাকরিকালের কাঠামো ৫ বছর থেকে শুরু হয়েছে। সরকারি নথিতেও ৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত পেনশনযোগ্য চাকরিকালের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের চাকরিকালের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত; যেমন নিয়মিত পেনশনযোগ্য চাকরির অবসান, কর্মচারীর মৃত্যু বা মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষণার মতো পরিস্থিতি রয়েছে।

শুধু পেনশন হার নয়, নিট পেনশনেও পরিবর্তন

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলাদা করে বোঝা দরকার। চাকরিকাল অনুযায়ী ২১%–৯০% গ্রস পেনশন হারকে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না; এই হার বহাল রাখা হয়েছে। বরং ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিদ্যমান পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ ও বৃদ্ধির বিষয়েও নতুন প্রজ্ঞাপনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর ধরা হয়েছে এবং নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণে বিভিন্ন স্তরের জন্য ভিন্ন হারে বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের কথাও জানানো হয়েছে।

ছুটি নগদায়নও থাকছে

নতুন সিদ্ধান্তে অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন করার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এই আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সারকথা

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন পেনশন নির্ধারণে চাকরিকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ৫ বছর চাকরিতে ২১%, ১০ বছরে ৩৬%, ১৫ বছরে ৫৪%, ২০ বছরে ৭২%, ২১ বছরে ৭৫%, ২২ বছরে ৭৯%, ২৩ বছরে ৮৩%, ২৪ বছরে ৮৭% এবং ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০% হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

তাই “৮ ধাপে” বলা হলেও পূর্ণ হারগুলো দেখলে ৫, ১০, ১৫, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪ এবং ২৫+—এভাবে ৯টি চাকরিকাল-পয়েন্ট দেখা যায়। ২১ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত প্রতিটি বছর আলাদা হার হওয়ায় এই পার্থক্যটি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মূল বিষয়: ২৫ বছর বা তার বেশি পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ হলে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *