সরকারি গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহারে কড়াকড়ি, মাসিক নির্ধারিত সীমা মানার নির্দেশ
সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে নির্ধারিত বরাদ্দসীমা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগে অতিরিক্ত নেওয়া জ্বালানি পরবর্তী মাসগুলোর বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক অফিস স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্মারকের বিষয় ‘সরকারি যানবাহন ব্যবহারে জ্বালানির নির্ধারিত প্রাপ্যতা বজায় রাখা’। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটও সরকারি নোটিশ ও পরিপত্র প্রকাশের নিয়মিত উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গাড়িপ্রতি মাসে ৩০০ ঘনমিটার সিএনজি
অধিদপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি যানবাহন জ্বালানি ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী সিএনজি (গ্যাস) জ্বালানির প্রাপ্যতা গাড়িপ্রতি মাসে ৩০০ ঘনমিটার এবং জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা গাড়িপ্রতি মাসে ১৮০ লিটার।
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক জ্বালানি গ্রহণের একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে। এই সীমার বাইরে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি গ্রহণ না করার বিষয়টিই নতুন করে জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গাড়িতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ
স্মারকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন কিছু যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার রুটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়িগুলোতে সিএনজি বা জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত এবং ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণ জ্বালানি নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারের নীতিমালা পরিপালন হচ্ছে না বলে অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে।
অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারে অডিট আপত্তি
অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। এতে বলা হয়, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বিগত অর্থবছরে বিপুল অঙ্কের অর্থ-সংশ্লিষ্ট অডিট আপত্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি অর্থের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং ভবিষ্যতে অডিট আপত্তি কমানোর লক্ষ্যেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে চিঠির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয়সংকোচন ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের সঙ্গেও বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৬ সালে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর বিষয়ে সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আগে অতিরিক্ত নেওয়া জ্বালানি কীভাবে সমন্বয় হবে?
নির্দেশনায় শুধু ভবিষ্যতে সীমা মেনে চলার কথা বলা হয়নি; আগে অতিরিক্ত নেওয়া জ্বালানিও পরবর্তী মাসগুলোর বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।
চিঠির দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, সরকারি যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বরাদ্দসীমার মধ্যে জ্বালানি গ্রহণের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ইতঃপূর্বে গ্রহণ করা অতিরিক্ত জ্বালানি পরবর্তী মাসসমূহের বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
ফলে কোনো গাড়ি অতীতে নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি নিয়ে থাকলে ভবিষ্যৎ মাসে তার বরাদ্দ থেকে সেই অতিরিক্ত ব্যবহারের সমন্বয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে—চিঠির নির্দেশনার মূল অর্থ এটাই।
কারা এই নির্দেশনার আওতায়?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শাখাকে স্মারকটি পাঠানো হয়েছে। বিতরণ তালিকায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাব কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশনা?
সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যয় সরাসরি সরকারি অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে গাড়িপ্রতি নির্ধারিত জ্বালানি সীমা মানা হলে একদিকে যেমন বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকিও কমানো যায়।
বিশেষ করে কোনো গাড়িতে নিয়মিতভাবে নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি ব্যবহার হলে শুধু অতিরিক্ত ব্যয়ই হয় না; পরবর্তী সময়ে হিসাব নিরীক্ষার সময় ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে আগের অর্থবছরের অডিট আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করার মাধ্যমে এ ঝুঁকির কথাই সামনে আনা হয়েছে।
সরকারি যানবাহন ব্যবহারে নতুন করে নজরদারি
নির্দেশনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর মাসিক জ্বালানি গ্রহণের হিসাব আরও গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। কোন গাড়ি কত লিটার জ্বালানি তেল বা কত ঘনমিটার সিএনজি নিয়েছে, নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে কি না এবং অতিরিক্ত গ্রহণ করা হলে তা পরবর্তী মাসে কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে—এসব বিষয় প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চিঠিতে গাড়িপ্রতি মাসিক ১৮০ লিটার জ্বালানি তেল এবং ৩০০ ঘনমিটার সিএনজির সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্দেশনার মূল বিষয় এক নজরে
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| সিএনজি বরাদ্দ | গাড়িপ্রতি মাসে ৩০০ ঘনমিটার |
| জ্বালানি তেল | গাড়িপ্রতি মাসে ১৮০ লিটার |
| অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয় | কিছু গাড়িতে বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যবহারের কথা উল্লেখ |
| অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব | অডিট আপত্তি সৃষ্টি হয়েছে |
| ভবিষ্যৎ করণীয় | নির্ধারিত বরাদ্দসীমার মধ্যে জ্বালানি গ্রহণ |
| পূর্বের অতিরিক্ত জ্বালানি | পরবর্তী মাসগুলোর বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয় |
| নির্দেশদাতা | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর |
| চিঠির তারিখ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
সারকথা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন স্মারকের মাধ্যমে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারে পরিমাণগত সীমা এবং হিসাবভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরও স্পষ্ট করা হলো। গাড়িপ্রতি মাসে ৩০০ ঘনমিটার সিএনজি অথবা ১৮০ লিটার জ্বালানি তেলের নির্ধারিত প্রাপ্যতা অতিক্রম না করার পাশাপাশি পূর্বে নেওয়া অতিরিক্ত জ্বালানি পরবর্তী মাসগুলোর বরাদ্দে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও সতর্কভাবে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে যে অডিট আপত্তির কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তা কমানো এবং সরকারি অর্থের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখাও এই নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।


