১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পিআরএলে যাওয়া কর্মচারীরা কি নবম পে স্কেলের আওতায় আসবেন?
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) বা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর সুবিধা পাওয়া নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পিআরএলে থাকা অবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ায় তাঁদের পেনশন, গ্রস পেনশন, নিট পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরকালীন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে অর্থ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনও ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সরকারি নথির ভিত্তিতে বিষয়টি দেখলে পিআরএলে থাকা কর্মচারী এবং ইতোমধ্যে পেনশনভোগী ব্যক্তিদের বিষয়টি আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন।
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পিআরএলে গেলে কী হবে?
ধরা যাক, কোনো সরকারি কর্মচারী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পিআরএলে গেলেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পিআরএল শেষে তাঁর অবসর কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার সময় তিনি কর্মরত অফিসে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলেও তাঁর অবসর ও পেনশন-সংক্রান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন বিধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু ‘পিআরএলে ছিলেন’—এই কারণে একজন কর্মচারীকে নবম পে স্কেলের পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি নেওয়া ঠিক হবে না।
নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পেনশনসংক্রান্ত বিধানে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে বিভিন্ন শ্রেণিতে পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নতুন কাঠামোতে পুনর্নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পিআরএল ও পেনশন—দুটি বিষয় আলাদা
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পিআরএল এবং পেনশনভোগী হওয়া একই বিষয় নয়।
পিআরএল হলো চাকরির শেষ পর্যায়ের ছুটি। অন্যদিকে পেনশন কার্যকর হয় অবসর গ্রহণের পর। তাই ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পিআরএলে যাওয়া কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাঁর প্রকৃত অবসর কার্যকরের তারিখ, পেনশন মঞ্জুরির তারিখ এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাঁর অবস্থান—এসব বিষয় হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সুতরাং শুধু পিআরএলে যাওয়ার তারিখ দেখে চূড়ান্তভাবে বলা ঠিক হবে না যে সবার পেনশন একইভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন ও অবসরকালীন সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পেনশনের ক্ষেত্রেও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের বিদ্যমান নিট পেনশনকে ভিত্তি করে নতুন কাঠামোতে হিসাবের বিধান করা হয়েছে। ফলে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে অবসর-প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে ছিলেন এবং কখন পেনশনভোগী হয়েছেন—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিট পেনশন কতটা বাড়তে পারে?
নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যমান নিট পেনশনের ওপর বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশিত বিধান অনুযায়ী—
- ৯,০০০ টাকা বা কম নিট পেনশন: ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি
- ৯,০০১–২০,০০০ টাকা: ৭৫ শতাংশ
- ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা: ৬৫ শতাংশ
- ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা: ৬০ শতাংশ
- ৪০,০০১ টাকা বা বেশি: ৫৫ শতাংশ
তবে নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নিট পেনশনের সীমা ৭০,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখানে মনে রাখতে হবে, এগুলো নতুন পেনশন নির্ধারণের বিধান। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ভর করবে তাঁর অবসরকালীন বেতন, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, বিদ্যমান নিট পেনশন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধানের ওপর।
গ্রস পেনশন ও নিট পেনশন কি একইভাবে হিসাব হবে?
না। গ্রস পেনশন ও নিট পেনশন এক বিষয় নয়।
নতুন আদেশে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের বিদ্যমান হার বহাল রেখে নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। ফলে একজন পিআরএলভোগীর ক্ষেত্রে শেষ বেতন, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশন নির্ধারণের হার এবং প্রযোজ্য কর্তন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত পেনশন নির্ধারণ করতে হবে।
তাহলে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পিআরএলে যাওয়া ব্যক্তিরা কী সুবিধা পাবেন?
সাধারণভাবে বিষয়টি এভাবে বোঝা যায়—
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: পিআরএলে গেলেন
↓
১ জুলাই ২০২৬: নবম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর
↓
পিআরএল শেষে অবসর: অবসর-পরবর্তী পেনশন নির্ধারণ
↓
নতুন আদেশ অনুযায়ী: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেনশন পুনর্নির্ধারণ
↓
নিট পেনশন: ৩০ জুন ২০২৬-এর ভিত্তি ও নতুন বিধান অনুযায়ী হিসাব
↓
গ্রস পেনশন/আনুতোষিক: সংশ্লিষ্ট পেনশন বিধান ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ
অতএব, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পিআরএলে যাওয়া মানেই নবম পে স্কেলের পেনশন সুবিধা থেকে বাদ পড়া নয়। বরং যাঁদের অবসর ও পেনশন ১ জুলাই ২০২৬-পরবর্তী বিধানের আওতায় পড়ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অবসরকালীন বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
‘সবাই নিশ্চিতভাবে দ্বিগুণ পেনশন পাবেন’—এমন সাধারণ বক্তব্যও সঠিক হবে না। কারণ পেনশনের নতুন সুবিধা নির্ধারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান নিট পেনশন, অবসর কার্যকরের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেনশনযোগ্য চাকরিকালসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।
বিশেষ করে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পিআরএলে যাওয়া ব্যক্তির অবসর গ্রহণের প্রকৃত তারিখ না জানলে ব্যক্তিগত পেনশন কত হবে তা নির্ভুলভাবে বলা সম্ভব নয়।
সারকথা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পিআরএলে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু পিআরএলে যাওয়ার কারণে নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অবসরকালীন সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার কথা নয়। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বেতন স্কেলে অবসরভোগীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুবিধা নির্ধারণ হবে তাঁর অবসর তারিখ, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, ৩০ জুন ২০২৬-এর পেনশন এবং নতুন পেনশন আদেশের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী। অর্থ বিভাগের ২০২৬ সালের আদেশ ও অবসরকালীন সুবিধা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনই এ ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি।
তাই ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পিআরএলে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য মূল কথা হলো—পিআরএল শুরু হওয়ার তারিখ নয়, বরং অবসর কার্যকর হওয়ার তারিখ ও সংশ্লিষ্ট পেনশন বিধান দেখে চূড়ান্ত হিসাব করতে হবে।



