ঈদ বোনাস I নববর্ষ । দূর্গাপূজা

উৎসব ভাতা ২০২৬: নতুন পে স্কেলে বেতন ফিক্সেশন হলেও কি এরিয়ার বা বকেয়া পাওয়া যাবে?

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো–২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো—আগে পাওয়া উৎসব ভাতা নতুন বেসিক বেতনের ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণ করে অতিরিক্ত টাকা বা এরিয়ার পাওয়া যাবে কি না। নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে।

অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। একই আদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি গেজেটেও প্রকাশিত হয়।

উৎসব ভাতা নিয়ে প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে?

নতুন বেতন-ভাতা আদেশের ধারা ১৭-তে উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস (রেক্রিয়েশন অ্যালাউন্স) রুলস, ১৯৭৯ অনুযায়ী শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রদান করা হবে।

তবে ধারা ১৭-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—কোনো উৎসব ভাতা একবার উত্তোলন করা হয়ে গেলে পরবর্তীকালে বেতন নির্ধারণজনিত (Pay Fixation) কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ওই উৎসব ভাতার কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না।

অর্থাৎ নতুন পে স্কেলে বেতন ফিক্সেশন করার পর আগের কোনো উৎসব ভাতা পুনরায় হিসাব করে তার পার্থক্যের টাকা দেওয়ার সুযোগ ধারা ১৭-এ রাখা হয়নি।


তাহলে ২০২৬ সালের উৎসব ভাতার এরিয়ার হবে কি?

সাধারণভাবে হবে না।

বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক।

ধরা যাক, কোনো সরকারি কর্মচারী নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার আগে প্রচলিত বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে একটি উৎসব ভাতা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তার বেতন Pay Fixation করে নতুন পে স্কেলে নির্ধারণ করা হলো।

নতুন ফিক্সেশনের ফলে তার মূল বেতন আগের তুলনায় বেড়ে গেলেও, আগে উত্তোলন করা উৎসব ভাতাকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে পুনরায় হিসাব করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিধান নেই।

অর্থাৎ—

আগে উৎসব ভাতা উত্তোলন → পরে Pay Fixation → বেসিক বেতন বৃদ্ধি → আগের উৎসব ভাতার পার্থক্য হিসেবে নতুন করে টাকা নয়।

এটাই ২০২৬ সালের নতুন বেতন-ভাতা আদেশের ধারা ১৭-এর মূল বক্তব্য।


বেতন এরিয়ার সঙ্গে উৎসব ভাতার এরিয়ার পার্থক্য

এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। নতুন পে স্কেলের কারণে বেতন বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি এবং উৎসব ভাতার বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি এক নয়।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি গেজেটে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট তালিকাতেও রয়েছে।

ফলে Pay Fixation-এর পর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী যেসব বেতন-সংক্রান্ত পাওনা সৃষ্টি হবে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী হিসাব হতে পারে। কিন্তু একবার উত্তোলন করা উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে Pay Fixation-এর কারণে অতিরিক্ত বকেয়া দেওয়ার বিষয়টি ধারা ১৭ স্পষ্টভাবে বাদ দিয়েছে।

সহজভাবে পার্থক্যটি

বিষয়Pay Fixation-এর প্রভাব
নতুন পে স্কেলে মূল বেতনপ্রযোজ্য
নতুন বেতন অনুযায়ী বেতন বকেয়াসংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য হতে পারে
আগে উত্তোলন করা উৎসব ভাতাপুনরায় হিসাব হবে না
উৎসব ভাতার Pay Fixation-জনিত পার্থক্যবকেয়া প্রাপ্য নয়
ভবিষ্যতে নতুন নিয়মে উৎসব ভাতাপ্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য

উৎসব ভাতা কি নতুন পে স্কেলে বাতিল হয়েছে?

না।

নতুন পে-স্কেলে উৎসব ভাতা বাতিল করা হয়নি। বরং ধারা ১৭-তে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী বার্ষিক উৎসব ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের উৎসব ভাতার অধিকার বহাল রয়েছে; পরিবর্তনটি মূলত Pay Fixation-এর পর আগে উত্তোলন করা উৎসব ভাতার পুনঃসমন্বয় বা বকেয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে।

নতুন বেতন কাঠামোতে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধার হার ও বিধান নিয়ে পরিবর্তন আনা হলেও উৎসব ভাতার মূল নিয়ম আলাদা ধারায় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উৎসব ভাতার নিয়ম বহাল থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।


অবসরপ্রাপ্ত ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা বিধান

ধারা ১৭-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের উৎসব ভাতা।

প্রজ্ঞাপনের বিধান অনুযায়ী, প্রচলিত নিয়মে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশনের সমপরিমাণ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা বহাল থাকবে।

অর্থাৎ কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের উৎসব ভাতা এবং পেনশনভোগীদের উৎসব ভাতার বিধান একইভাবে দেখা যাবে না; উভয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে।


কেন এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণের সময় অনেক কর্মচারীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেসিক কার্যকর হলে আগে পাওয়া উৎসব ভাতাও কি নতুন বেসিক অনুযায়ী সমন্বয় হবে?

প্রজ্ঞাপনের ধারা ১৭ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়েছে।

একবার উৎসব ভাতা উত্তোলন হয়ে গেলে শুধু পরবর্তীতে Pay Fixation হওয়ার কারণে সেই ভাতার অতিরিক্ত অংশ দাবি করা যাবে না।

ফলে কেউ যদি হিসাব করেন—“নতুন বেসিক যত বেড়েছে, আগের উৎসব ভাতাতেও সেই অনুপাতে টাকা বাকি আছে”—তাহলে ধারা ১৭ অনুযায়ী সেই ধারণা সঠিক নয়।


নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে এখন মূল গুরুত্ব Pay Fixation

২০২৬ সালের নতুন বেতন-ভাতা আদেশ ইতোমধ্যে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ বিভাগও ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ করেছে।

এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নতুন পে স্কেল অনুযায়ী Pay Fixation, যার মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

তবে Pay Fixation-এর হিসাব করতে গিয়ে মূল বেতন, বেতন বকেয়া, বিভিন্ন ভাতা এবং উৎসব ভাতা—সবগুলোকে একই নিয়মে হিসাব করা যাবে না। প্রত্যেকটির জন্য সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধান দেখতে হবে।

শেষ কথা

নতুন পে স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী উৎসব ভাতা চালু রয়েছে, কিন্তু আগে উত্তোলন করা উৎসব ভাতা পরবর্তীতে Pay Fixation-এর কারণে পুনর্নির্ধারণ করে এরিয়ার/বকেয়া নেওয়ার সুযোগ ধারা ১৭-তে রাখা হয়নি। তাই নতুন পে স্কেলে বেসিক বেতন বেড়ে গেলেও আগেই উত্তোলন করা উৎসব ভাতার সঙ্গে নতুন বেসিকের পার্থক্য হিসেবে অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার কথা নয়।

অন্যদিকে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কারণে বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্যের যে বকেয়া সৃষ্টি হবে, সেটি আলাদা হিসাবের বিষয়। সেগুলো উৎসব ভাতার বকেয়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

সূত্র: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়—‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’; বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের ২০২৬ সালের গেজেট।

উৎসব ভাতা ২০২৬

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *