১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা: দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণে জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপন
১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা: দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণে জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ অক্টোবর ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। এর বিপরীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর ছুটি রাখা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের ছুটির সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্গাপূজার সময় টানা ছুটির সুযোগ তৈরি করা এবং কর্মদিবসের সঙ্গে ছুটির সমন্বয় করা।
১৭ অক্টোবর শনিবার কেন অফিস খোলা?
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ১৭ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে দিনটিকে কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সাধারণ নিয়মে ১৭ অক্টোবর শনিবার হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও এবার ওই দিন অফিস-আদালতসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এর বিনিময়ে দুর্গাপূজার সময় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
ছুটির নতুন হিসাব
| তারিখ | বার | অবস্থা |
|---|---|---|
| ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | শনিবার | অফিস খোলা |
| ১৮ অক্টোবর | রবিবার | কর্মদিবস |
| ১৯ অক্টোবর | সোমবার | কর্মদিবস |
| ২০ অক্টোবর | মঙ্গলবার | দুর্গাপূজার ছুটি |
| ২১ অক্টোবর | বুধবার | দুর্গাপূজার ছুটি |
| ২২ অক্টোবর | বৃহস্পতিবার | দুর্গাপূজার ছুটি |
| ২৩ অক্টোবর | শুক্রবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
| ২৪ অক্টোবর | শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কোন কোন অফিস ১৭ অক্টোবর খোলা থাকবে?
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর শনিবার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু মন্ত্রণালয় বা সরকারি দপ্তর নয়, ছুটির সমন্বয়ের আওতায় বেসরকারি অফিসগুলোকেও ওই শনিবার কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
জরুরি সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা
প্রজ্ঞাপনে জরুরি পরিষেবাগুলোকে সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ছুটির সময়ও জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- বিদ্যুৎ
- পানি
- গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি
- ফায়ার সার্ভিস
- বন্দর কার্যক্রম
- পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
- টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা
- ডাকসেবা
- এসব সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী
- হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা
- জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী
- চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী
- ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট কর্মী
এ ছাড়া জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও ছুটির সাধারণ বিধানের বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।
ব্যাংক খোলার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত?
ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর ব্যাংকিং কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন কোন শাখা বা অফিস খোলা থাকবে এবং ছুটির দিনে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে চলবে—সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
তাই সরকারি অফিস খোলার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যাংকের কার্যক্রমকে সরাসরি একই নিয়মে দেখার সুযোগ নেই; ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক নির্দেশনা কার্যকর হবে।
আদালতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা
আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ১৭ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম বা পরবর্তী ছুটির সময়ে বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
বেসরকারি শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে কী হবে?
প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সাধারণ সিদ্ধান্ত থাকলেও শিল্প-কারখানা ও শ্রমিকদের ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শ্রম আইন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।
কেন এই পরিবর্তন করা হলো?
সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে টানা ছুটি নিশ্চিত করার জন্য।
আগের ছুটির কাঠামোর পরিবর্তে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারকে ছুটির আওতায় এনে তার সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কর্মজীবীরা একটানা পাঁচ দিনের বিরতি পাচ্ছেন।
তবে এর বিপরীতে ১৭ অক্টোবর শনিবারকে কর্মদিবস করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন কর্মদিবস হিসেবে পালন করে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ছুটি পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১৭ অক্টোবর শনিবারকে এবার সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ওই দিন অফিসে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অন্যদিকে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি এবং পরবর্তী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ অক্টোবর থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
তাই যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অক্টোবর মাসে ছুটি, ভ্রমণ বা পারিবারিক কর্মসূচি পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন সময়সূচিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এক নজরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার — অফিস খোলা।
২০-২২ অক্টোবর ২০২৬ — দুর্গাপূজার ছুটি।
২৩-২৪ অক্টোবর — সাপ্তাহিক ছুটি।
২০-২৪ অক্টোবর — টানা ৫ দিনের ছুটি।
তবে জরুরি সেবা, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন-ইন্টারনেটসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় চলমান থাকবে। ব্যাংক, আদালত এবং বেসরকারি শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সুতরাং, ১৭ অক্টোবর শনিবারকে ছুটির দিন মনে করে অফিসে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই—সরকারি প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনটি কর্মদিবস হিসেবে পালন করতে হবে।



