আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

নতুন পে-স্কেলে পে-ফিক্সেশন: কী কী তথ্য লাগবে, টিআইএন না থাকলে সমস্যা হবে কি?

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে কী কী তথ্য প্রয়োজন, কোন তথ্য আগে থেকেই সিস্টেমে থাকবে, পরিবারের সদস্যদের তথ্য নতুন করে দিতে হবে কি না, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য কীভাবে দিতে হবে এবং টিআইএন নম্বর না থাকলে কোনো সমস্যা হবে কি না—এসব বিষয়ে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।

প্রাপ্ত নির্দেশিকার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে যাচাই করা। অধিকাংশ তথ্যই iBAS++/EFT-ভিত্তিক বিদ্যমান ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসার কথা। কর্মচারীকে মূলত প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করতে হবে এবং যেসব তথ্য প্রয়োজন সেগুলো পূরণ করে ধাপে ধাপে সংরক্ষণ করতে হবে।

পে-ফিক্সেশনে কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে?

অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক তথ্য, চাকরির তথ্য, টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড এবং পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

১. সাধারণ তথ্য

প্রথম ধাপে সাধারণত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রয়োজন হবে। যেমন—

  • হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের তথ্য
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • মোবাইল নম্বর
  • নাম বাংলায়
  • নাম ইংরেজিতে
  • টিআইএন নম্বর
  • ই-মেইল ঠিকানা

তবে এসব তথ্যের বড় একটি অংশ আগে থেকেই iBAS++ বা EFT ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হতে পারে।

২. টিআইএন না থাকলে কি পে-ফিক্সেশনে সমস্যা হবে?

এটি নিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যাদের টিআইএন নম্বর নেই, তারা পে-ফিক্সেশন আটকে যাবে কি না—এমন প্রশ্ন করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টিআইএন নম্বর না থাকার কারণে পে-ফিক্সেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়, যদি সংশ্লিষ্ট পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় টিআইএন বাধ্যতামূলক না করা হয়ে থাকে। তাই শুধু টিআইএন নেই বলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে অনলাইন ফরমে কোনো নির্দিষ্ট ঘর বাধ্যতামূলক দেখালে বা সিস্টেমে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, টিআইএন না থাকাকে কেন্দ্র করে নিজের মতো করে ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না।

৩. পারিবারিক তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ

পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় পারিবারিক তথ্যের একটি অংশ থাকতে পারে। এর মধ্যে স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানদের তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামী/স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

  • NID নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • নাম বাংলায়
  • নাম ইংরেজিতে

সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

  • NID অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক
  • নাম বাংলায়
  • নাম ইংরেজিতে

প্রতিবন্ধী সন্তানের তথ্য এবং নমিনির তথ্যও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দিতে হতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের NID কি লাগবে?

হ্যাঁ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আগে থেকেই মাস্টার ডাটায় এসব তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে না।

অর্থাৎ, EFT করার সময় পারিবারিক তথ্য আগে দেওয়া থাকলে সেগুলো সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হতে পারে।

কোনো তথ্য ভুল থাকলে কর্মচারী নিজে ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারবেন না; সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হতে পারে।

৪. চাকরিতে প্রথম যোগদানের তথ্য

পে-ফিক্সেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চাকরির ইতিহাস। প্রথম যোগদানের তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে—

১. প্রথম যোগদানের তারিখ
২. ক্যাডার/সার্ভিসের নাম, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
৩. সার্ভিস পরিচিতি
৪. মন্ত্রণালয়/বিভাগ
৫. অধস্তন অফিস/অপারেশনাল গ্রুপ
৬. মাঠ পর্যায়ের অফিস/অপারেশনাল ইউনিট
৭. প্রথম যোগদানের সময়কার পদবি
৮. যোগদানকৃত পদের সাবস্ট্যান্টিভ গ্রেড

এসব তথ্যের বেশিরভাগই সিস্টেমে আগে থেকে সংরক্ষিত থাকার কথা। তাই কর্মচারীকে প্রথমেই নিজের চাকরির তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।

৫. বর্তমান অফিস ও পদের তথ্য

যারা চাকরিজীবনে বদলি, পদোন্নতি বা অন্য কোনো কারণে বর্তমান অফিসে কর্মরত, তাদের বর্তমান চাকরির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে থাকতে পারে—

  • বর্তমান পদে যোগদানের তারিখ
  • ক্যাডার/সার্ভিসের নাম
  • সার্ভিস পরিচিতি
  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ
  • অধস্তন অফিস/অপারেশনাল গ্রুপ
  • মাঠ পর্যায়ের অফিস/অপারেশনাল ইউনিট
  • বর্তমান পদবি
  • সাবস্ট্যান্টিভ গ্রেড

এখানেও একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—প্রথম যোগদানের তথ্য এবং বর্তমান চাকরির তথ্য এক নয়। তাই দুটির জায়গায় একই তথ্য বসিয়ে দেওয়ার আগে সতর্কভাবে যাচাই করতে হবে।

৬. টাইমস্কেল, উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য

পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো পূর্বে কোনো টাইমস্কেল, উচ্চতর স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া হয়েছিল কি না।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

  • উচ্চতর স্কেল/গ্রেডের ধরন
  • সংশ্লিষ্ট পদবি
  • কার্যকর তারিখ
  • জাতীয় বেতনস্কেল
  • গ্রেড/স্কেল
  • নির্ধারিত মূল বেতন

এখানে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী বেতন নির্ধারণেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই পদোন্নতির আগের টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সেটিও চাকরির রেকর্ড অনুযায়ী সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে কেউ যদি আগে টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন এবং পরে পদোন্নতি হয়ে থাকে, তাহলে কোন সুবিধাটি কখন কার্যকর হয়েছিল এবং তখন মূল বেতন কত ছিল—এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৭. পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য

নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুরোনো বেতন নির্ধারণের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব তৈরি হতে পারে।

এ পর্যায়ে প্রয়োজন হতে পারে—

  • পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেল
  • পদবি
  • স্কেল কার্যকরের তারিখ
  • বেতন নির্ধারণের তারিখ
  • স্কেল/গ্রেড
  • নির্ধারিত মূল বেতন

বিশেষ করে পূর্বে বেতন পুনর্নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো কারণে বেতন পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

৮. জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর তথ্য কীভাবে আসবে?

পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগের ধাপগুলোর তথ্য সঠিকভাবে পূরণ ও যাচাই করার পর জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতনের হিসাব সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শন করতে পারে।

অর্থাৎ, কর্মচারীকে সব হিসাব নিজে হাতে করার প্রয়োজন হবে না। পূর্ববর্তী বেতন, গ্রেড, টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড এবং চাকরির অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সিস্টেম নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব দেখাবে।

তবে স্বয়ংক্রিয় হিসাব দেখালেই সেটি যাচাই না করে সাবমিট করা উচিত নয়।

৯. সারসংক্ষেপে গিয়ে সব তথ্য যাচাই করতে হবে

সব ধাপ সম্পন্ন করার পর সাধারণত একটি Summary বা সারসংক্ষেপ দেখা যাবে। এখানেই পে-ফিক্সেশনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইটি করতে হবে।

কর্মচারীকে দেখতে হবে—

  • নাম ঠিক আছে কি না
  • NID ঠিক আছে কি না
  • জন্মতারিখ সঠিক কি না
  • পদবি ঠিক আছে কি না
  • প্রথম যোগদানের তারিখ সঠিক কি না
  • বর্তমান পদ ও অফিস ঠিক আছে কি না
  • গ্রেড সঠিক কি না
  • টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেডের তথ্য ঠিক আছে কি না
  • পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য সঠিক কি না
  • নতুন পে-স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন সঠিকভাবে এসেছে কি না

কোনো ভুল ধরা পড়লে সরাসরি চূড়ান্ত সাবমিট না করে সংশ্লিষ্ট ধাপে ফিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. কোন কোন কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ভালো?

অনলাইনে তথ্য পূরণের সময় সব তথ্য হাতে থাকলে কাজ অনেক সহজ হবে। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের কাগজপত্র/তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো—

ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য:

  • নিজের NID
  • জন্মনিবন্ধন/জন্মতারিখের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড
  • মোবাইল নম্বর
  • TIN থাকলে TIN সংক্রান্ত তথ্য
  • ই-মেইল

পারিবারিক তথ্যের জন্য:

  • স্বামী/স্ত্রীর NID
  • সন্তানদের NID অথবা জন্মনিবন্ধন
  • সন্তানদের জন্মতারিখ
  • প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রযোজ্য কাগজপত্র
  • নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য

চাকরির তথ্যের জন্য:

  • প্রথম নিয়োগপত্র/যোগদানপত্র
  • বর্তমান পদ ও যোগদানের তথ্য
  • পদোন্নতির আদেশ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
  • বদলি/পদায়নের তথ্য, প্রয়োজন হলে
  • টাইমস্কেল/উচ্চতর স্কেল/উচ্চতর গ্রেডের আদেশ
  • পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য
  • পুরোনো পে-ফিক্সেশন/বেতন নির্ধারণের রেকর্ড

এগুলো সব ক্ষেত্রে অনলাইনে আপলোড করতে হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কাগজপত্রের মূল প্রয়োজন হলো সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে নিজের অফিসিয়াল রেকর্ড মিলিয়ে দেখা এবং কোনো ভুল থাকলে সংশোধনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা।

১১. সব তথ্য কি নিজে হাতে টাইপ করতে হবে?

না। প্রাপ্ত নির্দেশিকার তথ্য অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশনের বড় একটি অংশের তথ্য আগে থেকেই iBAS++/EFT ডাটাবেজে থাকতে পারে।

ফলে—

আগে সংরক্ষিত তথ্য → সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শন → কর্মচারীর যাচাই → প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য পূরণ → Save & Continue → নতুন বেতনস্কেল যাচাই → Summary → Submit

এই ধারাতেই কাজ এগোবে।

১২. তথ্য ভুল থাকলে কী করবেন?

এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

যদি পারিবারিক তথ্য, চাকরির তথ্য, পদবি, গ্রেড, টাইমস্কেল, উচ্চতর গ্রেড কিংবা পূর্ববর্তী বেতনের কোনো তথ্য ভুল দেখা যায়, তাহলে নিজের মতো করে ভুল তথ্য বসিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে যেসব তথ্য সিস্টেম থেকে লকড বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসেছে, সেগুলো পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

পে-ফিক্সেশনের আগে যে চেকলিস্টটি হাতে রাখবেন

পে-ফিক্সেশন শুরু হওয়ার আগে একজন কর্মচারী চাইলে এই ছোট চেকলিস্টটি অনুসরণ করতে পারেন—

✓ নিজের NID ও জন্মতারিখ
✓ সচল মোবাইল নম্বর
✓ স্বামী/স্ত্রীর NID ও জন্মতারিখ
✓ সন্তানদের NID/জন্মনিবন্ধন ও জন্মতারিখ
✓ প্রথম চাকরিতে যোগদানের তারিখ
✓ প্রথম পদবি ও গ্রেড
✓ বর্তমান পদবি ও গ্রেড
✓ পদোন্নতির তথ্য
✓ টাইমস্কেল/উচ্চতর স্কেলের তথ্য
✓ উচ্চতর গ্রেডের আদেশ ও কার্যকর তারিখ
✓ পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের তথ্য
✓ সর্বশেষ নির্ধারিত মূল বেতন
✓ প্রয়োজনীয় নিয়োগ/পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের আদেশ

শেষ কথা

নতুন পে-স্কেলে পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক তথ্য দেওয়া এবং সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করা। শুধু নতুন বেতন কত হবে সেটি দেখাই যথেষ্ট নয়; নতুন বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে যে পুরোনো চাকরি ও বেতনের তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোও সঠিক কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে যাদের টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা একাধিকবার পদোন্নতি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো রেকর্ড হাতে রেখে তথ্য যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

আর TIN নম্বর নেই—এ কারণে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি সংশ্লিষ্ট পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় TIN বাধ্যতামূলক না করা হয়ে থাকে, তাহলে শুধু TIN না থাকার কারণে পে-ফিক্সেশন বন্ধ হওয়ার কথা নয়। তবে সিস্টেমে কোনো বাধ্যতামূলক ঘর বা ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, পে-ফিক্সেশনের সময় ভুল তথ্য দিয়ে সাবমিট করার চেয়ে আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চাকরির রেকর্ড মিলিয়ে নেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *