Govt. Pension Paper 2025 । পেনশন মঞ্জুরির জন্য আবশ্যিক ফরম ও কাগজপত্রের নির্দেশিকা জারি?
সরকারি কর্মচারীদের জন্য অবসর, পারিবারিক পেনশন এবং অবসরভাতা ভোগরত অবস্থায় মৃত্যু – এই তিনটি পরিস্থিতিতে প্রাপ্য আনুতোষিক ও অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য আবশ্যকীয় ফরম, সনদ ও কাগজপত্রের একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হিসাবরক্ষণ অফিস এই তালিকার বাইরে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র চাইতে পারবে না।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের কী কী নথি জমা দিতে হবে, তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে পেনশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবসর গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিজের অবসর গ্রহণের মাধ্যমে আনুতোষিক ও অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য চাকুরীজীবীকে যে মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে:
নন-গেজেটেড চাকুরেদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক/গেজেটেড চাকুরেদের ক্ষেত্রে চাকুরির বিবরণী (১ কপি)
এলপিআর-এ গমনের মঞ্জুরি পত্র (১ কপি)
প্রত্যাশিত শেষ বেতন পত্র/শেষ বেতন পত্র (১ কপি)
পেনশন ফরম (১ কপি)
সত্যায়িত ছবি (৪ কপি)
প্রাপ্তব্য পেনশনের বৈধ উত্তরাধিকারী ঘোষণা পত্র (৩ কপি)
নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ (৩ কপি)
না-দাবী প্রত্যয়ন পত্র (১ কপি)
পেনশন মঞ্জুরি আদেশ (১ কপি)
পারিবারিক পেনশনের বিশেষ নির্দেশনা
পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রেও আনুতোষিক ও অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রধানত দুটি পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে:
১. পেনশন মঞ্জুরির পূর্বে পেনশনারের মৃত্যু হলে:
নন-গেজেটেড চাকুরেদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক/গেজেটেড চাকুরেদের ক্ষেত্রে চাকুরির বিবরণী (১ কপি)
পারিবারিক পেনশনের আবেদন পত্র ফরম (১ কপি)
উত্তরাধিকার সনদ পত্র ও নন ম্যারিজ সার্টিফিকেট (১ কপি)
মৃত্যু সনদ পত্র (১ কপি), যা চিকিৎসক/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত হতে হবে।
এছাড়াও প্রয়োজন হবে- এলপিআর-এ গমনের মঞ্জুরি পত্র, প্রত্যাশিত শেষ বেতন পত্র, সত্যায়িত ছবি, নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ, এবং অভিভাবক মনোনয়ন ও ক্ষমতা অর্পণ সনদ।
২. অবসর ভাতা ভোগরত অবস্থায় পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে:
পারিবারিক পেনশনের আবেদন ফরম (১ কপি)
উত্তরাধিকার সনদ পত্র ও নন ম্যারিজ সার্টিফিকেট (১ কপি)
মৃত্যু সনদ পত্র (১ কপি)
পুরাতন পিপিও এবং ডি-হাফ (১ কপি)
এছাড়া প্রয়োজন হবে- সত্যায়িত ছবি, নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ, এবং অভিভাবক মনোনয়ন ও ক্ষমতা অর্পণ সনদ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নির্দেশিকায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “হিসাবরক্ষণ অফিস ইহার অতিরিক্ত কোন ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি চাহিতে পারিবে না।” এই নির্দেশনা কর্মীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পেনশন মঞ্জুরির ক্ষেত্রে এতগুলি কাগজপত্র চাওয়ার প্রধান কারণ হলো সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আবেদনকারীর প্রাপ্য অধিকারকে আইনিভাবে সুরক্ষিত করা।
মূলত তিনটি কারণে এই কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়:
১. ✅ প্রাপ্যতার বৈধতা ও প্রমাণ (Eligibility and Verification)
পেনশন একটি দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা, যা সরকারি চাকরি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই আবেদনকারীর প্রাপ্যতার প্রমাণ নিশ্চিত করা জরুরি।
চাকরির প্রমাণ: সার্ভিস বুক/চাকুরির বিবরণী (১ নম্বর) দিয়ে প্রমাণ করা হয় যে আবেদনকারী আসলে সরকারি চাকরি করেছেন এবং তার চাকরির মেয়াদ কত ছিল। এটি না থাকলে ভাতার হিসাব করা অসম্ভব।
বেতন ও ছুটির হিসাব: প্রত্যাশিত শেষ বেতন পত্র/শেষ বেতন পত্র (৩ নম্বর) এবং এলপিআর-এ গমনের মঞ্জুরি পত্র (২ নম্বর) নিশ্চিত করে যে পেনশন এবং আনুতোষিকের হিসাব সঠিক বেতনের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
আইনি ঘোষণা: না-দাবী প্রত্যয়ন পত্র (৮ নম্বর) নিশ্চিত করে যে সরকারের কাছে আর কোনো আর্থিক বকেয়া নেই।
২. 🔒 আর্থিক নিরাপত্তা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ (Financial and Succession Security)
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর যাতে তার পরিবার বা মনোনীত ব্যক্তিরা সহজেই এই সুবিধা পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করাই এই কাগজপত্রের অন্যতম লক্ষ্য।
উত্তরাধিকার সুরক্ষা: প্রাপ্তব্য পেনশনের বৈধ উত্তরাধিকারী ঘোষণা পত্র (৬ নম্বর) এবং নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ (৭ নম্বর) এই দুটি ডকুমেন্ট পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দেয় এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ করে। এইগুলো থাকলে ভবিষ্যতে অর্থ পাওয়ার সময় আইনি জটিলতা তৈরি হয় না।
পরিচয় যাচাই: সত্যায়িত ছবি (৪ কপি) এবং পেনশন ফরম (৪ ও ৫ নম্বর) আবেদনকারীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে।
৩. ⚖️ পদ্ধতিগত ও আইনগত বাধ্যবাধকতা (Procedural and Legal Requirement)
সরকারি বিধিমালা এবং হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির জন্য কিছু ডকুমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
হিসাবরক্ষণ অফিসের রেকর্ড এবং ভবিষ্যতের যেকোনো নিরীক্ষার (Audit) জন্য এই সমস্ত তথ্য নথিবদ্ধ থাকা আবশ্যক।
সংক্ষেপে, এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও, এর উদ্দেশ্য হলো সঠিক ব্যক্তির কাছে তার প্রাপ্য পরিমাণ অর্থ সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি বা জালিয়াতি এড়ানো।



